Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকগণতন্ত্র হলো দাসত্ব, এটি আমাদের জন্য নয় : ইবরাহীম ট্রাওরে

গণতন্ত্র হলো দাসত্ব, এটি আমাদের জন্য নয় : ইবরাহীম ট্রাওরে

বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইবরাহীম ট্রাওরে বলেছেন, জনগণকে গণতন্ত্রের বিষয়টি ভুলে যেতে হবে। পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে সরকার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করার তিন মাস পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে ইবরাহীম ট্রাওরে লিবিয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, সেখানে বাইরের শক্তিগুলো গণতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে।

ইবরাহীম ট্রাওরে বলেন, “মানুষকে গণতন্ত্রের বিষয়টি ভুলে যেতে হবে। আমাদের সত্য কথা বলতে হবে, গণতন্ত্র আমাদের জন্য নয়।”

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরএফআইয়ের বরাতে ট্রাওরে আরও বলেন, “গণতন্ত্র হত্যা করে।”

তিনি বলেন, “লিবিয়ার দিকে তাকান, এটি তো আমাদের পাশের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পৃথিবীর যেখানেই তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, সেখানেই রক্তপাত ঘটেছে। গণতন্ত্র হলো দাসত্ব।”

ইবরাহীম ট্রাওরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসেন। এর আট মাস আগে তিনি যে সামরিক অভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন, তাতে প্রেসিডেন্ট রশ মার্ক কাবোরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাত হয়।

সামরিক সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা আল-কায়েদা ও আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। এসব গোষ্ঠী দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এখন বড় বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে এরপরও দেশটিতে বারবার হামলা হয়েছে এবং লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

পশ্চিমবিরোধী বক্তব্যের কারণে আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়া ট্রাওরে শুরুতে ২০২৪ সালে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, বুরকিনা ফাসোর সব এলাকা ভোটদানের জন্য নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হবে না।

জানুয়ারিতে ট্রাওরে সরকার দেশটির ১০০টির বেশি রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে এবং তাদের সম্পদ জব্দ করে।

ট্রাওরে ক্ষমতা নেওয়ার পরই এর আগে পার্লামেন্ট এবং সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্বাধীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনও বিলুপ্ত করা হয়। ট্রাওরে সরকার দাবি করে, সংস্থাটি পরিচালনায় ব্যয় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরাও সরকারের বিরুদ্ধে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর মধ্যে গণমাধ্যম ও বিচারব্যবস্থাও রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক সরকারের সমালোচক সাংবাদিক, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সরকারি কৌঁসুলিদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেশী নাইজার ও মালিতেও রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেসব দেশেও সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং তারাও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা মোকাবিলা করছে।

নির্বাচন আয়োজনের চাপের মুখে গত জানুয়ারিতে এ তিন দেশ পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস গঠন করে।

এ ছাড়া, তারা সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সকে সরিয়ে দেওয়ার পর রাশিয়ার আধাসামরিক যোদ্ধাদের সহায়তা নিতে শুরু করেছে। সাহেল অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য ফ্রান্স সেখানে প্রায় ৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল।

বুরকিনা ফাসোতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাওরে ক্ষমতা নেওয়ার পর তিন বছরে নিহতের সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে গত মে মাস নাগাদ ১৭ হাজার ৭৭৫-এ পৌঁছেছে। এর আগের তিন বছরে মোট নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৩০। আমেরিকাভিত্তিক আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য