Thursday, June 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকর্নাটকে মুসলমানদের রিজার্ভেশনে থাবা

কর্নাটকে মুসলমানদের রিজার্ভেশনে থাবা

কর্নাটকে বিধানসভার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক তৎপরতা বেগবান হয়েছে। কর্নাটক নির্বাচন এ হিসেবে বেশ গুরুত্ব বহন করছে যে, এর মাধ্যমে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের দিক নির্ধারণ হবে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে গেছে। কর্নাটকের নির্বাচনে জেতার জন্য বিজেপি আগেই সাম্প্রদায়িকতার কার্ড খেলে ফেলেছে। তারা রাজ্যের আদার্স ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস (ওবিসি) বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী, মুসলমানদের বিগত ২৭ বছর ধরে অর্জিত রিজার্ভেশন বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। বিজেপি যখনই নির্বাচনের ঘূর্ণিপাকে ফেঁসে যায়, তখনই তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিজেদের সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাংককে শক্তিশালী করে।

খেয়াল করে দেখুন, কর্নাটক বিধানসভার নির্বাচন কাছে আসতেই সেখানে বিজেপির প্রাদেশিক সরকার অনগ্রসর মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ, ৪ শতাংশ রিজার্ভেশন বন্ধ করে দিয়েছে। ২-বি ক্যাটাগরির এ ৪ শতাংশ রিজার্ভেশন মুসলমানদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বোক্কালিগ ও লিঙ্গায়েতদের মধ্যে ২ শতাংশ করে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, এ দু’টি শ্রেণী অর্থনৈতিক ও শিক্ষার দিক দিয়ে শক্তিশালী। আর আগে থেকেই রিজার্ভেশনের সুবিধা পেয়ে আসছে। এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিতরূপে অর্থনৈতিক ও শিক্ষার দিক দিয়ে দুর্বল সেই মুসলমানদের মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে, যারা বছরের পর বছর ধরে এ রিজার্ভেশন থেকে উপকৃত হচ্ছিল। বিজেপি মুসলিম রিজার্ভেশন বাতিল করার পক্ষে এ প্রমাণ পেশ করেছে যে, এটি সংবিধানবিরোধী ছিল। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বিজেপি কর্নাটকে আগেও কয়েকবার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কখনোই তাদের কাছে এ রিজার্ভেশন বেআইনি মনে হয়নি। কিন্তু এখন যখন কর্নাটকে তাদের ক্ষমতা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন তারা পূর্ণরূপে উগ্র হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।

সবাই জানেন, কর্নাটকে বিজেপি এ সিদ্ধান্ত এ জন্য নিয়েছে, যাতে তারা ওবিসি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যে আগামী নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদের আধিপত্যের অ্যাজেন্ডায় রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারে। কর্নাটক দক্ষিণ ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। তারা সাম্প্রদায়িক বিষয়াবলিতে বাতাস দিয়েই এ ক্ষমতা অর্জন করেছে। আর তারা ক্রমাগত এমন বিষয়াবলিকে উসকে দিতে থাকে, মুসলমানদের ক্ষতি হওয়ার সাথে যার সম্পৃক্ততা রয়েছে। যেমন- হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ক্রমাগত টিপু সুলতানের কীর্তিহনন, নামসর্বস্ব লাভ জিহাদ কিংবা মুসলমানদের রিজার্ভেশন বন্ধরূপে। এ সব কিছুর নেপথ্যে একটাই উদ্দেশ্য- যেকোনোভাবে মুসলমানদের মূল্যে ক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং দেশে বিদ্বেষের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কর্নাটকে মুসলমানদের রিজার্ভেশন বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে প্রদত্ত রিজার্ভেশন সংবিধানবিরোধী ছিল। এ জন্য এটিকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।’ আমরা আপনাদের জানিয়ে রাখি, এ রিজার্ভেশন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরাপ্পা মোয়েলি চালু করেছিলেন। এ কিসসা ২৭ বছরের পুরোনো। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখন উপলব্ধি করলেন, এ রিজার্ভেশন বেআইনি ছিল এবং এটি বন্ধ হওয়া খুব জরুরি। প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র উকিল কপিল সিব্বল এক টুইটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কড়া প্রশ্ন করেছেন। তার বক্তব্য, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি ও প্রোপাগান্ডা কি সংবিধানবিরোধী নয়? কপিল সিব্বল প্রশ্ন করেছেন, ‘অমিত শাহ, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সংবিধানের বিরোধিতা হলে, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি, প্রোপাগান্ডা, বক্তব্য, অ্যাজেন্ডা ও কর্মসূচির ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? এটি কী সংবিধান পরিপন্থী নয়?’ আমাদের জানা আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কপিল সিব্বলের এই কড়া প্রশ্নের জবাব কখনোই দেবেন না। কেননা, তার পুরো রাজনীতিই সংবিধানবিরোধী সাম্প্রদায়িকতা ও মুসলিমবিদ্বেষের ওপর টিকে আছে। যদি তিনি এটি পরিত্যাগ করেন, তাহলে তার আর কী থাকবে?

উল্লেখ্য, কর্র্নাটকে ওবিসি মুসলমানকে রিজার্ভেশন তাদের ধর্মের কারণে দেয়া হয়নি; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অনগ্রসরতার কারণে দেয়া হয়েছিল। রিজার্ভেশনের এই ক্যাটাগরিতে চম্পা রেড্ডি কমিশনের সুপারিশে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছিল। পরবর্তীতে সাচার কমিটির রিপোর্টও তার সত্যয়ন করেছিল। রাঙ্গানাথা মিশ্র কমিশন তো সংখ্যালঘুদের ১০ শতাংশ রিজার্ভেশন দেয়ার সুপারিশ করেছিল, যেখানে ৮ শতাংশ রিজার্ভেশন মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট করার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু এখনো সেই সুপারিশমালা কার্যকর করা হয়নি। উল্টো যেসব অনগ্রসর মুসলমান ওবিসি ক্যাটাগরিতে রিজার্ভেশন পেয়েছিল, আজ সেটিকেই বাতিল করা ও মুসলমানদের একেবারে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্নাটক তার সর্বশেষ তাজা উদাহরণ। কর্নাটকে মুসলিম রিজার্ভেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত ইন্দ্র সোহিনী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিপক্ষে চলে যায়। ওই রায়ে বলা হয়েছে- রিজার্ভেশনের অধিকারী ক্যাটাগরির তালিকায় কোনো কমিউনিটির হ্রাস-বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কমিশনের ডাটাভিত্তিক তথ্যের ওপর মনোযোগ দেয়া উচিত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এ স্পষ্ট নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে এবং অনগ্রসর শ্রেণিবিষয়ক কর্নাটক স্টেট কমিশনের কোনো চূড়ান্ত সুপারিশ ব্যতিরেকে বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি মূলত বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অনগ্রসর সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা ও তাদের আরো অনগ্রসর বানানোর সাজানো ষড়যন্ত্র। এ কারণেই রিজার্ভেশনের রাজনীতি বিজেপির গলায় হাড্ডিতে পরিণত হয়েছে এবং উল্টো দিকে এর চাল চলছে।

বিজেপির দুমুখো নীতির কারণেই সম্প্রতি বানজারা গোষ্ঠী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইয়াদি উরুপ্পার বাড়ির সামনে একত্র হয়ে প্রতিবাদ জানায়। মূলত রিজার্ভেশন সম্পর্কিত বিজেপির কপটচারিতামূলক পলিসির কারণে এক সাথে কয়েকটি রণাঙ্গনের পথ খুলে গেছে। এক দিকে যেখানে মুসলিম রিজার্ভেশন বন্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলছে, অপরদিকে তখন দলিতদের রিজার্ভেশনকে চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার সুপারিশ বিজেপির গলার কাঁটা হতে চলেছে। এ কারণেই দলিত হিসেবে গণ্য, বানজারা গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা ইয়াদি উরুপ্পার বাড়ির সামনে শুধু বিজেপির পতাকাতেই আগুন লাগায়নি; বরং তারা সেখানে পাথরও নিক্ষেপ করে। রাজ্য বিধানসভার আগে বানজারা গোষ্ঠীর এ অসন্তোষের কারণে বিজেপিকে কড়া মূল্য দিতে হবে। কেননা, কর্নাটকে দলিতদের জনসংখ্যা ২০ শতাংশ, যা যেকোনো দলের খেলা উল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। দলিতরা ১৫ শতাংশ রিজার্ভেশন পেয়ে আসছিল। গত বছর বিজেপি সরকার সেটি বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করে। এ সিদ্ধান্তে দলিতরা খুশি ছিল, কিন্তু গত ২৪ মার্চ দলিতদের জন্য বরাদ্দ রিজার্ভেশনকে অভ্যন্তরীণভাবে চার ভাগে বিভক্ত করে দেয়া হয়। আগের রিজার্ভেশন ব্যবস্থায় বানজারা গোষ্ঠী ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা ভোগ করত। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে রিজার্ভেশন বিভক্ত হওয়ার পর তাদের জন্য ৪.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটিকে তারা তাদের অধিকার হরণ মনে করছে। কর্নাটকে বিজেপি রিজার্ভেশনের ঘূর্ণিপাকে মারাত্মকভাবে আটকে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 10 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য