সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সোমবার রাতে শহরজুড়ে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ ও খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সীমান্তের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এর আগে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। রোববারের পরবর্তী হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটি আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
হামলাগুলো ঠেকাতে সউদী আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সউদী আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, এসব হামলা সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের হামলার সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি। অন্যদিকে, হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলায় অংশ নিলে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সউদী আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর থেকে দূরে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। সরকারপক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে সউদী নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলা ও হতাহতের বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর দাবির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
