Sunday, August 2, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকগাযায় চলমান গণহত্যার মধ্যে ইসরাইলে ২৫৯৬টি অস্ত্রের চালান পাঠাল ভারত

গাযায় চলমান গণহত্যার মধ্যে ইসরাইলে ২৫৯৬টি অস্ত্রের চালান পাঠাল ভারত

গাযায় চলমান গণহত্যার মধ্যে ইসরায়েলে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ভারত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক নতুন তদন্তে বলা হয়েছে, এসব সামরিক সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং গাযায় চলমান গণহত্যায় ব্যবহৃত হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।

‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব উইপন্স অ্যান্ড অ্যামুনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক তদন্তে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাযায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির কাছে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি বিশ্লেষণ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক উপাদান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের চালান পাঠানো হয়েছে।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, এসব চালানের মধ্যে ছিল ছোট অস্ত্র ও সামরিক গ্রেডের অস্ত্রের অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি উপাদান, বিস্ফোরক অস্ত্রের ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি উপাদান—যার মধ্যে ড্রোনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড এবং কামানের গোলার খোলসও রয়েছে—এবং সামরিক যানবাহনের ২৯৮টি উপাদান।

সংস্থাটি বলেছে, এসব সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলের বড় বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

তদন্তে ভারতের কয়েকটি কোম্পানির নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পিএলআর সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড, ইন্দো এমআইএম প্রাইভেট লিমিটেড, কল্যাণী সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং আলফা এলসেক ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড। অ্যামনেস্টির মতে, এসব কোম্পানির কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি ব্যবসায়িক বা যৌথ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে।

ইসরায়েলের যেসব কোম্পানিকে এসব সরঞ্জামের গ্রহীতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এলবিট সিস্টেমস, রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। অ্যামনেস্টি বলেছে, এসব প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অবদান রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অ্যামনেস্টির তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ভারতের রপ্তানি করা সরঞ্জামের মধ্যে ছিল গাযায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যবহৃত মেশিনগানের উপাদান, এলবিট সিস্টেমসের কাছে সরবরাহ করা ১৫৫ মিলিমিটার উচ্চ-বিস্ফোরক কামানের গোলা, স্কাইস্ট্রাইকার ঘুরে বেড়ানো গোলাবারুদের বিস্ফোরক ওয়ারহেড এবং সাঁজোয়া সামরিক যানবাহনের বিভিন্ন উপাদান।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরক ওয়ারহেডের কিছু উপাদান গাযার খান ইউনিস থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষে শনাক্ত হওয়া উপাদানের সঙ্গে মিল রয়েছে।

তবে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তাদের এই হিসাব একটি রক্ষণশীল মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি। যেসব চালান বেসামরিক ব্যবহারের জন্যও হতে পারে, সেগুলো তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা অস্ত্র, উপাদান ও গোলাবারুদও হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেসামরিক জনগণকে নির্বিচার হামলা থেকে সুরক্ষায়ও ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, গাযায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক নজরদারি চলার মধ্যেও ভারতের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, ভারত শুধু বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়নি, বরং দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।

ভারতের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে, রপ্তানি করা সামরিক সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক মানবিক বা মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণের জন্য মানবাধিকারভিত্তিক যথাযথ যাচাই বাধ্যতামূলক করার স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। ভারতের অস্ত্র রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতিও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি আরও উল্লেখ করেছে, গাযায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা জারি করেছে, সেখানকার পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির মতে, ওই মামলার কার্যক্রমে গণহত্যার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হওয়ার পরও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কিছুই জানত না—এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অ্যামনেস্টি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে, এসব অস্ত্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে ব্যবহৃত বা এমন লঙ্ঘনে সহায়তা করতে পারে—এমন স্পষ্ট ঝুঁকি থাকলে অস্ত্র সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভারত এখনো অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর বা এতে যোগ দেয়নি। অ্যামনেস্টি ভারতকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অস্ত্র রপ্তানি নীতিমালা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

তদন্তে অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য দায় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির সতর্কতা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি সরঞ্জাম সরবরাহকারী ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক উপাদান বা সরঞ্জাম সরবরাহকারী ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ উঠতে পারে, যদি তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এসব লঙ্ঘনে অবদান রাখে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম—এর মধ্যে যন্ত্রাংশ ও উপাদানও অন্তর্ভুক্ত—স্থানান্তর অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি ইসরায়েলের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর আওতায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি, উপাদান, কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক বা অন্যান্য ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে ভারত সরকার এবং তদন্তে চিহ্নিত নয়টি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল জানায় এবং বক্তব্য জানতে চায়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 − 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য