Wednesday, July 15, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, মাথাপিছু নগদ বরাদ্দ মিলল মাত্র ২৮...

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, মাথাপিছু নগদ বরাদ্দ মিলল মাত্র ২৮ টাকা

দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা। গত ছয় দিনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ প্রায় ২৮ টাকা এবং চাল প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি। রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন অবস্থান করছেন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা। অন্যদিকে পানিবন্দি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের হিসাবে পরিবারপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ১০৬ টাকা।

একই সময়ে ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চালও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি চালের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। চট্টগ্রামে পানিবন্দি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।

এ ছাড়া বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০টি, মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ৩০৮টি, হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৪৪৪টি, রাঙামাটিতে ১ হাজার ৪৪টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায়ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ সীমিত। তাদের মতে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য