ফরাসি নাগরিক সারাহ আসমেতা কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধানের অধিকার ফিরে পেতে আইনি সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন, যা ফ্রান্সে ‘আত্মপরিচয় ও অভিবাসন’ ইস্যুকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ৩০ বছর বয়সী আসমেতা পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধান করেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আইনজীবী সমিতি তাকে ‘বিচার কক্ষে’ মক্কেলদের প্রতিনিধিত্ব করতে নিষেধ করেছে।
আসমেতা তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথম আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেছে এবং উত্তরাঞ্চলীয় শহর লিলিতে অবস্থিত ‘আইএক্সএডি’ আইন স্কুলে প্রথম ব্যক্তি যে হিজাব পরিধান করত। তিনি বলেন, ‘আমার দেশে আমি এমন একটি ধারণা মেনে নিতে পারি না যে এমন পেশা যাতে আমি সক্ষম তা অনুশীলনে আমার নিজস্ব পোশাক খুলে ফেলতে হবে।
আগামী বুধবার ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত আসমেতার মামলার রায় প্রদান করবে। ধারণা করা হচ্ছে, রায়টি ফ্রান্সের ইতিহাসে নজির স্থাপন করবে এবং দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। অবশ্য বর্তমানে ফ্রান্সের জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় আত্মপরিচয় ও অভিবাসন ইস্যু তুমুল বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশির ভাগ আইনজীবী সমিতি ধর্মীয় পরিচয় বহনকারী পোশাক পরিধান করা যাবে না মর্মে আইন জারি করেছে। এর আগে ২০০৪ সালে সরকারি স্কুলে হিজাব পরিধান এবং ২০১০ সালে প্রথম ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে ফ্রান্স বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ করে।
উল্লেখ্য, ইসলামী শরিয়তে নারীদের জন্য হিজাব পরিধান করা বাধ্যতামূলক। তাই ‘ধর্মীয় পরিচয় বহনকারী’ পোশাক নিষিদ্ধকরণে মুসলিম নারীদের প্রতি সুনির্দিষ্ট ও পরোক্ষ বৈষম্য আছে’ বলে আদালতকে জানান আসমেতার আইনজীবী ক্লেয়ার ওয়েকেট।
সূত্র : রয়টার্স
