Tuesday, June 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস এবং ব্যাখ্যা জেনে নেই!!

প্রতিদিন একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস এবং ব্যাখ্যা জেনে নেই!!

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يخرج يَوْم الْفطر وَالْأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى فَأَوَّلُ شَيْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلَاةُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ فَيَعِظُهُمْ وَيُوصِيهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ وَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ أَوْ يَأْمر بِشَيْء أَمر بِهِ ثمَّ ينْصَرف

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঘর থেকে) বের হয়ে ঈদগাহের ময়দানে গমন করতেন। প্রথমে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করাতেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের দিকে মুখ ফিরে দাঁড়াতেন। মানুষরা সে সময় নিজ নিজ সারিতে বসে থাকতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে ভাষণ শুনাতেন, উপদেশ দিতেন। আর যদি কোন দিকে কোন সেনাবাহিনী পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তাদেরকে নির্বাচন করতেন। অথবা কাউকে কোন নির্দেশ দেয়ার থাকলে তা দিতেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [ঈদগাহ] হতে ফিরে প্রত্যাবর্তন করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

[1] সহীহ : বুখারী ৯৫৬, মুসলিম ৮৮৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬১৩৪, ইরওয়া ৬৩০।

ব্যাখ্যা: (يَخْرُجُ يَوْم الْفِطْرِ وَالْأَضْحى إِلَى الْمُصَلّى) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহের দিকে বের হতেন। আর নির্ধারিত একটি পরিচিত জায়গা মদীনার দরজার বাইরে। মদীনার মাসজিদ ও স্থানটির মাঝে দূরত্ব হল এক হাজার গজ। আর এটা মুসতাহাব হিসেবে প্রমাণ করে ঈদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) প্রশস্ত ময়দানে আদায়ের জন্য বের হওয়া যদিও সালাতের জন্য মাসজিদ উত্তম এবং মসজিদে প্রশস্ত জায়গা থাকে। এটা আবূ হানীফা। আহমাদ বিন হাম্বাল ও মালিকীর মাযহাব। আর শাফি‘ঈর মতে মসজিদে পড়া উত্তম, কেননা মাসজিদ হচ্ছে উত্তম স্থান ও পবিত্র। ভাষ্যকার বলেন, আমার নিকট অধিক বরণীয় মত আবূ হানীফাহ্ যে মতে গেছেন যে, ময়দানের উদ্দেশে বের হওয়া উত্তম যদিও মসজিদের স্থান প্রশস্ত হোক না কেন। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত মাসজিদকে ছেড়ে ময়দানে যেতেন অনুরূপ খোলাফায়ে রাশিদীনরা। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এমন কোন দলীল বর্ণিত হয়নি যে, তিনি ওযর ছাড়া মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করেছেন। আর মুসলিমদের ইজমা এ বিষয়ে। প্রত্যেক যুগের মুসলিমরা মাসজিদ প্রশস্ত থাকা সত্ত্বেও ঈদগাহে সালাত আদায় করতেন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের ফাযীলাত থাকা সত্ত্বেও ঈদগাহে সালাত আদায় করতেন।

(فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ) তিনি জনতার সম্মুখে দাঁড়াতেন, সুতরাং সুন্নাত হল ঈদগাহে দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ প্রদান করা।

(فَيَعِظُهُمْ) তাদেরকে উপদেশ দিতেন তথা তিনি পরকালের প্রতিদানের সুসংবাদ দিতেন আবার ভয়াবহ শাস্তির ভয় দেখাতেন যাতে তারা এ দিনে শুধুমাত্র আনন্দে আত্মহারা হয়ে না থাকে, অতঃপর আল্লাহর আনুগত্য হতে উদাসীন থাকে এবং পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

(وَيُوْصِيْهِمْ) তিনি তাক্বওয়ার উপদেশ দিতেন, যেমন আল্লাহর বাণীঃ

وَصَّيْنَا الَّذِيْنَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللّهَ

‘‘বস্ত্ততঃ আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অনুসারীদেরকে এবং তোমাদেরকে যে, তোমরা সবাই ভয় করতে থাক আল্লাহকে।’’ (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৩১)

কারও মতেঃ অন্যের অধিকার আদায়ে উপদেশ করতেন। আবার কেউ বলেনঃ অনুগত্যের প্রতি অবিচল। সকল প্রকার পাপ কাজ হতে বিরত থাকা আল্লাহর অধিকার ও বান্দার অধিকারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকার উপদেশ দিতেন। (يَأْمُرُهُمْ) সময়ের প্রেক্ষাপটের আলোকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার দিক নির্দেশনা দিতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য