জাতি-গোষ্ঠী ও সভ্যতা-সংস্কৃতিতে ব্যক্তি ও মতবাদের প্রভাব নির্ধারণ করা এবং তাকে সীমাবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব হলেও আমরা সংক্ষেপে এমন ১০টি মৌলিক ও মূল্যবান অবদান চিহ্নিত করার চেষ্টা করব, যা মানব ইতিহাসে দিকনির্দেশনা, তার কল্যাণ ও সাফল্য, তার গঠন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এবং জীবন্ত ও উজ্জীবিত পৃথিবী গড়তে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। যার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো মতবাদ ও বিশ্বাসের কোনো প্রকার সাদৃশ্য নেই। অবদানগুলো হচ্ছে—
১. স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট একত্ববাদের ধারণা।
২. মানবীয় ঐক্য ও সাম্যের ধারণা।
৩. মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা।
৪. নারীর সামাজিক মর্যাদা ও তার অধিকার পুনরুদ্ধার।
৫. হতাশা ও কুধারণার পরিবর্তে হৃদয়ে হৃদয়ে আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণী ছড়িয়ে দেওয়া।
৬. দ্বিন ও দুনিয়ার সমন্বয় এবং বর্ণবাদ ও শ্রেণিসংগ্রাম, শ্রেণিবৈষম্যের অপসারণ।
৭. জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্মের পবিত্র ও স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপন এবং পরস্পরের ভাগ্য পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া। জ্ঞানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন। তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম বানানো।
৮. জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা ধর্মীয় বিষয়ে উপকৃত হওয়া এবং জীবন ও মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা-ভাবনার প্রতি উৎসাহ দান।
৯. মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনেতৃত্ব প্রদানকারী ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক চরিত্র দান, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশ্বিক চিন্তাধারার অধিকারী করা এবং পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের সাক্ষ্য দানের দায়িত্ব প্রদান।
১০. ঈমান, ইসলাম ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বৈশ্বিক সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলা।
এ বিষয়গুলো মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত-পূর্ব জাহেলি যুগ ও সভ্যতা-সংস্কৃতিগুলো এবং ইসলামের আবির্ভাবের যুগ, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও ইনসাফের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনার দাবি রাখে। তা করা হলেই এসব ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক ও বিপ্লবী প্রভাবগুলো সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয় এবং তা দ্বারা ইসলামের ব্যাপকতা, বিস্তৃতি ও অভ্যন্তরীণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
