Wednesday, April 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াপ্রতিটি নতুন দিন আল্লাহর উপহার

প্রতিটি নতুন দিন আল্লাহর উপহার

মুমিনের জন্য জীবনের প্রতিটি নতুন দিনই মহান আল্লাহর নিয়ামত। প্রতিটি দিন তাকে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে অগ্রগামী হতে সাহায্য করে। নেক আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহযোগিতা করে। এর বিপরীতে অবিশ্বাসীর জন্যও প্রতিটি দিন নিয়ামত, যা তাকে পাপের পথ থেকে তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।

প্রতিটি মুহূর্ত তাকে ডেকে বলে—এখনো সময় আছে, সাচ্চা তাওবা করে কল্যাণের পথে ফিরে এসো।
কিন্তু যারা দুর্ভাগা তারা এই নিয়ামতের যথাযথ সুফল ভোগ করতে পারে না। বরং যারা আল্লাহর নাফরমানিতে মত্ত হয়ে থাকে, আল্লাহর পথে ফিরে আসে না, তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি দিন তাদের বদ আমলের পাল্লা ভারী করে। যদি সে মৃত্যুর আগে আগে তাওবা না করে, তাহলে তাদের প্রতিটি দিন অভিশাপ হয়ে থাকে।

ওই দিনগুলো তাদের মহান আল্লাহর দরবারে নিকৃষ্ট করে তোলে। তাদের জন্য প্রতিটি সকাল জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একেকটি অগ্নিদরজা মাত্র। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু বকর (রা.) বলেন, কোনো এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! উত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল সুন্দর হয়েছে। সে আবার প্রশ্ন করল, মানুষের মধ্যে কে নিকৃষ্ট? তিনি বলেন, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল খারাপ হয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩০)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন লোকের বয়স তার কল্যাণই বাড়িয়ে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭১২)

প্রতিটি সকাল মুমিনের জন্য অগণিত কল্যাণের দ্বার উন্মোচন করে। যদি তারা তার মূল্যায়ন করতে পারে, তাহলে তারা তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে, রিজিকে বরকত দান করে। এ জন্যই নবীজি (সা.) তাঁর কন্যা ফাতেমা (রা.)-কে বলেছেন, ‘মামণি! ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ করো! অলসদের দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের মধ্যে রিজিক বণ্টন করে থাকেন।’ (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব : ২৬১৬)
তাই মুমিনের উচিত, প্রতিটি নতুন সকালকে মহান আল্লাহর ইবাদত ও শোকরের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং সারা দিন নিজেকে আল্লাহর নাফরমানি থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘আদমসন্তান যখন সকালে উপনীত হয়, তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিভকে অত্যন্ত বিনীতভাবে নিবেদন করে, ‘তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ আমাদের ব্যাপারসমূহ তোমার সঙ্গেই সম্পৃক্ত। যদি তুমি সোজা-সরল থাকো, তাহলে আমরাও সোজা-সরল থাকব। আর যদি তুমি বক্রতা অবলম্বন করো, তাহলে আমরাও বেঁকে বসব।’ (রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস : ১৫২৯)

এই কাজে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়। কারণ আমরা কেউই জানি না, মহান আল্লাহ আমাদের আরেকটি নতুন সকাল পর্যন্ত হায়াত রেখেছেন কি না! তাই প্রতিটি নতুন সকালেই আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা উচিত। জীবনকে গোছানোর জন্য আল্লাহর দেওয়া নতুন দিন ও নতুন সুযোগটি কাজে লাগানো উচিত।

ইবনে উমার (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার শরীর স্পর্শ করে বললেন, ‘পৃথিবীতে এমনভাবে দিন যাপন করো, যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী মুসাফির। তুমি নিজেকে কবরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো।’ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘ইবনে উমার (রা.) আমাকে বলেন, তুমি সকালে উপনীত হয়ে বিকেলের জন্য নিজেকে অস্তিত্ববান মনে কোরো না এবং বিকেলে উপনীত হয়ে সকালের জন্য নিজেকে অস্তিত্ববান মনে কোরো না। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে তোমার সুস্থতার এবং মৃত্যুর পূর্বে তোমার জীবনের সুযোগকে কাজে লাগাও। কেননা হে আল্লাহর বান্দা! তুমি তো জানো না, আগামীকাল তুমি কী নামে অভিহিত হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য