ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নির্মাণাধীন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে আয়না ঘর আশঙ্কার অবসান ঘটেছে। গতকাল রোববার নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট থেকে পানি সেচ করে ফায়ার সার্ভিস। তবে সেখানে সন্দেহজনক কোনো কিছুরই দেখা মেলেনি। যদিও এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ভবনের বেজমেন্টে নোংরা আবর্জনা ও ভাঙা ইটের টুকরা ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি
গতকাল বেলা ১১টার দিকে ভবনটির বেজমেন্টের পানি তোলার কার্যক্রম শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে সেচযন্ত্রের সাহায্যে পানি তুলে ধানমন্ডি লেকে ফেলা হয়। দুপুর ২টার আগমুহূর্তে এই সেচ কাজ শেষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ভবনের নিচে থেকে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে তোলা হয়েছে পানি। আন্ডারগ্রাউন্ডে নোংরা আবর্জনা ও ভাঙা ইটের টুকরা ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি।
গত বুধবার সন্ধ্যার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ভবনের সামনের দিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশে রাখা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিও। এক পর্যায়ে সন্ধান মেলে পাশের একটি নির্মানাধীন ভবনের নিচে দীর্ঘ আরও কয়েকতলা ফ্লোরের। অনেকে এই আন্ডারগ্রাউন্ডে ‘আয়নাঘর’ আছে বলে সন্দেহ পোষণ করেন। তাদের ধারণা র্যাব-ডিবির মতো ওই ভবনের আ-ারারগ্রাউ-ে আয়নাঘর করা হয়েছে। যেখানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম করে রাখার চিন্তা করছিলো পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার। তবে আন্ডারগ্রাই-ের ২ তলা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করা গেলেও তিন তলায় পানি থাকায় ধারনা করা হচ্ছিল, আ-ারগ্রাউন্ডে আরো অনেকগুলো ফ্লোর রয়েছে। তবে সেই রহস্য উন্মোচনেই ভবনের নিচে জমে থাকা পানি তুলে ফেলার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।
টানা ৩৬ দিন কোটা সংস্কারের তীব্র গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। ওইদিন গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে হাজার হাজার মানুষ।
