Tuesday, June 2, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরএক্সেলারেট এনার্জির হাস, সজীবের হাঁস এবং রাজনীতিবিদদের নীরবতা

এক্সেলারেট এনার্জির হাস, সজীবের হাঁস এবং রাজনীতিবিদদের নীরবতা

(১) গত ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে একটি নিউজ নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল। গণমাধ্যমের খবর- কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

(২) ১৪ আগস্ট আরেকটি খবর নিয়ে হইচই হয়। আর তা হলো, পূর্বাচলের নীলা মার্কেটে রাতে হাঁস খেতে যান উপদেষ্টা সজীব ভূইয়া।

উপরের দুই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবকেরা বেশ সরব ছিলেন, শোরগোল করেন। বিপরীত মতের রাজনীতিবিদদের ঠোঁটও উঠবস করেছিলো সমান তালে।

কিন্তু, যে বিষয়ে রাজনীতিবিদদের নীরবতা ভাঙছেই না, যা নিয়ে তারা একদম চুপ- তা হলো আমাদের কৌশলগত বন্দর ও সমুদ্রের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহভাজন কর্পোরেট প্রক্সি ‘এক্সেলারেট এনার্জি’র তোড়জোড়।

চলুন এ বিষয়ে কিছু আলাপ করি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। যদিও কোনো পক্ষই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। গণমাধ্যম সূত্র জানায়, আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা, চলমান সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে কথা হয়েছে। বর্তমানে পিটার হাস এক্সেলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। টেক্সাসভিত্তিক এই বহুজাতিক কোম্পানি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে পটুয়াখালীর পায়রায় আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অতএব, হাস ঢাকায় এসেছিলেন এক্সেলারেট এনার্জির প্রতিনিধি হিসেবে। এই ধরনের কোম্পানিগুলো মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (IPS) সাথে।

অনেকে বলবেন, এতে সমস্যা কী?

সমস্যা হলো এটি আধুনিক ‘soft imperialism’। আজকের যুক্তরাষ্ট্র অষ্টাদশ শতকের মতো বন্দুক-তরবারি নিয়ে দখলদারি করে না। বরং, তারা জ্বালানি চুক্তির মতো হাতিয়ার ব্যবহার করে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ক তৈরি করে, যেখানে একটি দেশ স্বেচ্ছায় মার্কিন স্বার্থের সাথে নিজেকে বেঁধে ফেলে।

এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও ভূ-রাজনৈতিক চেকপয়েন্টগুলো মার্কিন শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই, বাংলাদেশের মতো দেশে এলএনজি চুক্তি মানে কেবল ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা নয়, বরং কৌশলগত সমুদ্র ও বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হস্তান্তর।

দীর্ঘমেয়াদি ফাঁদে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি, বাংলাদেশকে এমন এক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যেখানে আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তার উপর। এভাবে বাংলাদেশকে পরিণত করা হবে এক স্থায়ী ক্লায়েন্ট রাষ্ট্রে।

আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান মার্কিন স্বার্থে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বঙ্গোপসাগর হয়ে উঠেছে তাদের বৈশ্বিক আধিপত্যের এক রণাঙ্গন। মালাক্কা প্রণালী, যা চীনের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট, এর কাছেই বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সরবরাহ লাইন নজরদারিতে রাখতে চায় এই অঞ্চলকে। এজন্যই জাপানকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে বিনিয়োগে ঠেলে দিয়েছে তারা। ভবিষ্যতে এটি কোয়াড (Quad) অংশীদারদের নৌযানের ঘাঁটিতে রূপ নেয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মনে রাখবেন, আজকের সাম্রাজ্যবাদ আর সৈন্য নিয়ে বন্দরে হাজির হয় না । বরং, হাজির হয় সচিবালয়ে, জ্বালানিসহ অন্যান্য চুক্তির খসড়া নিয়ে। বাইরে থেকে এটি অংশীদারিত্বের চেহারা নেয়, কিন্তু ভেতরে ঢুকে আমাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ও বুদ্ধিজীবীরা এই প্রসঙ্গে প্রায় নীরব। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে এই নীরবতা আরও প্রকট হয়েছে। তাদের অনেকেই বিষয়টিকে কেবল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন। অথচ, বাস্তবে এই চুক্তিগুলো বাংলাদেশকে স্বাধীন অংশীদার নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ক্লায়েন্টে পরিণত করার আশঙ্কা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য