Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরপর্তুগালে মুসলিম শাসনের প্রভাব

পর্তুগালে মুসলিম শাসনের প্রভাব

ইউরোপের সবুজ ভূমি পর্তুগালকে মুসলিমরা শাসন করেছিল প্রায় পাঁচ শ বছর। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই পর্তুগাল মুসলিম শাসনাধীন হয়। মুসলিম সেনাপতি মুসা বিন নুসাইর পর্তুগালের মাটিতে প্রথম বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করেন এবং তার ছেলে আবদুল আজিজ বিজয়কে পূর্ণতা প্রদান করেন। সে সময় বর্তমান পর্তুগালের প্রায় পুরোটা মুসলিম শাসনাধীন হয়।

১৪২৯ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগাল মুসলিম শাসনের অবসান হয়। মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে মুসলিম শাসনের অবসান হয় এবং দেশটির মুসলিমরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তবে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের পর থেকে পর্তুগালের মুসলিম জনসংখ্যা খুব ধীরগতিতে হলেও বাড়ছে। ১৯৯১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পর্তুগালে মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম বসবাস করত। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ০.৬৫ শতাংশ।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অবস্থিত কেন্দ্রীয়সহ দেশের মোট মসজিদের সংখ্যা ২১টি। শিশুদের ইসলামী শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি মাদরাসা। দারুল উলুম ইসলামিয়া পর্তুগালের বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে মুসলিম শিশুদের ইসলামী বিধি-বিধান, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আরবি ভাষা শেখানো হয়। এ ছাড়া আল-কলম, আন নুর ও আল ইসলাম নামে তিনটি মাসিক ও দ্বিমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে পর্তুগালের মুসলিমরা।

মুসলিমমুক্ত পর্তুগালে মুসলিমরা সংঘবদ্ধ হতে শুরু করে শতকের মধ্যভাগ থেকে। তারা ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে আসতে শুরু করে এবং ১৯৬৮ সালে এবং স্থানীয় মুসলিম ও আরব শায়খদের অর্থায়নে ১৯৭৭ সালে লিসবনে কেন্দ ীয় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে তার নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। মুসলিম শাসন অবসানের ৫৫৬ বছর পর নির্মিত হয় প্রথম মসজিদ। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম মাদরাসা দারুল উলুম ইসলামিয়া। বর্তমানে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্তুগালে বসবাসরত বেশির ভাগ মুসলিম মরক্কোর বংশোদ্ভূত। তাই পর্তুগালের মুসলিম সাংস্কৃতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে তাদের প্রাধান্য দেখা যায়।

পাঁচ শ বছরের দীর্ঘ ইসলামী শাসন পর্তুগিজ সমাজ ও ভাষায় গভীর ছাপ রেখে গেছে। ২০১৮ সালে লিসবন ইসলামিক কমিউনিটি প্রতিষ্ঠার অর্ধ-শতক উদযাপন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডিসোসা বলেন, ‘পর্তুগালের আত্মার সঙ্গে ইসলাম মিশে আছে। আমরা হয়তো এখনো সচেতনভাবে জানি না আরবরা পর্তুগিজ সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর ছাপ ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রেখে গেছে। যা পর্তুগিজ সমাজে মিশে ছিল এবং এখনো আছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ’ তার এই বক্তব্যের একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। তা হলো, পর্তুগালে মুসলিম শাসন ও আধুনিক পর্তুগিজ সমাজে তার অবদান ও প্রভাব।

পর্তুগিজ লেখক ও কবি আদালবার্তো আলভেজ এ সম্পর্কে বলেন, ‘আল আন্দালুজ ছিল মানবতার স্বর্ণযুগ। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি সম্প্রদায় হৃদ্যতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করত। এ সময় বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ব্যাপক অগ্রগতি হয়। পাঁচ শ বছরের ইসলামী শাসনের প্রভাব অপরিমেয়। ’ ইসলামী শাসনের বড় অবদান ছিল বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সহিষ্ণুতা ও সংহতি গড়ে তোলা। ইসলামী শাসনের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা করের বিনিময়ে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা তাদের জীবন, সম্পদ ও সংস্কৃতির পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করত।

কবি আলভেজ গবেষণা হলো, পর্তুগালের বহু অঞ্চলে এখনো ইসলামী শাসনের প্রভাব টিকে আছে। পর্তুগালের ভাষা, কবিতা, পোশাক, সংগীত, স্থাপত্য; এমনকি শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চায় ইসলামী শাসনের প্রভাব খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, আরবরা সমুদ্র বিজ্ঞানের উন্নয়ন না করলে পর্তুগিজরা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারত না। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয়দের অগ্রযাত্রার পটভূমি আরবরাই তৈরি করেছে। ইবেরিয়ান উপদ্বীপে (স্পেন ও পর্তুগালে) আরবদের অবদানের কারণে তা সম্ভব হয়েছে। ’

তথ্যঋণ : আল-বাওয়াবা, সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক ও উইকিপিডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 11 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য