অনেকেই অতি তুচ্ছ ব্যাপারে অল্পতেই ভেঙে পড়ে। মুনাফিকদের বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন, তারা তাদের সংকল্পে কত দুর্বল! পবিত্র কোরআন তাদের ব্যাপারে বলছে : ‘আমাদের আশঙ্কা হয় যে আমাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে। ’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫২)
এমন মানসিকতার লোকদের অন্তর কত হতভাগা!
যখন কোনো পাত্র পানিশূন্য হয় তখন তা বায়ূপূর্ণ হয়। তাই যে বিষয় আপনাকে উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে একটু ভেবে দেখুন।
এটা কি আপনার শক্তি নষ্ট করার ও আপনাকে কষ্টে ফেলার যোগ্যতা রাখে? এটা এক অপরিহার্য প্রশ্ন। কেননা, এটা আপনার উদ্বিগ্নতার কারণ। আপনার শরীর রক্ত-মাংসে গড়া। এ বিষয়টির জন্য শক্তি ও সময়ের অপচয় করছেন। যদি এটা আপনার শক্তি ও সময় নষ্ট করার যোগ্যতা না রাখে, তাহলে এটা নিয়ে ভেবে ভেবে আপনি আপনার সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সময়, জীবন, যৌবন ও ধন-সম্পদ ব্যয় করে ফেলবেন কেন?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আপনাকে প্রতিটি জিনিসের যথাযথ মূল্যানুপাতে বিচার করতে হবে। এর চেয়ে আরো বেশি সত্য হলো মহান আল্লাহর বাণী—‘অবশ্যই আল্লাহই প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। ’ (সুরা আত-তালাক : আয়াত : ৩)
অতএব, প্রতিটি অবস্থাকে তার আকার, ওজন, পরিমাণ ও গুরুত্ব অনুসারে বিবেচনা করুন এবং বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকুন।
জীবনের আনন্দ খুবই ক্ষণস্থায়ী এবং প্রায়ই তার পরে দুঃখ নেমে আসে। জীবনের অর্থই হলো দায়িত্ব, সতত পরিবর্তনশীল যাত্রা ও দুঃখ-কষ্টের অবিরাম আক্রমণ।
আপনি এমন কোনো পিতা, স্ত্রী বা বন্ধু পাবেন না, যিনি সমস্যামুক্ত। আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন যে এ পৃথিবীর দুটি করে বিপরীত জিনিস দিয়ে ভরপুর থাকুক। যেমন—ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ।
এক কল্পিত ইহজীবনের আশায় সর্বদা বিভোর না থেকে আপনার যা আছে তা নিয়েই জীবন-যাপন করুন। জীবনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন এবং তদানুপাতে সব পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিন। সব পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অর্থ সব মতাদর্শ মেনে নেওয়া ও তদানুসারে কাজ করা নয়; বরং, নিজে শান্তির ধর্ম মেনে চলা ও অন্যকে তদানুসারে চলতে বলা, যদি তারা না মানে তাহলে অহেতুক মর্মযাতনাবোধ না করা। এ দুনিয়াতে আপনি নিষ্কলঙ্ক সঙ্গী ও নিখুঁত পরিস্থিতি বলে কোনো জিনিস পাবেন না। কেননা নিষ্কলঙ্কতা ও নিখুঁত অবস্থা এমন দুটি গুণের নাম, যা এ জীবনে পরদেশি।
নিজেকে সংশোধন করুন। সহজকে গ্রহণ করুন। কঠিনকে বর্জন করুন। জীবন সুন্দর, সহজ ও স্বাভাবিক।
