দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা। গত ছয় দিনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ প্রায় ২৮ টাকা এবং চাল প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি। রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন অবস্থান করছেন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা। অন্যদিকে পানিবন্দি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের হিসাবে পরিবারপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ১০৬ টাকা।
একই সময়ে ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চালও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি চালের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। চট্টগ্রামে পানিবন্দি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।
এ ছাড়া বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০টি, মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ৩০৮টি, হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৪৪৪টি, রাঙামাটিতে ১ হাজার ৪৪টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায়ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ সীমিত। তাদের মতে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন।
