Thursday, April 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস এবং ব্যাখ্যা জেনে নেই!!

প্রতিদিন একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস এবং ব্যাখ্যা জেনে নেই!!

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعَيْنُ حَقٌّ فَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابَقَ الْقَدَرِ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فاغسِلوا» . رَوَاهُ مُسلم

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নযর লাগা একটি বাস্তব সত্য। যদি কোন জিনিস তাকদীর পরিবর্তন করতে সক্ষম হত, তবে বদনযরই তা করতে পারত। আর যদি তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া পানি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ধুয়ে দেবে। (মুসলিম)[1]

[1] সহীহ : মুসলিম (২১৮৮)-৪২, তিরমিযী ২০৬২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৫১, ১২৫২; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১০৭, আস্ সুনানুস্ সুগরা ৪২৯৩, বায়হাক্বী’র কুবরা ২০১০২, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৬২০, শু‘আবুল ঈমান ১১২২৫, ইবনু মাজাহ ৩৫১০, আল জামি‘উস্ সগীর ৭৫৯৬, সহীহুল জামি‘ ৪১৪৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/১৭ পৃঃ।

ব্যাখ্যাঃ (الْعَيْنُ حَقٌّ) অর্থাৎ চোখের প্রভাব সত্য। এখানে চোখের প্রভাব বলতে বদনযর উদ্দেশ্য। বদনযরের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের অনেক ক্ষতি হয়। বদনযর থেকে বাঁচার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই নাতি হাসান-হুসায়ন (রাঃ)-কে ছোট বেলায় ঝাড়ফুঁক করতেন। [সম্পাদক]

(سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ) অর্থাৎ- ‘‘অবশ্যই বদনযর তাকদীরকে পরিবর্তন করত’’। তবে তাকদীর পরিবর্তন হবে না। কারণ মহান আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বেই তাকদীরকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চোখের প্রভাব বুঝানোর জন্য হাদীসটিতে মুবালাগাহ্ বা আধিক্যতা বুঝানো হয়েছে। বদনযর তাকদীরের কোন পরিবর্তন করতে পারবে না। কেননা আল্লাহর জ্ঞানে তাকদীর পূর্ব থেকেই নির্ধারিত, সুতরাং তা পরিবর্তনশীল নয়। মোট কথা যদি কোন জিনিসের ক্ষমতা থাকতো তাকদীরকে পরিবর্তন করতে, তবে অবশ্যই বদনযরের সে ক্ষমতা ছিল। যেহেতু তাকদীর পরিবর্তন হবে না তাহলে কিভাবে বদনযরে তাকে পরিবর্তন করবে?

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ হাদীস থেকে তাকদীরের অস্বিত্বের প্রমাণ হয়। এটা কুরআন সুন্নাহর দলীল এবং আহলুস্ সুন্নাহর ইজমা দ্বারা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এর অর্থ হলো সকল জিনিস মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদীর দ্বারা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারণের বাইরে কোন কাজ সংঘটিত হয় না। সুতরাং চোখ বা অন্য কোন কিছুর কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না। অতএব চোখ বা অন্য কোন কিছুর কোন ধরনের ক্ষতি বা ভালো-মন্দ তাকদীরের নির্ধারিত বিষয়ের উপর সংঘটিত হয়ে থাকে। অতএব বদনযর থেকে আরোগ্য লাভ করা এবং বদনযরে ক্ষতি হওয়াটাও তাকদীরের নির্ধারিত বিষয় অনুযায়ী হয়ে থাকে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৬২)

(وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوْا) ‘‘আর যদি তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার পানি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ধুয়ে দিবে’’। ‘আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, যে ব্যক্তির বদনযর লাগত, তার হাত, পা এবং দেহের নিচের অঙ্গ ধুয়ে যার উপরে নযর লাগিয়েছে তাকে সেই পানি দিয়ে গোসল করাতো, ফলে সে বদনযর থেকে আরোগ্য লাভ করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজটির অনুমোদন দিয়েছেন এবং যার নযর লেগেছে, তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সে যেন নিজের অঙ্গ ধুয়ে পানি দেয়াতে সে যেন অস্বীকৃতি না জানায়। এ কাজ করাতে যে বদনযরে আক্রান্ত হয়েছে তার সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। আর বাহ্যিকভাবে এ কাজ (অঙ্গ ধূয়ে পানি দেয়া) ওয়াজিব। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৬২; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য