Friday, July 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসুদানে বুরহান-হামদুক দ্বন্দ্ব

সুদানে বুরহান-হামদুক দ্বন্দ্ব

নীল নদের তীরে অবস্থিত দেশ সুদান। সদয় বুদ্ধিমান মানুষের দেশ। আমি ২০১২ সালে সুদানে গিয়েছিলাম তখন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সাথে দেখা হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলে অতিথি হিসেবে সেখানে আমার এই যাওয়া। কিন্তু দেশটিতে বর্তমানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী (আরএসএফ-র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স) এর মধ্যে যা ঘটছে তা ভয়াবহ এবং ভীতিজনক। এ যুদ্ধে সুদান রাষ্ট্রটি ক্রমেই সঙ্কটের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং দেশটির জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুদান রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিকভাবে দুর্বল কাঠামোতে ছিল। ওমর আল-বশির শাসনের পতনের মাধ্যমে দেশটি নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। বশিরের পতনের পর আবদুল্লাহ হামদুক প্রধানমন্ত্রী হলে দেশটিতে ফের গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়। কিন্তু আল-বুরহান ও হামিদতি দুজনে মিলে তাকে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেন। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এখন কি হচ্ছে সুদানে? আল-বুরহান এবং হামিদতি একে অপরকে টপকানোর চেষ্টা করছেন। এই হাড়ভাঙা যুদ্ধে তাদের একজনের পক্ষে জয়ী হওয়ার জন্য তারা উভয়ে অসাধ্য সাধন করতে প্রস্তুত। কারণ সুদানে যৌথভাবে নেতৃত্ব অবস্থায় নেই। সুদান সেনাবাহিনী দেশের আধাসামরিক বাহিনীকে (আরএসএফ) বিলুপ্ত করে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এতে হামিদতির ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আল বুরহানের ক্ষমতা পাকাপোক্ত হবে। দু’জনের নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে দেশটিতে এই যুদ্ধ চলছে।

যদি তাদের একজন পরাজিত না হন, তাহলে সুদান রাষ্ট্রটি বিচ্ছিন্নতা এবং বিভক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সুদানে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয় আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর (আরএসএফ) মধ্যে গত শনিবার সকালে যুদ্ধ শুরুর পরপরই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। বহু বছর পর সুদানের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নতুন বার্তা বহন করে। কারণ যেখানে সুদান রাষ্ট্রটি আমেরিকার উদ্বেগের উৎস ছিল। সেখানে আমেরিকার বর্তমান তৎপরতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক বলে আমরা মনে করি।

২০১৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের শাসনের পতনের পর সুদান ইস্যুতে আমেরিকার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ওয়াশিংটন গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা অর্জিত গ্রহণযোগ্য সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদী ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে সার্বভৌমত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে হামদুককে অপসারণের ফলে আমেরিকা নিরাশ হয়।

গত ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ওয়াশিংটন সুদানে ২৫ বছর পর জন গডফ্রেকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে। আগে দেশটিতে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব থাকায় তখন ওয়াশিংটন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়া থেকে বিরত ছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ব্যক্তিগতভাবে সুদান ইস্যুতে এখনো স্পর্শ করেননি, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন যুদ্ধবিরতি চাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন। ব্লিঙ্কেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি সুদানি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর (আরএসএফ) মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্লিঙ্কেন সার্বভৌমত্ব পরিষদের প্রধান এবং সেনা কমান্ডার আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের কমান্ডার মুহাম্মদ হামদান দাগালোর (হামিদতি) সাথে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার চাপ প্রয়োগ করছেন। কারণ এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সুদান রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব। যদি কোনো কারণে যুদ্ধবিরতি না হয় তাহলে সুদান রাষ্ট্রটি ক্রমেই বিভক্তির দিকে ধাবিত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য