Sunday, October 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরব্লাড গ্রুপিংয়ের রিএজেন্ট সংকট, রোগ জানার অনেক পরীক্ষা বন্ধ

ব্লাড গ্রুপিংয়ের রিএজেন্ট সংকট, রোগ জানার অনেক পরীক্ষা বন্ধ

কোনো দাতার কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার আগে তা রোগমুক্ত কি না, সেটা নিশ্চিত হতে পাঁচটি পরীক্ষা করা হয়। সেগুলো হলো- হেপাইটাইটিস বি, হেপাইটাইটিস সি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস।

এই পরীক্ষাগুলোর জন্য যে রিএজেন্ট দরকার, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। তবে এখন সেই সরবরাহ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল ইসলাম।

আশরাফুল বলেন, এবার ব্লাড ব্যাগ ছাড়া কিছুই দেওয়া হয়নি আমাদের। কখনো শুনি ইমপোর্টার (আমদানিকারক) আনতে পারেননি বা যে দামে টেন্ডার ড্রপ করেছিলেন, সেই দামে এখন দিতে পারবেন না বলে দিচ্ছেন না।

একই পরিস্থিতির কথা জানালেন দেশের শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের ইনচার্জ রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্লাড গ্রুপিংয়ের রিএজেন্টের সংকট তৈরি হয়েছে। আজ এক প্রোডাক্ট দিতে পারলে আরেকটা প্রোডাক্ট দিতে পারে না। জোড়াতালি দিয়ে চলছে। ভালো মানের রিএজেন্টেরও সংকট তৈরি হয়েছে।

বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ সিদ্দিকের কাছেও শোনা গেল একই কথা। এই হাসপাতালে প্রায় ৭০০ ধরনের পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন কাজে প্রায় ৯০০ ধরনের রিএজেন্ট লাগে। কয়েকটি রিএজেন্ট সরাসরি আমদানি করেন, বেশিরভাগই সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনেন।

ইউসুফ বলেন, সম্প্রতি এই সংকট শুরু হয়েছে। বড় আমদানিকারকরা রিএজেন্ট দিতে পারলেও ছোট আমদানিকারকরা সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে অনেক পরীক্ষা বন্ধ; টেস্ট বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সমস্যার দিকটি তুলে ধরে ইউসুফ বলেন, প্যাথলজিক্যাল টেস্ট একটা সমন্বিত ব্যাপার। একটা পরীক্ষা করতে যদি তিনটা রিএজেন্ট লাগে, কোনো একটা না হলে ওই পরীক্ষাটা হবে না।

আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিভিন্ন ডিভাইস চালানোর ইন্সট্রুমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণের পার্টস দরকার। এসব জিনিসও আনা যাচ্ছে না। ফলে ওই যন্ত্রটি বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এসব কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকার কুড়িল এলাকার ডক্টরস ভিউ নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, কয়েকদিনে এক্সরে ফিল্মের দাম ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা হয়েছে। ১১০ টাকা দামের ডেঙ্গুর কিট ১৩০ টাকা, ৫৫০ টাকার ইটিটি টিউব ৯৫০ টাকা, ৭৫০ টাকার আলট্রাসনোগ্রাম পেপার ৯৯০ টাকা, ৬০ টাকার ইসিজি পেপারের দাম ৯০ টাকা হয়েছে। এসব কিট ছাড়াও সব ধরনের রিএজেন্টের দাম হু হু করে বাড়ছে। আবার অনেক প্রোডাক্ট পাওয়া যাচ্ছে না।

সংকটের কারণে নিম্নমানের রিএজেন্টও ঢুকে পড়ছে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাতে রোগ নির্ণয়ে ভুলের শঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব চিকিৎসায়ও পড়বে।

আমদানিকারক এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রক্ত পরীক্ষাসহ নানা কাজে কয়েকশ ধরনের রিএজেন্ট প্রয়োজন। এর প্রায় সবই আমদানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তা আসে। দেশের ১০০টির মতো প্রতিষ্ঠান এসব রিএজেন্ট আমদানি করে। তারা বর্তমান সংকটের জন্য এলসি খুলতে না পারাকে কারণ দেখিয়েছেন।

ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্য-সচিব আমিনুল ইসলাম খান আবু বলেন, এলসি করাতে না পারায় আমদানিকারকরা যতটুকু দরকার ততটুকু মাল আমদানি করতে পারছেন না। ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দ আবদুুল হামিদ বলেন, আমাদের নেতারা যা-ই বলুক, এখন বোঝা যাচ্ছে ডলার ক্রাইসিস আছে। কিন্তু এখনো বিদেশি বিস্কুট, চানাচুর, চকোলেট, চিপস, তৈরি খাবার, ফলসহ নানা বিলাসদ্রব্য আমদানি করা হচ্ছে। এগুলোর আমদানি সীমিত করে জীবনরক্ষাকারী পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মেডিকেল রিএজেন্ট যদি আমরা না কিনতে পারি তাহলে হাসপাতালে রোগীর রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের উচিত কিছু জায়গায় স্ট্রিক্ট হওয়া। কোন পণ্যটি আমাদের জন্য জরুরি, কোনটি জরুরি না। এমনিতেই মানুষ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য, ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না, এখন আবার যদি এ ধরনের সংকট তৈরি হয়, তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরেকটা সংকট তৈরি হবে।

পিডিএসও/এমএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য