Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeবিবিধযে আটটি কারণে অনলাইনে ব্যবসায় এখন প্রবেশ করবেন না:

যে আটটি কারণে অনলাইনে ব্যবসায় এখন প্রবেশ করবেন না:

যে আটটি কারণে অনলাইনে ব্যবসায় এখন প্রবেশ করবেন না:

১) রেড ওশান
২) গভমেন্ট রুলস এ্যান্ড রেগুলেশনস
৩) কম্পিটিটিটরদের বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট
৪) ফেসবুক ডিপেন্ডেন্সী
৫) ডলার ক্রাইসিস
৬) পণ্যের সীমাবদ্ধতা
৭) অনলাইন ফ্রড
৮) সীমিত মার্জিন

১) রেড ওশান:

বিজনেস মার্কেট এনালিসিসের জন্য দুটো টার্ম বহুল প্রচলিত;

ক) ব্লু ওশান ও
খ) রেড ওশান

ব্লু ওশান হলো যে মার্কেটে কম্পিটিটর কম, গ্রাহক বেশি, চাহিদা বেশি, কম্পিটিটিটরদের মধ্যে মারামারি, কামড়াকামড়ি কম, ইনভেস্টমেন্ট অনুযায়ী লাভ বেশী। সকল মার্কেটারের টার্গেট থাকে ব্লু ওশানে ব্যবসা করার। পক্ষান্তরে রেড ওশান হলো, যেখানে গ্রাহকের তুলনায় কম্পিটিটর বেশী, ইনভেস্ট অনুযায়ী প্রফিট কম, কম্পিটিটরদের মধ্যে প্রাইস নিয়ে, গ্রাহক নিয়ে কাড়াকাড়ি বেশি, প্রতিযোগিতা বেশী, একে অপরের সাথে যুদ্ধ বেশী, রক্তারক্তি বেশী। নিজেরা নিজেরা যুদ্ধ করে, পরস্পরকে ক্ষতবিক্ষত করে, নিজেদের রক্তে সবার হাবুডুবু খাবার অবস্থা, এজন্যই এটাকে রেড ওশান বা রক্তের সমুদ্র বলা হয়।

অনলাইন মার্কেট এখন রেড ওশান। এতো এতো সেলার, ফেসবুক ওপেন করলেই যে কারও এটা বুঝে আসার কথা এই মার্কেটটা কতটা স্যাচুরেটেড। ব্লু ওশান থেকে এই ইন্ডাস্ট্রি বহু আগেই রেড ওশানে পরিণত হয়েছে। পুরনো অনেক অনলাইন ব্যবসায়ী অনলাইন থেকে তাদের ফোকাস সরিয়ে আনছে, হয় অফলাইনে শিফট করছে অথবা বিজনেস ডাইভার্সিফাই করছে।

অনলাইন ব্যবসার একটা সুবিধা হলো, জিওগ্রাফিকাল বাউন্ডারি ওভারকাম এবং একসাথে অনেক কাস্টমারকে সার্ভ করা যায়। যেমন ধরেন মোহাম্মদপুরের একটা অফলাইন বুকস্টোর শুধু মোহাম্মদপুরবাসীকে আরও স্পেসিফিকালি বললে একটা মহল্লা বা একটা রোডের কাস্টমারদের সার্ভ করবে। কিন্তু রকমারির মতো একটা অনলাইন বুকস্টোর সারাদেশ এমনকি বহির্বিশ্বেরও কাস্টমারদের সার্ভ করছে। এজন্যই এটাকে স্টার্টআপ বলছে, এক জায়গা থেকে অনেক বেশী কাস্টমারকে সার্ভ করার সুবিধা। এইটা এক্সিসটিং প্লেয়ারদের জন্য যেমন সুবিধা তেমন নতুন প্লেয়ারদের জন্য অসুবিধা। এক রকমারি, ওয়াফিলাইফের মতো বুকস্টোরগুলোই তো মোটামুটি আপনার টার্গেটের কাস্টমারদের ইতোমধ্যে টার্গেট করে ফেলেছে, আপনার নতুন জায়গায় প্লে করার সুযোগ কই। বইয়ের স্টোরের জায়গায় আপনার পছন্দের বা টার্গেট করা পণ্যের মার্কেট এবং কম্পিটিটিটরদের একটু এনালিসিস করুন, আন্সার পেয়ে যাবেন।

২) গভমেন্ট রুলস এ্যান্ড রেগুলেশনস:

আপনি কি জানেন অনলাইন প্রতিটি পারচেসের বিপরীতে সরকারকে ৫% ভ্যাট প্রদান বাধ্যতামূলক। আপনি কি জানেন, অনলাইন ব্যবসা করতে গেলে বানিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার্টিফিকেট নেয়া বাধ্যতামূলক এবং এই সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য আপনার ট্রেড লাইসেন্স, টিন, বিন, সংশ্লিষ্ট ট্রেড এ্যাসোসিয়েশনের মেম্বারশিপ (এক্ষেত্রে ইক্যাব) লাগবে। বিন করলে মাসে মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আপনার পণ্য যদি খাদ্য পণ্য হয় এবং সেটা যদি বিএসটিআইয়ের ওয়েবসাইটের লিস্টেড ১৭০-১৮০ টা পণ্যের অর্ন্তভুক্ত হয়, তবে বিএসটিআই থেকে সিএম লাইসেন্স করতে হবে, যেটার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক, প্রেমেসিস লাইসেন্স থাকতে হবে, একটি ফ্যাক্টরি বা প্যাকেজিং হাউস থাকতে হবে। আর যদি ১৭০-১৮০ টা পণ্যের ভেতর না হয় তবে মোড়কজাত করলে অবশ্যই মোড়কের লাইসেন্স লাগবে। খাদ্যপণ্য ছাড়াও এমনকি কাপড়ের জন্য বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স লাগে, এটা জানেন কি? যারা ড্রেস, টিশার্ট, শার্ট-প্যান্ট এর ব্যবসা করছেন আর নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন, তাদের জন্য রেড ফ্লাগ। ইতোমধ্যে অনেকগুলো ব্রান্ডে বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসারগণ ভিজিট করেছেন এবং লাইসেন্স করার ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন।

অনলাইন ব্যবসা অনেক ইইইইজি, তাই না, কোন ইনভেস্টই লাগে না। পারবেন এতোগুলো কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করে ব্যবসা করতে। কতো টাকা ইনভেস্ট লাগবে, কতো ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানাতে হবে, ধারণা আছে? এখন ইইইজি মনে হচ্ছে, কারণ এখনো ধরা খান নাই। ধরা খেলে ইইইইজিগীরি বের হয়ে যাবে। এখন নতুন, অল্পস্কেলে করছেন তাই হয়তো গভমেন্টের নজরে পড়েন নাই বা পড়লেও হয়তো নতুন ভেবে ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু স্কেলআপ করতে গেলেই দেখবেন কত আইন আর কত ধারা।

৩) কম্পিটিটরদের বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট:

প্রথম পয়েন্টেই বলেছি, অনলাইনে আপনি যাদের সাথে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে কম্পিট করতে যাবেন, তারা ইতোমধ্যে তাদের সিস্টেমে এবং অপারেশনে বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে, এখন আপনাকে তাদের সাথে কম্পিট করতে হবে। দুই তিন বছর আগেও, একটা হুন্ডা, দুই তিনটা সাইকেল দিয়ে ডেলিভারি কোম্পানি শুরু করা যেতো, অনেকেই করেছিল। কিন্তু এখন স্টিডফাস্ট, রেডেক্স, পাঠাও, পেপারফ্লাই তাদের সিস্টেমে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, দেশ জুড়ে তাদের অসংখ্য হাব, হাজার হাজার ডেলিভারিম্যান এবং মাল্টিভেন্ডর অসাধারণ ওয়েবসাইট ও এ্যাপ, যেখান থেকে প্রতিটা পার্সেল ট্র‍্যাক করা যায়, পেমেন্ট, হিসেব নিকেশ সব করা যায়। পারবেন এখন একটা হুন্ডা আর দুই তিনটা সাইকেল দিয়ে ডেলিভারির কাজ করতে, কোন ভেন্ডরই তো পাবেন না। কে আছে এতো সুন্দর সার্ভিস ও এতো সুন্দর সিস্টেম থেকে বের হয়ে আপনার সাথে ম্যানুয়াল ডিলিংস করবে।

ঠিক একই কথা, অন্যান্য নীশের ক্ষেত্রেও প্রয়োজ্য। দারাজ, রকমারি, চালডাল, ওয়াফিলাইফ, পিকাবু- ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার, এ্যাপ, ইনভেন্টরী, ব্রান্ডিং, মার্কেটিং, সেলস, আফটার সেলস, কলসেন্টারে এতো বেশী ইনভেস্ট করে ফেলেছে এবং এতো চমৎকার সিস্টেম বানিয়ে ফেলেছে যে আপনি এই দুই চার পাঁচ দশ লাখ টাকা দিয়ে তাদের পাশে দাড়াতেই পারবেন না, স্রেফ উড়ে যাবেন। বাংলা বুষ্ট দিয়ে মধু টধুর কতো সাময়িক হয়তো কিছু ইমপালস প্রোডাক্ট বেচতে পারবেন, আপনারা এখন যেটাকে সফলতা বলছেন, কিন্তু দিনশেষে লম্বা রেসে উপরের জিনিসগুলোতে ইনভেস্ট করা ছাড়া তাদের সাথে পারবেন না। সফলতা যদি পেতেই চান শর্টকাট বুষ্টকেন্দ্রিক ব্যবসা থেকে মনোযোগ সরিয়ে সিস্টেমে ইনভেস্ট করুন, অপেক্ষা করুন, ধৈর্য্য ধরুন আর যদি জেবে না কুলায় তবে মানে মানে এখনই কেটে পড়ুন। দুই চার পাঁচ বছর লেগে থেকে, হাল না ছেড়ে কয়েক কোটি টাকার লায়াবিলিটি নিয়ে মাঠ ছাড়ার চেয়ে এখনই অন্য কিছু খুজুন।

৪) ফেসবুক ডিপেন্ডেসী:

ফেসবুক কোন বিজনেস প্লাটফর্ম নয়, এটা একটা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। ফেসবুক নিজের বাঁচার তাগিদে, রুটিরুজির প্রয়োজনে সাধারণ ইউসারদের অনেক বিরক্তি এবং প্রতিবাদের মুখেও বিজনেস এ্যাড রান করার সুযোগ করে দেয় এবং এটাতে দুদিন পর পর তারা তাই কৌশল পরিবর্তন করে এবং নতুন নতুন নিয়ম আরোপ করে। এছাড়াও তারা রেভিনিউ বাড়ানোর জন্যও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয় তাদের পেছনে। এছাড়াও বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশে দুদিন পর পর রাজনৈতিক কারণে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়। অনলাইন ব্যবসা মানেই এখন ফেসবুক ব্যবসা বা এফ কমার্স। এই অতিমাত্রায় ফেসবুক এবং বুষ্ট ডিপেন্ডেন্সী ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালানো ছাড়া আর কোন কাজে লাগবে না।

৫) পণ্যের সীমাবদ্ধতা:

মধু, ঘি, তেল, ঘরে বানানো আচার, জ্যাম বা তরিতরকারি – এই পণ্যগুলো কিন্তু সীমাবদ্ধ। এগুলোতে চাইলেই স্কেলআপ করতে পারবেন না। এগুলা স্কেলেবল না। টাইম পাস, একটা কিছু করতে হবে, শখ- তাহলে ঠিক আছে, এমনকি এটা ফিন্যান্সিয়ালিও ভায়াবল না। আপনি যে পরিমাণ সময় দিচ্ছেন, আপনার ওয়ার্কিং আওয়ার হিসেব করেন তো, অন্য জায়গায় টাইম দিলে কতো পেতেন, এখানে কতো পাচ্ছেন, সেই হিসেব করলেও বুঝবেন এটা ফিন্যান্সিয়ালি কতটা ভায়াবল, সংসার, ফ্যামিলি এটা দিয়ে চালাতে পারবেন কিনা। এর উপর আবার যদি স্কেলআপ করতে চান, একটা টিম দিয়ে, অনেক বুষ্ট করে, অনেক খরচ করে, দিনশেষে হিসেব মেলাতে পারবেন না। “এ্যামেরিকান ড্রিম” এর মতো “উদ্যোক্তা ড্রিম” এর পেছনে ছুটে দিন শেষে ধার দেনা, লায়াবিলিটি এবং নিজের কনফিডেন্সের বারোটা বাজানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। মাথার উপর লোন নিয়ে ঘোরার সময় আপনার সেই ভাইয়া, মেন্টরদের পাশে পাবেন না, আপনাকেই ঘানি টানতে হবে।

৬) ডলার ক্রাইসিস:

ডলারের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ডলারের অভাবে একটা দেশের কি অবস্থা হতে পারে, চোখের সামনে দেখেন নাই। শ্রীলঙ্কার কি অবস্থা, দেখেন নাই, পাকিস্তানের কি অবস্থা, দেখেন নাই, বাংলাদেশ কি মাইনকা চিপায় পড়ছে, দেখেন নাই। অথচ আপনি এই মধু, সজনে পাতা বেচার জন্য কোটি কোটি ডলার পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বাইরে। ডলার খরচ করে দেশের বাইরে সেল জেনারেট করে আরও বেশি ডলার দেশে আনলে সমস্যা ছিলো না, আপনারা মধু, তেল, সজনে বেচার জন্য যেগুলোর চাহিদা ইতোমধ্যেই দেশে স্যাচুরেশনের পর্যায়ে, কোটি কোটি ডলার খরচ করছেন। আর চিয়াসিডের মতো আমদানী করা পন্য বেচার জন্য ডলার খরচ করা তো আরও সাংঘাতিক। দুইদিক দিয়েই ডলার চলে যাচ্ছে। যেখানে ডলারের অভাবে জ্বালানি তেল, শিশুখাদ্য, পশুখাদ্যের মতো অতি জরুরী পণ্যের যোগান দিতে সরকার হিমসিম খাচ্ছে, বিদেশে মানুষ পড়াশুনা করতে যেতে পারছে না, গার্মেন্টসগুলোর এলসি খুলতে চক্কর দিতে হচ্ছে- সেখানে এই অমূল্য ডলার দেশের বাইরে পাঠিয়ে আপনারা সরিষার তেল, মধু, চিয়াসিড আর সজনেপাতা বিক্রি করছেন। নিজের শর্ট-টার্ম গেইনের বিপরীতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার একটু সময় হবে কি?!?

ডলার নিয়ে সরকার মারাত্মক সংকটে রয়েছে এবং সহসাই এই সংকট কাটবে বলে মনে হয় না। ডলার খরচ কমাতে সরকার অন্যান্য খাতে যেভাবে স্ট্রিক্ট হয়েছে ই-কমার্সে বুষ্টিং এর ক্ষেত্রেও আরও খড়গহস্ত হবে বলার অপেক্ষা রাখে না। হয়তো বিষয়টা সরকারের নজরে আসে নাই অথবা ছোট বলে ছাড় দিচ্ছে, কিন্তু ছোটরা যে এই সুযোগ কোটি কোটি ডলার বিদেশ পাঠিয়ে দিচ্ছে লোকাল পণ্য বেচার জন্য, এটা জানলে খবর আছে। অতএব, বুষ্টকেন্দ্রিক অন্যান্য তথাকথিত সফল ব্যবসায়ীদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে হুটহাট সেক্টরে নামবেন না। সামনে এতো সহজে ডলার খরচ করে ব্যবসা আনতে পারবেন না, এখন যতোটা সহজে পারছেন।

৭) অনলাইন ফ্রড:

একভাই একবার বলেছিলেন, “এদেশে ভালো কিছু ঢুকলে সেটা পায়খানা হয়ে যায়”। ভালো একটা জিনিসকে এক্সপ্লয়েট করতে, নষ্ট করতে আমরা ওস্তাদ। এদেশে অনলাইনে কেনাকাটা করেছে আর প্রতারণার স্বীকার হয়নি এরকম লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বলছি না সবাই খারাপ তবে সিস্টেমকে নষ্ট করার জন্য দুই একটা ব্লাক শীপই যথেষ্ট। ‘অনলাইনে জিনিসের দাম বেশী’, ‘দেখায় এক দেয় আরেক’, ‘কথা কাজের মিল নেই’- অনলাইন নিয়ে চারদিকে শুধু সন্দেহ আর অবিশ্বাস। দেশের কমার্শিয়াল কর্পোরেট এজেন্সীগুলোকে সাইডে রেখে এদেশের মানুষ এক সময় আস্থা রেখেছিল অনলাইনের ছোট ছোট ভেন্ডরগুলোর উপর, কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ডের কারণে তা আজ পরিণত হয়েছে এক অনাস্থার জায়গায়। শুধু কি তাই, অফারের নামে পঞ্জিস্কিমের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এদেশের সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা। আস্থার জায়গা, স্মার্ট বিজনেস অনলাইন এখন এদেশে পায়খানা হয়ে গেছে। এইসব স্ক্যাম, প্রতারণা, দুই নম্বরীর কারণে সরকারও কঠোর হচ্ছে দিনকে দিন। বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান র‍য়েছে কড়া নজরদারীতে, বিভিন্ন সংস্থার লোকজন যাচ্ছে খোজখবর নিতে। এরকম একটা অনাস্থার জায়গায়, এতো কড়া সারভেইলেন্স এবং এতো নিয়মনীতির একটা জায়গায় ব্যবসা করতে আসবেন কিনা, ডিসিশন ইস ইওরস।

৮) প্রফিট মার্জিন:

এদেশে গ্রাহক সংখ্যা যেমন বেশী, সেলার সংখ্যাও বেশী৷ একটা ব্যবসা শুরু করলে সেটার জুস খাওয়ার সময় পাওয়া যায় না, আরও হাজার হাজার লোক এসে সেটাতে মারামারি, কাটাকাটি করে চোকিং প্রাইসে নিয়ে যায়, পুরা রেড ওশান। এদেশের অধিকাংশ প্রোডাক্ট খুবই চোকিং প্রাইসে, মার্জিনাল প্রফিটে সেল করা হয়, বিশেষ করে এফএমসিজি প্রোডাক্ট। আমি একটা কেসস্টাডি দিয়েছিলাম, কিভাবে নিজেরা নিজেরা প্রাইস কমাতে কমাতে খুচরা মুরগীর দোকানে এমনকি পাইকারি কেনা দামের চেয়েও কমে মুরগী বিক্রি করা হয়, এবং বিভিন্ন দুই নম্বরী করে তা পুষিয়ে নেয়া হয়। অধিকাংশ সেক্টরেই এই অবস্থা। আম বেচতে যান, ভ্যানের আমওয়ালা, পাড়ার আমওয়ালার সাথে প্রাইসে পারবেন না তাদের বিভিন্ন মেকানিজমের কারণে। লিচু বেচতে যান একই অবস্থা, মাংস, মাছ সব জায়গায় একই সিন।

বলা হচ্ছে, অফলাইন স্টোর দিতে হলে অনেক টাকা এ্যাডভান্স দিয়ে দোকান নিতে হয়, অনলাইনে এসব কিছুই লাগে না- কথাটা ভুল। অনলাইনে ফিক্সড খরচ, ওভারহেড খরচ অফলাইন থেকে অনেক অনেক বেশী। ভালো একটা ওয়েবসাইট, একটা এ্যাপ, অফিস রুম, ওয়ারহাউস, টেকনিকাল টিম, প্যাকিং টিম, কাস্টমার কেয়ার, ডেলিভারি টিম- এইগুলা মেইন টেইন করতে অনেক খরচ পড়ে যায়। এছাড়াও লোকাল লোকজন যেসব মেকানিজম করে প্রোডাক্ট বেচে, সেগুলো অনলাইনে করা যায় না বা করলেও পার পাওয়া যায় না। এসব কারণে অনলাইনে প্রোডাক্টের দাম অনেক বেশী পড়ে যায় ট্রেডিশনাল ব্যবসার তুলনায়। বাংলাদেশের মানুষ খুবই প্রাইস সেনসিটিভ। আপনি যতোই প্রিমিয়াম সার্ভিস দেন, প্রিমিয়াম প্যাকেজিং দেন, দিনশেষে দামের তুলনা হবে সেই ভ্যানের দোকানের সাথে, পাড়ার দোকানের সাথে। এরকম চোকিং প্রাইসের একটা মার্কেটে হিউজ ওভারহেড বহন করে স্কেল আপ করা এবং বিজনেস থেকে জুস বের করা অনেক অনেক কঠিন। এতোই যদি লাভজনক হতো তাহলে আশেপাশে এতো এতো ব্যবসায়ী ঝড়ে পড়ছে কেনো, গ্রামীনফোনের মতো জায়ান্ট কেনো অনলাইন ব্যবসা থেকে ঝড়ে পড়লো বা চলে গেলো- এগুলো একটু এনালিসিস করুন, আন্সার পেয়ে যাবেন।

পরিশেষে বলতে চাই, আমার কারও সাথে শত্রুতা নেই, ব্যাক্তিস্বার্থও জড়িত নই। কোর্সব্যবসায়ীর মতো, বুষ্টব্যবসায়ীদের মতো আমিও বিটুবি ব্যবসায়ী, আমি নন ওভেন টিস্যু ব্যাগ বানাই। এই ইকোসিস্টেমে যতো ব্যবসায়ী আসবে ততো আমার লাভ। এরকম বিটুবি কমিউনিটিতে যুক্ত থাকলে, ভাই ভাই, মেন্টর মেন্টর করলে আমারই ব্যবসায়ীক লাভ। কিন্তু আমি এই কথাগুলো বলছি কেনো, বলছি আপনাদের ভালোর জন্য, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শিক্ষা থেকে বলছি, বিজনেস কমিউনিটিতে বেশ বড় একটা সার্কেলে মেশার কারণে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই সেক্টরে জুস আর অবশিষ্ট নেই। অনলাইন ব্যবসা শেষ বলছি না, বড় যারা তারা আরও বড় হবে, ছোট পুঁজি, ছোট টিম, ছোট অভিজ্ঞতা নিয়ে এই সেক্টরে কিছু করে খাওয়ার দিন শেষ। অনলাইন ছাড়াও দেশে হাজারও বিজনেস রয়েছে, উৎপাদনমুখী কিছু করুন, ভ্যালু এ্যাডেড কিছু করুন। অনলাইনকে মার্কেটিংএর একটা মাধ্যম বানান। অনলাইন হবে আপনার আর্সেনালে রাখা অনেকগুলো মার্কেটিং অস্ত্রের মধ্যে একটা অস্ত্র, একমাত্র অস্ত্র নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য