৫১৫৮-[৪] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা আর কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ। (মুসলিম)
ব্যাখ্যা : (الدُّنْيَا سِجْنُ المؤمنِ وجنَّةُ الكافرِ) ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসে দুনিয়াতে একজন মুমিন হারাম এবং ঘৃণিত সব ধরনের প্রবৃত্তির ভোগে আবদ্ধ থাকে, যা নিষিদ্ধ। মন যা চায় তাই সে করতে পারে না। বরং কষ্টসাধ্য হলেও সব ধরনের ‘ইবাদত-বন্দেগী পালনে বদ্ধপরিকর, সে যখন মারা যায় তখন এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পায় এবং তার রবের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত প্রতিদান পেয়ে যায়। পক্ষান্তরে একজন কাফির প্রবৃত্তির ভোগ বিলাসে লাগামহীন পদচারণার কারণে দুনিয়ার বুকে অনেক আরাম ও শৌখিনভাবে বসবাস করে। কিন্তু সে যখন মারা যায় তখন চিরস্থায়ী শাস্তি আর অভিসম্পাত তাকে আচ্ছাদিত করে।
‘আল্লামাহ্ মুনাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : সে যেহেতু অবৈধ প্রবৃত্তি ভোগে বাধাপ্রাপ্ত, তাই সে কারাবন্দীর মতো, আর কাফির যেহেতু বাধাহীন, তাই সে মুক্ত ও স্বাধীন।
ফুযায়ল ইবনু ইয়াস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করল, সে মূলত জেলখানায় আবদ্ধ। ইবনু উমার (রা.) বলেন, মুমিনের প্রাণ যখন তার দেহ থেকে বের হয় তখন তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে জেলখানায় আবদ্ধ ছিল, অতঃপর তাকে জেলখানা হতে ছেড়ে দেয়ার পর সে তথা হতে বের হয়ে জমিনে বিচরণ করে এবং প্রশস্ততা বোধ করে তেমনি মু’মিন ব্যক্তি দুনিয়া ছেড়ে পরপারে গিয়ে প্রশস্ততা বোধ করে।
(তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৩২৪; শারূহুন্ নবাবী ১৮শ খণ্ড, হা, ২৯৫৬/১; মিক্বাতুল মাফাতীহ)
