Monday, May 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররোজকার তাজা খবর‘সিস্টেমের ফাঁদে’ কমিশন-বাণিজ্য সরকারি হাসপাতালে

‘সিস্টেমের ফাঁদে’ কমিশন-বাণিজ্য সরকারি হাসপাতালে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক, কান, গলা বিভাগে তিন দিন ধরে ভর্তি রয়েছেন রবিউল ইসলাম। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার একটি শর্ট স্লিপে তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতাল থেকে ‘সিটি স্ক্যান’ করিয়ে আনতে বললেন। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই সুবিধা থাকলেও কমিশন পাওয়ার হীন উদ্দেশ্যে তাকে পাঠানো হয় বেসরকারি একটি হাসপাতালে।

একইভাবে বহির্বিভাগে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জিম্মি করে সরকারি হাসপাতালেই কমিশন-বাণিজ্য গড়ে তুলেছে বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকগুলো। সরেজমিন খুমেক হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় স্যাম্পল কালেকশন করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে সিস্টেমের ফাঁদে কমিশন-বাণিজ্যে জাল বিছানো হয়েছে।যশোরে নাভারন থেকে অসুস্থ সন্তানকে দেখাতে খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন স্কুল শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। দুপুর ১২টার পর ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখালে তিনি রোগ নির্ণয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে থাকেন একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে দ্রুত পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেখাতে হয়। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীরাও এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। অনেক সময় ভালো চিকিৎসা প্রদানের নামে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া হয় বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে।

জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে এক দিনে ২০ জনের বেশি রোগী দেখেন না অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আবার রাত ১টা-২টা পর্যন্ত ওই চিকিৎসকই বেসরকারি হাসপাতালে বিরামহীন রোগী দেখেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, সরকারি ভবন, স্থাপনা, যন্ত্রপাতি ও লোকবল ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেই নগরীর বয়রা এলাকায় দুই ডজনের বেশি প্যাথলজি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা জেলা সভাপতি ডা. বাহারুল আলম জানান, শর্ট স্লিপে বেসরকারি হাসপাতাল সিটি স্ক্যান’ করতে দেওয়া চিকিৎসক অবশ্যই ভালো কাজ করেননি। তবে সরকারি হাসপাতালে প্যাথলজি সুযোগ বাড়াতে হবে। সেখানে জনবল টেকনোলজিস্ট ঘাটতি আছে। সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে অনিয়ম বন্ধ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য