Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবাড়ছে গরম বাড়বে খরা

বাড়ছে গরম বাড়বে খরা

গরমের তীব্রতা বাড়ছে, বাড়ছে তাপ প্রবাহের তীব্রতাও। সেই সাথে এবার ফ্ল্যাশ ড্রট বা হঠাৎ খরার প্রবণতা বাড়বে, এরই মধ্যে তা শুরু হয়ে গেছে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই অনেক দিন পর রাজশাহী ও আশপাশের অঞ্চলে শুরু হয়ে গেছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপ প্রবাহ। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ চলছে। এই অবস্থা শুধু যে বাংলাদেশে তা নয়, ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে হঠাৎ তীব্র গরম ও হঠাৎ খরা দেখা দেবে বলে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

হঠাৎ খরার এ বিষয়টি বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল এতদিন। গত দুই দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে এ ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করে আসছেন বিজ্ঞানীরা।

তীব্র খরায় পানি কমে গিয়ে মাটি ফেটে যেতে পারে। ফলে ফসল উৎপাদন কমে যেতে পারে। শুধু যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশে এমন হবে তা নয়, উত্তর আমেরিকা মহাদেশেও এমন অবস্থা হতে পারে। এ ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি, হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি ও টেক্সাস টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। এই তিন ইউনিভার্সিটির সম্মিলিত একটি গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গত দুই দশক ধরে হঠাৎ খরার ঘটনা বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। এ ধরনের খরা হঠাৎ করে আসে যেমন ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হঠাৎ বন্যার ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাশ ড্রটের সৃষ্টি হলে পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে কোনো এলাকার মাটি ফেটে যেতে পারে। মাটির নিচের পানি শুকিয়ে গেলে সেই মাটিতে আর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফসল নাও ফলতে পারে। বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত হারে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। ২০১২ সালে উত্তর আমেরিকার মধ্যাঞ্চলে শুধু হঠাৎ খরার জন্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল তিন হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। গবেষকরা বলছেন, উষ্ণায়নের গতি বেড়ে যাওয়ায় এবার হঠাৎ খরা আরো কম সময়ের ব্যবধানে হতে পারে। এমনও হতে পারে হঠাৎ করে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই এমন খরার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন রাজশাহী অঞ্চলে যা ঘটে গেল তা হঠাৎ খরার কারণেই ঘটেছে বলছেন আবহাওয়াবিদরা। গত শুক্রবার রাজশাহীতে হঠাৎ তাপমাত্রা উঠে যায় ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র তাপ প্রবাহের ঘটনা ঘটবে এমন পূর্বাভাস আবহাওয়া অফিস থেকে দেয়া হয়নি। আবার গতকাল শনিবার রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরো একটু উপরের দিকে উঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, বাংলাদেশে এতদিন দক্ষিণা বাতাস ছিল বলে তাপমাত্রাকে সেই বাতাস কিছুটা কমিয়ে রেখেছিল। এখন দক্ষিণা বাতাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণা বাতাস বন্ধ হয়ে বাংলাদেশের পশ্চিম দিক থেকে উষ্ণীয় লঘুচাপের অতি উষ্ণ তাপমাত্রা আসতে শুরু করেছে। এই উষ্ণীয় লঘুচাপের উচ্চ তাপমাত্রা ভারতের গুজরাট থেকে ধরে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেছে।

প্রসঙ্গত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যা ও খরার প্রবণতা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ, যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব কারণ রয়েছে তাতে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম। বৈশ্বিক মাত্র ০.৫৬ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী হলেও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য