Friday, July 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াস্বামী-স্ত্রীর অধিকার ; আল্লামাহ সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার [২য় পর্ব]; আল্লামাহ সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ

[স্বামীর অধিকার]


মুসলিম রমণী স্বীয় স্বামীর অধিকার আদায় করে মহান রবের নৈকট্য কামনা করে, মহান রবের নিকট থেকে শুভ পরিণাম ও উত্তম প্রতিফল লাভে প্রতীক্ষায় থাকে। সে বিনিময় হিসেবে পতির অধিকার আদায় করে না। যদি স্বামী তাকে দেয়, তো সে স্বামীকে দিল, আর না দিলে দিল না—এমনটি করে না। বরং সে স্বামীকে তার হক যথাযথরূপে প্রদান করে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথার কারণে, فَإِنَّمَا عَلَيْهِمْ مَا حُمِّلُوا وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ ‏ “কেননা তাদের ওপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তাদের ওপর বর্তাবে। আর তোমাদের ওপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তোমাদের ওপরই বর্তাবে।” [সহিহ মুসলিম, হা: ১৮৪৬; নেতৃত্ব ও প্রশাসন অধ্যায় (৩৪); পরিচ্ছেদ: ১২]

সে স্বামীর অধিকার আদায় করে, যেহেতু তার জানা রয়েছে, মহান আল্লাহ উত্তমকর্মসম্পাদনকারীর কর্মফল বিনষ্ট করেন না। একজন বরকতময়ী মুসলিম রমণীর অবগতির বাইরে নয়, তার পালনকৃত দ্বীন স্বামীকে প্রদান করেছে বিরাট মর্যাদাবহ অধিকার। তার প্রাণপ্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,َ لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَلَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلٰى ظَهْرِ قَتَبٍ لَأَعْطَتْهُ إِيَّاهُ “আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে সিজদা করতে কাউকে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, মহিলা তার ওপর আরোপিত আল্লাহর হক ততক্ষণ আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে তার স্বামীর হক আদায় করছে। এমনকি সে যদি (সফরের জন্য) কোনো বাহনের জিনের ওপরও থাকে, আর সেই অবস্থায় স্বামী তার দেহমিলন কামনা করে, তবুও স্ত্রীকে স্বামীর এ আশা পূরণ করতে হবে।” [ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৫৩, সিলসিলা সহিহা, হা: ১২০৩; সনদ: সহিহ]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لا تَجِدُ امْرَأَةٌ حَلاوَةَ الإِيمَانِ حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا “কোনো নারী আপন স্বামীর অধিকার আদায় না করা অবধি ইমানের মিষ্টতা লাভ করতে পারবে না।” [হাকিম, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৭৩২৫; আলবানি কৃত সহিহুত তারগিব, হা: ১৯৩৯; সনদ: হাসান সহিহ] সুতরাং মুসলিম নারীর জন্য ইমানের মিষ্টতা লাভের উপায় নিজ স্বামীর অধিকার আদায় করা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, المرأةُ لا تُؤَدِّي حقَّ اللهِ حتى تُؤَدِّيَ حقَّ زَوْجِها “মহিলা তার ওপর আরোপিত আল্লাহর হক ততক্ষণ আদায় করতে পারবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে তার স্বামীর হক আদায় করছে।” [তাবারানি কৃত মুজামুল কাবির, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৫০৮৪; সহিহুত তারগিব, হা: ১৯৪২; সনদ: সহিহ]


একজন পুণ্যবতী রমণী স্বামীর হক আদায় করতে গিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়। সে স্বামীকে যা-ই প্রদান করে না কেন, সেটাকে বড়ো কিছু মনে করে না। কারণ কী? কারণ সে জানে, তার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরাট কথা বলেছেন, যা থেকে প্রতিভাত হয়, একজন নারী স্বামীর জন্য যা-ই করুক না কেন, স্বামী তার চেয়েও অধিক হকদার। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لو كان يَنْبَغي لأحدٍ أنْ يَسجُدَ لأحدٍ لأمَرْتُ المرأةُ أنْ تَسجُدَ لزَوجِها لِعِظَمِ حقِهِ علَيْهَا “কারও জন্য যদি কোনো মানুষকে সিজদা দেওয়া সঙ্গত হতো, তবে আমি নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা দিতে। যেহেতু নারীর ওপরে রয়েছে স্বামীর বিরাট অধিকার।” [মুসনাদু আহমাদ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১৫৮; সহিহুত তারগিব, হা: ১৯৩৬; সনদ: সহিহ লিগাইরিহি]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, لو تعلَمُ المرأةُ حقَّ الزَّوجِ ما قعَدت ما حضرَ غداؤُه وعشاؤُه حتَّى يَفرُغَ “স্ত্রী যদি স্বামীর হক সম্পর্কে জানত, তবে স্বামীর মধ্যাহ্ন ও রাতের খাবার উপস্থিত হলে স্বামীর আহার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে উপবেশন করত না।” [তাবারানি কৃত মুজামুল কাবির, খণ্ড: ২০; পৃষ্ঠা: ৩৩৩; ইমাম আলবানি এ হাদিসকে বিশুদ্ধ আখ্যা দিয়ে সহিহুল জামি গ্রন্থে (হা: ৫২৫৯) হাদিসটিকে সংকলন করেছেন, পরবর্তীতে সিলসিলা দয়িফা গ্রন্থে (হা: ৫৭২৬) হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন।]


পুণ্যবতী রমণী স্বামীর হক আদায় করে খোঁটা দেয় না। বরং সে স্বামীর মর্যাদা বিষয়ে সচেতন থাকে। কারণ সে তার দ্বীন অনুযায়ী পথচলে, নিজের নবির পথনির্দেশনা দেখে নেয়। যিনি ছিলেন সত্যপন্থি সত্যায়িত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাঁর ব্যাপারে তাঁর মহান রব বলেছেন, لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ “তোমাদের নিকট আগমন করেছে তোমাদেরই মধ্যকার একজন রসুল, তোমাদের জন্য কষ্টকর বিষয়াদি যার কাছে অত্যন্ত কঠিন, যিনি তোমাদের (হেদায়েতের প্রতি) অত্যন্ত আগ্রহী, মুমিনদের প্রতি বড়োই স্নেহশীল, মহানুভব।” [সুরা তওবা: ১২৮]


সে মানুষ ও জিন শয়তানদের প্ররোচনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না; যেসব প্রলুব্ধকর প্ররোচনার বাইরের দিকে রয়েছে মানবাধিকারের দাবি, কিন্তু ভেতরে রয়েছে সুস্পষ্ট আজাব। জিন ও মানুষদের মধ্যে শয়তানের যেসব সাঙ্গপাঙ্গ রয়েছে, শয়তান সুনিশ্চিতভাবেই তাদের ব্যবহার করে নারীর সংসারগৃহ ধ্বংস করতে। বরকতময়ী পুণ্যবতী রমণী জানে, সে আপন গৃহে হীন কেউ নয়। বরং নিজ গৃহে তার মর্যাদা রয়েছে। সে তার বাড়ির দায়িত্বশীল। স্বামীর অধিকার আদায় করা এ দায়িত্ব পালনেরই একটি অংশ। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, اَلْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا “একজন নারী তাঁর স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” [সহিহ বুখারি, হা: ৮৯৩ ও ৫২০০; সহিহ মুসলিম, হা: ১৮২৯]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ إِلاَّ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ‏ “আল্লাহ যাকেই জনগণের দায়িত্ব দেন, আর তার মৃত্যু হয় খেয়ানতকারী হিসেবে, আল্লাহ তার জন্যই জান্নাতকে হারাম করে দেবেন।” [সহিহ মুসলিম, হা/১৪২; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছেদ: ৬৩]


তাই স্বামীর অধিকার প্রসঙ্গে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা নারীদের শেখানো আমাদের পালনীয় কর্তব্য। যাতে নারী তার রবকে সন্তুষ্ট করতে পারে এবং আপন গৃহে সুখ ও শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
·
[এক. যাবতীয় বৈধ ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা]


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর একটি অন্যতম অধিকার আল্লাহর নাফরমানি হয় না এমন সকল ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা এবং স্বামীর আনুগত্য না করে কোনো অজুহাত না দেখানো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশ্রেষ্ঠ রমণী প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, الَّتي تُطيعُ زوجَها إذا أمرَهَا “যে রমণী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে কোনো কাজের নির্দেশ দেন।” [নাসায়ি, হা: ৩২৩১; সনদ: হাসান] একজন বরকতময়ী ভালো নারী পতির আনুগত্য করে, যখন তিনি কোনো কাজের নির্দেশ দেন। তার আশা থাকে, সে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আগত শ্রেষ্ঠত্বের এই মূল্যবান ও সুউন্নত সাক্ষ্যের মর্যাদা হাসিল করবে।


সে মহান রবের জান্নাতে প্রবেশের কামনা করে, যে জান্নাতে আল্লাহ তাঁর সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের জন্য এমন জিনিস প্রস্তুত করেছেন, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করেনি। মুসলিম রমণী জানে, তার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا؛ قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الجَنَّةِ شِئْتِ “যদি কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে খুশি সে দরজা দিয়ে তাতে প্রবেশ করো।” [মুসনাদু আহমাদ, হা: ১৬৬১; সহিহুল জামি, হা: ৬৬১; সনদ: সহিহ]


সে যদি স্বামীর অবাধ্য হয়, তবে মহান রব যে তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন, এ ভয়ও সে করে থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ اثْنَانِ امْرَأَةٌ عَصَتْ زَوْجَهَا وَإِمَامُ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ “দুই ব্যক্তির ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ শাস্তি হবে। (১) যে নারী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করে, (২) আর কোনো গোত্রের এমন ইমাম, যাকে তারা অপছন্দ করে।” [তিরমিজি, হা: ৩৫৯; সনদ: সহিহ]


মুসলিম রমণী তার স্বামীর আনুগত্য করতে উদগ্রীব থাকে এবং স্বামীর অবাধ্যতাকে ভয় করে। কারণ সে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত উত্তম প্রতিদান কামনা করে এবং আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে। কিন্তু সে পতিব্রতা হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর অবাধ্যতায় তার আনুগত্য করে না। তাই স্বামী যদি তাকে আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়, তাহলে সে এক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করে না। যেমনভাবে স্বামী অবৈধ মিলনকর্মের নির্দেশ দিলে সে তার আনুগত্য করে না। স্বামী তাকে অবৈধ সাজগোজের নির্দেশ দিলে—যেমন ভ্রু প্লাক করা—সে তার আনুগত্য করে না।


কোনো কোনো মহিলা টেলিফোন করে বলেন, শাইখ, আমার স্বামী বলেন, ‘তোমার ললাটে প্লাক করা দরকার। তুমি ভ্রু প্লাক করো।’ আমার স্বামী বলেন, ‘তোমার চুলে পরচুলা লাগানো দরকার।’ আমার স্বামী বলেন, ‘আমার জন্য তুমি বারুকা (মাথার ওপরে পরার মতো কৃত্রিম কেশগুচ্ছ) পরো।’ শাইখ, আমি কি তার আনুগত্য করব? স্বামীর অধিকার তো অনেক বড়ো। আসুন, আমরা একটা ঘটনা শুনি। যাতে করে আমরা জানতে পারি, এসব ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। জনৈক মহিলা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, তিনি তাঁর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েটির মাথার চুল পড়ে গিয়েছে। আর ওর স্বামী আমাকে নির্দেশ দিয়েছে, আমি যেন মেয়ের চুলে পরচুলা লাগিয়ে দেই। তখন নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, إِنَّه قَدْ لُعِنَ الْمُوصِلاَتُ “যারা পরচুলা লাগায় তাদের বিরুদ্ধে লানত (আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ানের বদদোয়া) করা হয়েছে।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫২০২; সহিহ মুসলিম, হা: ২১২৩]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ “স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” [মুসনাদু আহমাদ, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৪২৬; সিলসিলা সহিহা, হা: ১৭৯; সনদ: সহিহ]
·
[দুই. স্বামীর কৃতজ্ঞতা করা]


ভাইয়েরা আমার, স্ত্রীর ওপর স্বামীর একটি অন্যতম অধিকার—সে স্বামী প্রদত্ত বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা করবে, স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করবে না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لا يَنظرُ اللَّهُ إلى امرأةٍ لا تَشكرُ لزوجِها وَهيَ لا تَستَغني عنهُ “আল্লাহ ওই নারীর প্রতি দৃষ্টি দেবেন না, যে তদীয় স্বামীর কৃতজ্ঞতা করে না; অথচ সে তার থেকে অমুখাপেক্ষিণী নয়।” [নাসায়ি কৃত সুনানুল কুবরা, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৯১৩৫; সিলসিলা সহিহা, হা: ২৮৯; সনদ: সহিহ]

বরকতময়ী পুণ্যবতী সহধর্মিনী আপন পতির অকৃতজ্ঞতা করাকে ভয় করে, নিজেকে শেখায় আর তিরস্কার করতে থাকে, যেন সে কোনোদিন স্বামীর অকৃতজ্ঞতা না করে। কারণ কী? কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أُرِيتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ مَنْظَرًا كَالْيَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ‏‏.‏ قَالُوا بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏: بِكُفْرِهِنَّ.‏ قِيلَ يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ قَالَ : يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ كُلَّهُ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ “আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মতো ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী।” লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রসুল, কী কারণে?’ তিনি বললেন, ‘তাদের কুফরির কারণে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে?’ তিনি জবাব দিলেন, “তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করে এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারও প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, কিন্তু সে তোমার থেকে সামান্য ত্রুটিও পায়, তাহলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনও ভালো আচরণ পেলাম না।” [সহিহ বুখারি, হা: ১০৫২; সহিহ মুসলিম, হা: ৯০৭]
·
[তিন. স্বামীকে ক্রোধান্বিত না করা এবং স্বামীর প্রতি রেগে না যাওয়া]


স্ত্রীর ওপর স্বামীর অন্যতম অধিকার—স্ত্রী উদগ্রীব থাকবে, যাতে সে স্বামীকে ক্রোধান্বিত করে না দেয় এবং নিজেও তার প্রতি রেগে না যায়। যদি কোনো কারণে তাঁর প্রতি তার রাগ হয়, কিংবা সে তাঁকে রাগিয়ে দেয়, তাহলে সে স্বামীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে, তাঁর কাছে চাইবে, তিনি যেন তার প্রতি সুপ্রসন্ন হন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, نسَاؤُكُم من أَهْل الجَنَّة الوَدُود الوَلوْد العَؤودُ عَلَى زَوجهَا الَّتي إذَا غَضِبَ جَاءت حَتَّى تَضَعَ يَدَهَا في يَده ثُمَّ تَقُولُ : لاَ أَذُوقُ غَمضاً حَتى تَرضَى “তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; জান্নাতী স্ত্রী হবে সে, যে অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, বারবার ভুল করে বারবার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগ করলে (অপর বর্ণনামতে, সে স্বামীকে কষ্ট দিলে কিংবা স্বামী নিজে তাকে কষ্ট দিলেও) সে তাঁর নিকট এসে তাঁর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি খুশি না হওয়া পর্যন্ত আমি এক পলকও ঘুমাব না।” [নাসায়ি কৃত সুনানুল কুবরা, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৯১৩৯; সিলসিলা সহিহা, হা: ২৮৭; সনদ: সহিহ]


কল্যাণময়ী সতী স্ত্রী নিজের প্রতি স্বামীর অসন্তোষকে ভয় করে। কেননা সে জানে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ثَلاَثَةٌ لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمْ آذَانَهُمُ الْعَبْدُ الآبِقُ حَتَّى يَرْجِعَ وَامْرَأَةٌ بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَإِمَامُ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ ‏ “তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কর্ণ অতিক্রম করে না (কবুল হয় না)। (১) পলায়নকারী দাস, যে পর্যন্ত তার মালিকের নিকটে ফিরে না আসে; (২) যে মহিলা তার স্বামীর অসন্তোষ নিয়ে রাত কাটায়, (৩) আর কোনো গোত্রের ইমাম, যাকে তার গোত্রের লোকেরা পছন্দ করে না।” [তিরমিজি, হা: ৩৬০; সনদ: হাসান]


কল্যাণময়ী রমণী স্বামীর প্রতি রাগ করলে স্বামীকে বর্জন করে না, আর কখনোই স্বামীর শয্যা পরিত্যাগ করে না; যদিও সে তাঁর প্রতি ক্রোধান্বিত থাকে। কেননা সে জানে, তার সত্যপন্থি সত্যায়িত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا بَاتَتْ الْمَرْأَةُ مُهَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتّٰى تَرْجِعَ “যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে অন্যত্র রাত কাটায়, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সে স্বামীর শয্যায় ফিরে না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার বিরুদ্ধে লানত করতে থাকেন।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৯৪; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৩৬]


নারীরা এ হাদিসের প্রতি আমল করা থেকে কোথায় রয়েছে? এ যুগের নারীরা কোথায়? ওই নারীরা কোথায় রয়েছে, যাদের কেউ রাগান্বিত হলে নিজের ব্যাগ নিয়ে পিত্রালয়ে গমন করে, দিনের পর দিন সেখানে অবস্থান করে; আর তার পরিবারের লোকেরা তার স্বামীর মোকাবেলা করতে থাকে, স্বামীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, স্বামীর কাছে ফিরে যেতে তাকে উৎসাহিত করে না, আর তাকে আদবকেতাও শেখায় না? এগুলো কি স্বামী-শয্যা বর্জনের মতো ভয়াবহ গুনাহর কাজ নয়? আল্লাহর কসম, এই স্ত্রী স্বীয় পতির শয্যা বর্জনকারী রমণী। যার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানিয়েছেন, “যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে অন্যত্র রাত কাটায়, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সে স্বামীর শয্যায় ফিরে না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার ওপর লানত বর্ষণ করতে থাকেন।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৯৪; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৩৬]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ “কোনো লোক যদি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে, আর সে আসতে অস্বীকার করে; ফলে সেই ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতাগণ এমন স্ত্রীর বিরুদ্ধে সকাল পর্যন্ত লানত দিয়ে থাকেন।” [সহিহ বুখারি, হা: ৩২৩৭; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৩৬]
·
[চার. স্বামীর প্রতি মমতাময়ী হওয়া]


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অন্যতম অধিকার হচ্ছে—স্বামীর প্রতি সে হবে মমতাময়ী, স্নেহশীলা এবং তার জন্য হবে প্রশান্তির নিবাস। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً “তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে মমতা ও অনুকম্পা তৈরি করেছেন।” [সুরা রুম: ২১] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, نسَاؤُكُم من أَهْل الجَنَّة الوَدُود الوَلوْد العَؤودُ “তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; জান্নাতী স্ত্রী হবে সে, যে অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, বারবার ভুল করে বারবার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী।” [নাসায়ি কৃত সুনানুল কুবরা, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৯১৩৯; সিলসিলা সহিহা, হা: ২৮৭; সনদ: সহিহ]


কল্যাণময়ী রমণী জবান দিয়ে কথার মাধ্যমে স্বামীর প্রতি মমতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করে; যদিও সে তা করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করে ফেলে এবং স্বামীর শুনতে ভালো লাগবে এমন কথা মিথ্যে করে বলে। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর কাছে স্বামীর আলাপে এবং স্বামীর কাছে স্ত্রীর আলাপে মিথ্যে বলার অনুমোদন দিয়েছেন। তাই স্বামীর কাছে স্ত্রী মিথ্যে বললে এতে কোনো সমস্যা হবে না। বাস্তবে স্ত্রীর অন্তরে নেই এমন মিছে ভালোবাসার কথা স্বামী বললে কোনো সমস্যা হবে না। স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর শুনতে ভালো লাগবে এমন কথা মিথ্যে করে বলায় কোনো ক্ষতি নেই। যদিও স্ত্রী খুব ভালো করেই জানে, সে মিথ্যে বলছে। কারণ এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

পুণ্যবতী রমণী নিজের দিব্যকান্তি রূপ দিয়েও স্বামীর প্রতি মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। নবি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশ্রেষ্ঠ রমণী প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, الَّتي تُطيعُ زوجَها إذا أمرَ، وتسرُّهُ إذا نظرَ “যে স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী কোনো কাজের নির্দেশ দেন এবং স্বামী যার প্রতি দৃষ্টি দিলে সে স্বামীকে আনন্দমোহিত করে দেয়।” [নাসায়ি, হা: ৩২৩১; সনদ: হাসান] স্বামীকে কষ্ট দেয় এমন কোনোকিছুই সে কখনোই স্বামীকে শোনায় না এবং এমনকিছু তাকে দেখায়ও না। কল্যাণময়ী পুণ্যবতী রমণী স্ত্রীকে কষ্ট দিতে ভয় পায়; তা সে কষ্ট কথার মাধ্যমেই দেওয়া হোক, কিংবা দৃষ্টি, বা আবদার, কিংবা কর্ম, অথবা নিজের মন্দ আকৃতির মাধ্যমেই দেওয়া হোক।


কারণ কী? কেননা সে জানে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا إِلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ لاَ تُؤْذِيهِ قَاتَلَكِ اللَّهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا ‏ “পৃথিবীতে কোনো স্ত্রী যখনই তার স্বামীকে কষ্ট দেয় তখনই জান্নাতের আয়তলোচনা হুরদের মধ্যে তার (ভাবী) স্ত্রী বলে ওঠে, আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন! উনাকে কষ্ট দিস না। তোর নিকট তো তিনি ক্ষণিকের মেহমান মাত্র। শীঘ্রই তোর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি আমাদের নিকট চলে আসবেন।” [তিরমিজি, হা: ১১৭৪; ইবনু মাজাহ, হা: ২০১৪; সনদ: সহিহ]
·
[পাঁচ. স্বামীর ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষা করা]
স্ত্রীর ওপর স্বামীর একটি অন্যতম অধিকার—সে নিজেকে হেফাজত করার মাধ্যমে স্বামীর সম্ভ্রম রক্ষা করবে, স্বামীর হেফাজতের মাধ্যমেও তাঁর সম্ভ্রম রক্ষা করবে এবং স্বামীকে ফিতনায় ফেলবে না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশ্রেষ্ঠ রমণী প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, الَّتي تُطيعُ زوجَها إذا أمرَ، وتسرُّهُ إذا نظرَ وَتحفَظُهُ فِي نفسِهَا ومالِهَا “যে স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী কোনো কাজের নির্দেশ দেন, স্বামী যার প্রতি দৃষ্টি দিলে সে স্বামীকে আনন্দমোহিত করে দেয়, আর নিজের ব্যাপারে ও স্বামীর সম্পদের ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার সংরক্ষণ করে।” [নাসায়ি, হা: ৩২৩১; সনদ: হাসান] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ وَضَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا فَقَدْ هَتَكَتْ سِتْرَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّه “যে নারীই স্বামীগৃহ ব্যতীত অন্যত্র তার পরিধেয় বস্ত্র খোলে, সে তার ও আল্লাহর মধ্যকার পর্দা ছিন্ন করে ফেলে।” [আবু দাউদ, হা: ৪০১০; তিরমিজি, হা: ২৮০৩; ইবনু মাজাহ, হা: ৩৭৫০; সনদ: সহিহ]
সুপ্রিয় উপস্থিতি, এসবকিছুর নির্দেশনা স্বামীর সম্ভ্রম হেফাজতের জন্য দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর জন্য স্বামীগৃহ বা এর সমপর্যায়ভুক্ত কোনো স্থানের বাইরে পরিধেয় বস্ত্র খোলা নিষিদ্ধ। যেমন তারা দুজনে কোনো হোটেলে ওঠেছে অথবা স্ত্রী স্বামীর অনুমতি নিয়ে তার পরিবারগৃহে গমন করেছে, তখন এর বাইরে পোশাক খোলা নিষেধ। কারণ এ কাজ আল্লাহ ও স্ত্রীর মধ্যকার আভরণীয় পর্দা উন্মোচনের শামিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ثَلَاثَةٌ لَا تَسْأَلْ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَعَصَى إِمَامَهُ وَمَاتَ عَاصِيًا وَأَمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبَقَ فَمَاتَ وَامْرَأَةٌ غَابَ عَنْهَا زَوْجُهَا قَدْ كَفَاهَا مُؤْنَةَ الدُّنْيَا فَتَبَرَّجَتْ بَعْدَهُ “তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো প্রশ্নই কোরো না (কারণ এদের পরিণতি বড়ো ভয়ানক আর এদের পাপও অনেক বড়ো)। (১) যে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ জামাআত ত্যাগ করে মুসলিম শাসকের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, (২) যে ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী নিজ মনিব থেকে পলায়ন করে মারা যায়, (৩) আর সেই নারী, যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে—তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসের বন্দোবস্ত করে দেওয়া সত্ত্বেও—তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দায় বেরোয়।” [মুসনাদু আহমাদ, খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ১৯; সিলসিলা সহিহা, হা: ৫৪২; সনদ: সহিহ]
যে নারীর স্বামী নিজের কাজে বাইরে গেছে। নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গিয়েছে। সে চেয়েছে নিজের স্ত্রীর ভরণপোষণের সুবন্দোবস্ত করতে। কিন্তু সে যখন বাইরে গিয়েছে তখন তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী বেপর্দা-বেআব্রু হয়েছে। বেগানা পুরুষদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছে, বেপর্দা-বিশৃঙ্খল আচরণ করেছে এবং স্বামীর খেয়ানত করে বসেছে। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এই মহিলা চরমতম গুনাহে নিপাতিত হয়েছে। কেননা সে আপন দয়িতের অধিকার সংরক্ষণ করেনি, দয়িতের সম্ভ্রম রক্ষা করেনি। বরকতময়ী পুণ্যবতী নারী স্বামীর অধিকার-সম্ভ্রম সংরক্ষণে উদগ্রীব থাকে, তাকে একটি কথার মাধ্যমেও ফিতনার সম্মুখীন করে না। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّه يَنْظُرُ إِلَيْهَا “কোনো নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর কলেবরের বিবরণ নিজ ধর্মপতির নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ওই নারীকে) চাক্ষুস দেখতে পাচ্ছে।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫২৪০ ও ৫২৪১]
সুপ্রিয় উপস্থিতি, নারীর জন্য যদি আপন স্বামীর কাছে অন্য রমণীর দেহসৌষ্ঠবের বিবরণ দেওয়াও নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে তার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, যে তার সখীদের ফটো তুলে এবং নিজের বাড়িতে সেসব ফটো রেখে দেয়?! ওই নারীর ব্যাপারটি কীরূপ হতে পারে, যে নিজের ফোন দিয়ে মেয়েদের ছবি তুলে স্বামীকে দেখায়?! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। নারীর জন্য যেহেতু আপন স্বামীর কাছে অন্য রমণীর দেহসৌষ্ঠবের বিবরণ দেওয়াও নিষিদ্ধ, সেহেতু নিঃসন্দেহে স্বামীর কাছে এমন আবদার করাও নিষিদ্ধ, যা স্বয়ং তাকে কিংবা তার স্বামীকে ফিতনার সম্মুখীন করে। যেমন টিভি বা ডিশ চ্যানেল, ছবি-মূর্তি, ম্যাগাজিন প্রভৃতি। স্বামী-স্ত্রী দুজনকে ফিতনায় নিপাতিত করে এমন কিছুর আবদার করা স্ত্রীর জন্য সন্দেহাতীতভাবে না-জায়েজ।
·
[ছয়. স্বামীর গুপ্তবিষয়কে সংরক্ষণ করা]

স্ত্রীর ওপর স্বামীর আরেকটি অন্যতম অধিকার—সে আপন ধর্মপতির গোপন বিষয় হেফাজতে রাখবে, যে গুপ্তবিষয়ের দ্বার সে বন্ধ করেছে তা অন্যের কাছে বলে বেড়াবে না; বিশেষত স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মেলামেশার কথা কাউকে বলবে না। নিজের মা, কিংবা আপন বোন, বা অতি নিকটতম বান্ধবীকেও বলবে না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ألا هل عستِ امرأةٌ أن تُخبِرَ القومَ بما يكون من زوجِها إذا خلا بها؟ ألا هل عسى رجلٌ أن يُخبِر القومَ بما يكون منه إذا خلا بأهله؟ فقامت منهن امرأةٌ فقالت : واللهِ إنهم ليفعلون ، وإنهنَّ لَيفْعَلْنَ. قال : فلا تفعلوا ذلك ، أفلا أُنبِّئُكم ما مِثلُ ذلك ؟ مثلُ شيطانٍ أتى شيطانةً بالطريق ؛ فوقع بها والناسُ ينظُرون “সাবধান! কোনো নারী কি মানুষদের জানিয়ে দেয় স্বীয় পতির সেসব বিষয়, যখন সে স্ত্রীর সাথে একান্তে মিলিত হয়? সাবধান! কোনো পুরুষ কি মানুষদের জানিয়ে দেয় নিজের সেসব কার্যকলাপের কথা, যখন সে স্ত্রীর সাথে একান্তে মিলিত হয়?” তখন জনৈক মহিলা বলে ওঠল, ‘আল্লাহর কসম, পুরুষরাও একাজ করে থাকে, আবার নারীরাও একাজ করে থাকে।’ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা এমন কাজ কোরো না। আমি কি তোমাদেরকে এ কাজের দৃষ্টান্ত বলে দেব না? এর দৃষ্টান্ত—একজন শয়তান অপর এক শয়তানীর সাথে বাজারঘাটে রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়, আর লোকেরা তা তাকিয়ে দেখতে থাকে।” [খারাইতি কৃত মাসায়িউল আখলাক, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪৩০; সিলসিলা সহিহা, হা: ৩১৫৩; সনদ: সহিহ]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا “কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তি হবে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পর্যায়ের, যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে মিলিত হয়, এরপর সে নিজ স্ত্রীর গুপ্তবিষয় ফাঁস করে দেয়।” [সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৩৭; বিবাহ অধ্যায় (১৭); পরিচ্ছেদ: ২১]
·
[সাত. স্বামীগৃহের হেফাজত করা এবং স্বামীর বিরাগভাজন কাউকে বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া]


স্বামীগৃহের হেফাজত করা এবং স্বামীর বিরাগভাজন কাউকে বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া স্ত্রীর প্রতি স্বামীর একটি গুরুত্ববহ অধিকার। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَكُمْ علَيهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَه “স্ত্রীদের ওপরে তোমাদের অধিকার হচ্ছে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোনো লোককে বসতে না দেয়, যাকে তোমরা অপছন্দ করো।” [সহিহ মুসলিম, হা: ১২১৮; হজ অধ্যায় (১৬); পরিচ্ছেদ: ১৯] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ أَلاَّ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ وَلاَ يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ “তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি তোমাদের অধিকার এই যে, তোমরা যাদেরকে পছন্দ করো না তারা যেন সেসব লোককে তোমাদের শয্যা মাড়াতে না দেয় এবং যেসব লোককে তোমরা অপছন্দ করো তাদেরকে যেন তোমাদের গৃহে প্রবেশের অনুমতি না দেয়।” [তিরমিজি, হা: ১১৬৩; ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৫১; সনদ: হাসান]
·
[আট. স্বামীর ধনসম্পদ সংরক্ষণ করা এবং ধর্মপতির অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর সম্পদ দান না করা]
স্বামীর ধনসম্পদ সংরক্ষণ করা এবং ধর্মপতির অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর সম্পদ দান না করাও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর একটি অন্যতম অধিকার। আমরা শুনে এসেছি, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ রমণীর ব্যাপারে বলেছেন, “যে নিজের ব্যাপারে এবং স্বামীর সম্পদের ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার সংরক্ষণ করে।” [নাসায়ি, হা: ৩২৩১; সনদ: হাসান] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, لَا يحِلّ لامْرَأةٍ أنْ تعْطِيَ مِن مَالِ زَوجِهَا شَيئًا إِلّا بِإذنِهِ “কোনো নারীর জন্য দয়িতের অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর সম্পদ থেকে কোনোকিছু দান করা বৈধ নয়।” [তায়ালিসি কৃত মুসনাদ, হা: ১২২৩; সামান্য শব্দের ভিন্নতায় বর্ণিত হয়েছে আবু দাউদে (হা: ৩৫৬৫), তিরমিজিতে (হা: ৬৭০) ও ইবনু মাজাহয় (হা: ২২৯৫); সনদ: হাসান]


স্বামী যদি দান করার অনুমতি দেয়, তাহলে ন্যায়সঙ্গতভাবে কোনো ক্ষতি না করে দান করলে তারা দুজনেই সওয়াব পাবে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا أَنْفَقَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ طَعَامِ بَيْتِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ كَانَ لَهَا أَجْرُهَا بِمَا أَنْفَقَتْ وَلِزَوْجِهَا بِمَا كَسَبَ “যখন কোনো রমণী আপন গৃহের খাদ্যসামগ্রী হতে কোনো ক্ষতি না করে দান করে, তখন তার জন্য সওয়াব ধার্য হয় এ দানের দরুন, আর তার স্বামীর জন্যও সওয়াব ধার্য হয় তার উপার্জনের দরুন।” [সহিহ বুখারি, হা: ২০৬৫; সহিহ মুসলিম, হা: ১০২৪] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, إِذَا تَصَدَّقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا كَانَ لَهَا أَجْرٌ وَلِزوْجهاِ مِثْلُ ذَلِكَ ، لاَ يَنْقُصُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُما مِنْ أَجْرِ صَاحِبِهِ شَيْئًا “স্বামীর ঘর থেকে স্ত্রী কোনো কিছু দান করলে এতে তার সওয়াব হয়। স্বামীরও সমপরিমাণ সওয়াব হয়। এতে একজন অপরজনের কিছু পরিমাণ সওয়াবও কমাতে পারে না।” [তিরমিজি, হা: ৬৭১; নাসায়ি, হা: ২৫৩৯; সনদ: সহিহ]


আলিমগণ বলেন, স্বামীগৃহ থেকে কিংবা স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান-সদকা করার তিনটি অবস্থা রয়েছে। প্রথম অবস্থা: ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নির্দিষ্টভাবে কোনো দানের অনুমতি দেয়, এতে স্ত্রীর জন্য যেমন পূর্ণ নেকি রয়েছে, তেমনি স্বামীর জন্যও রয়েছে পরিপূর্ণ নেকি; এতে তাদের কারও নেকিতে কম করা হবে না। দ্বিতীয় অবস্থা: ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজের সম্পদ থেকে দান করার নিমিত্তে আমভাবে অনুমতি দিয়ে রাখে। এক্ষেত্রে স্ত্রী পাবে অর্ধেক নেকি, আর স্বামীও পাবে অর্ধেক নেকি। তৃতীয় অবস্থা: ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তার সম্পদ থেকে দান করার অনুমতি দেয় না। এক্ষেত্রে স্ত্রী দয়িতের সম্পদ থেকে দান করলে দয়িতের জন্য একটি নেকি বরাদ্দ হবে। আর স্ত্রীর জন্য ধার্য হবে পাপ। আল্লাহর কাছে পানা চাই।
·
[নয়. স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা না রাখা]


স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা না রাখা স্ত্রীর ওপর স্বামীর আরেকটি অধিকার। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِه “যখন স্বামী উপস্থিত থাকবে, তখন স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলার জন্য রোজা রাখা বৈধ নয়।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৯৫; সহিহ মুসলিম, হা: ১০২৬]
·
[শেষের উপদেশ]


দয়িতের অধিকার বিষয়ে সদা-সচেতন কল্যাণময়ী পুণ্যবতী রমণী স্বামীর ভুলত্রুটি মার্জনা করে দেয়, স্বামীর প্রমাদ থেকে চক্ষু সরিয়ে নেয়। সে স্বামীর পরিবারপরিজনকে সম্মান করে, জীবনসঙ্গী দয়িতের বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখে, তাঁর কাপড়গুলো ধুয়ে দেয় এবং তাঁর জন্য খাবার রান্না করে। শৌহর যদি তার একটু কাছে আসে, তবে সেও তার কাছে এগিয়ে যায়। স্বামীর নাসিকা ও শ্রবণের ব্যাপারেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বামী উত্তম বৈ অন্যকিছুর গন্ধ পায় না, উত্তম ভিন্ন অন্যকিছু শোনে না, সুন্দর ছাড়া অন্যকিছু দেখে না। স্বামীর খাবারের সময়ের প্রতি খেয়াল রাখে, স্বামী ঘুমোলে শব্দ না করে পরিবেশ শান্ত রাখে। স্বামীকে ক্রোধান্বিত দেখলে তাঁর কথার পাল্টা জবাব দেয় না। বিজ্ঞজনের এ চরণগুলো সে মেনে চলে,
“আমায় তুমি মার্জনা কোরো, দেখবে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা হয়েছে স্থায়ী।
আমার উত্তেজনায় বল না কথা, যখন আমি থাকি ক্রোধান্বিত।


দফ বাজানোর মতো একটিবারের জন্যও আমায় টোকা দিয়ো না, যেহেতু নিগূঢ়-অবগুণ্ঠিত বিষয় কী তা নেই তোমার জানা।


অনুযোগ-অভিযোগ করো না অধিক, যার দরুন আমার অনুরাগ যায় চলে, আর আমার অন্তর হয় তোমার প্রতি বিরাগী, অবশ্য অন্তরগুলো যে পরিবর্তিত হয় তা আছে তোমার অবগতিতে।


কারণ আমি দেখেছি, যখনই অন্তরে ভালোবাসা আর আঘাত হয় একত্রিত, ভালোবাসা তথায় না থেকে হয় অপসৃত।”


স্বামীর অধিকার বিষয়ে নারীর প্রতি এই ছিল ইসলামের দিকনির্দেশনা। নারীরা যদি এসব নির্দেশনা মেনে চলে, তাহলে বাড়িগুলো হবে সুখে ভরপুর। কিন্তু বর্তমানে কিছু মহিলা এ অধিকারগুলো সম্পর্কে সচেতন নয়। যার ফলে বিবাহবিচ্ছেদ, মারধোর ও অনৈক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অধুনা আমরা এমন মহিলাদের কথাও শুনছি, যারা কিনা নিজেদের কোমলতা ও কমনীয়তার ব্যাপারেও উদাসীন হয়েছে, নারীত্বের গূঢ় রহস্যও বিস্মৃত হয়েছে। ফলে সে পরিণত হয়েছে নিপীড়ক বাঘিনীতে। সে তার দুর্বল স্বামীর ওপর আধিপত্য জাহির করে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।


স্বামীকে নিজের সম্পদ থেকে কিছু দিলে তার খোঁটা দিতে ভুলে না। স্বামীর কাছে কিছু চেয়ে না পেলে স্বামীকে ‘ফকির ও অক্ষম’ বলে অপমান করে। স্বামী ঘরে ঢুকলে মুখ আঁধার করে রাখে, স্বামীকে গালিগালাজ করে। স্বামী বাইরে বেরোলে তার ঘাড়ে ধাক্কা দেয়। স্বামী কখনোই তার চক্ষুদ্বয় পূর্ণ করতে পারে না। ধর্মপতিকে পেয়ে সে পরিতৃপ্ত হয় না। সকল দরজা দিয়ে সে নিজেকে প্রদর্শন করে, আর প্রতিটি জানালা দিয়ে উঁকি মারে। পরপুরুষের কাছে নিজের চেহারা কিংবা চেহারার কিয়দংশ প্রকাশ করে।


স্বামীর সাথে কথা বললে তার কথা হয় এমন—‘অমুকের বর ওর জন্য এটা বানিয়ে দিয়েছে, অমুকের স্বামী তার জন্য এটা করেছে, আমার পোড়াকপাল! আমাকে সম্ভ্রান্ত ঘরের লোকেরা বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমার কী ভাগ্য!’ সে স্বামীর সাথে পতিগৃহে থাকলে নিজেকে বন্দিনী মনে করে। সৌরভ আর সাজগোজ পরিত্যাগ করে। তার জীবনসঙ্গী দয়িত তার দিকে নজর দিলে কষ্ট পায়, খারাপ লাগে। কারণ সে দেখে বিক্ষিপ্ত কেশ, ময়লা ভরা এলোমেলো পোশাক। সে পতিগৃহে থাকলে নোংরা হয়ে থাকে, গায়ের ত্বক থাকে অপরিচ্ছন্ন। আর বাইরে বেরোলেই সে সুরভি মেখে সাজুগুজু করে নেয়।


এই হতভাগিণী নিজের সবচেয়ে ভালোগুলো জনমানুষের জন্য নির্ধারণ করে, আর সবচেয়ে খারাপগুলো ধার্য করে আপন ধর্মপতির জন্য। সে যদি বান্ধবীদের কাছে যায়, তখন সে থাকে খোশমেজাজে, হাসিখুশি, সদাপ্রফুল্ল। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, তার উপবেশনও হয় বড়ো মধুর। তার কথা আর উপবেশনে ক্লান্তির লেশও থাকে না। কিন্তু সে-ই যখন বাড়ি ফেরে, তখন পরিণত হয় সিংহিনীতে। কথা বললে আগুনের হলকা বেরোয়। কাজ করলেও দোষ করে বসে। আপন পতির জন্য তার মাঝে কোনো ভালো জিনিসের দেখা মেলে না। এই মহিলা আসলেই হতভাগিণী। সে কীভাবে সুখের সন্ধান করতে পারে, অথচ সে আপন ধর্মের বিরোধিতা করে চলেছে, নিজের রবকে ক্রোধান্বিত করেছে, আর দয়িতকে করে রেখেছে অসুখী-অসহায়?! তার উচিত আত্মসমালোচনায় আত্মনিয়োগ করা। কারণ এ জীবনের একটি সুনির্ধারিত মেয়াদ আছে, রয়েছে এর পরিসমাপ্তি।
·
আগামী পর্বে সমাপ্য, ইনশাআল্লাহ।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
www.facebook.com/SunniSalafiAthari

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 − 16 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য