Wednesday, October 14, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকহুমকির মুখে সউদী শ্রমবাজার

হুমকির মুখে সউদী শ্রমবাজার

জনশক্তি রফতানি খাতে চলছে ভাটার টান। জনশক্তি রফতানির সর্বোচ্চ বাজার সউদী আরবের বিভিন্ন সেক্টরে পচিশ লক্ষাধিক বাংলাদেশি নারী-পুরুষ কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। এসব অভিবাসী বাংলাদেশি উভয় দেশের সার্বিক উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখছেন। অতিসমম্প্রতি সউদী আরবে ইরান সমর্থিত হুতিদের অব্যাহত হামলায় হতাহতের ঘটনায় দেশটির শ্রমবাজার হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সউদীর রিয়াদে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ও ঢাকায় আত্মীয় স্বজনের বাসা, হোটেলে অপেক্ষমান সউদী গমনেচ্ছু হাজার হাজার কর্মীদের মাঝে বাড়ছে নানামুখী শঙ্কা। চরম দুর্ভোগের শিকার আটকেপড়া সউদীগামী যাত্রীদের কারো কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কবে নাগাদ দেশটিতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে তা’ কেউ কিছু বলতে পারছে না। আটকে পড়া সউদীগামী কর্মীদের দুর্ভোগ লাঘবে সাউদিয়া অ্যাবিয়ান এয়ারলাইন্স বিকল্প রুটে যাত্রীদের সউদী কর্মস্থলে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অপেক্ষমান সউদীগামী যাত্রীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। সউদীতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে আরো বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সউদী গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দেশটিতে নিরাপদ অভিবাসনে সরকারকে আগ থেকেই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন সউদী বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক অবস্থা অবহিত হয়ে সউদীগামী সকল ফ্লাইট স্থগিতের বিষয় ব্রিফিং করে জানিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের আটকেপড়া সউদী যাত্রীদের দেখ ভাল করার এবং নাস্তা- খাবার সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। সউদী গমনেচ্ছু কর্মীরা ভিটেমাটি ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অভিবাসনের টাকা যোগার করে সউদী গমনের লক্ষ্যে স্ব স্ব বাড়ী ত্যাগ করেছিলেন। যথাসময়ে এসব অপেক্ষমান কর্মী দেশটিতে পৌঁছতে না পারলে চাকরির ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন অনেকই। বিদেশ গমনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে বিদেশগামী কর্মীদের অনেক আত্মীয় স্বজন বাড়ী থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফ্লাইট বাতিলের এই পরিস্থিতি সউদী আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য শুধু যাতায়াতের ভোগান্তি নয়, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। আটকে পড়া কর্মীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানো, ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা এবং নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সউদী আরবের রিয়াদ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর ভয়াবহ হুতি হামলায় ২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের জরুরি ভিত্তিতে কিছু কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। তবে এই মুহূর্তে দেশটির অভিবাসন সেক্টর দীর্ঘমেয়াদি কোনো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে না। অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রফতানিকারক মহিউদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার ইনকিলাবের সাথে আলাপকালে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আকস্মিক এই সংকটে বাংলাদেশ সরকারের করণীয় এবং অভিবাসন খাতের ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের করণীয়: নিহত ও আহতদের দ্রুত সহায়তা দিতে হবে। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে, নিহত বাংলাদেশিদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সউদী কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা। জরুরি ট্রাভেল ও হেল্পলাইন সেবাচালুকরণ : বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকা-রিয়াদ, ঢাকা-দাম্মাম রুটের একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ভুক্তভোগী প্রবাসীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা এবং বিকল্প ট্রানজিট বা ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সউদীতে অবস্থানরত প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য দূতাবাস থেকে জরুরি নোটিশ জারি করা দরকার। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই এই বেসামরিকস্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ বজায় রাখা উচিত। সউদী আরবের অভিবাসন বা শ্রমবাজার দীর্ঘমেয়াদি কোনো বড় আশঙ্কায় পড়ছে না। এর পেছনে মূল কারণগুলো হলো: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যব¯’ার আধুনিকায়ন: সউদী আরব তার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পাকিস্তান ও মিশর) সহায়তায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। সাময়িক ধাক্কা লাগলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন মেগা প্রজেক্ট: সউদী আরবের বিশ্বকাপ আয়োজনসহ ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পের জন্য এখনো লাখ লাখ বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন। অবকাঠামোগত এই বিশাল চাহিদার কারণে তারা কোনো একক দেশের বা সামগ্রিক অভিবাসন খাত বন্ধ করবে না। সুতরাং, চলমান উত্তেজনা একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করলেও এটি সউদী আরবের শ্রমবাজার বা বাংলাদেশি অভিবাসন খাতের ওপর কোনো স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, সউদী থেকেই আসে রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি বড় অংশ। প্রবাসী কর্মীদের শ্রম-ঘামের পাঠানো টাকায় চলে পরিবার, আর সমৃদ্ধ হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সউদী আরব থেকে দেশে এসেছে ৫৮৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ১৬৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৮ কোটি, আগস্টে ৫৫ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৫০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন সউদী প্রবাসীরা। সউদীতে সংঘাতের ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত প্রায় ৬৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর সউদীযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রিয়াদ ও জেদ্দার বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এবং দাম্মামে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলায় জনশক্তি রফতানি খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ছুটি কাটিয়ে রিয়াদে ফেরার কথা ছিল শত শত যাত্রীর। আগেই টিকিট কেটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন তারা। কিন্ত সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না। বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সউদীগামী রফিকুল বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যেকোনো মূল্যে সউদী আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সবকিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। রফিকুলের মতো হাজারো যাত্রী এখন অনিশ্চয়তায়। সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলাচলকারী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট, সউদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর, এমিরেটসের, কাতার এয়ারওয়েজের , ফ্লাইদুবাইয়ের, সালামএয়ারের এবং ইজিপ্টএয়ারের ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে প্রভাব পড়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সউদয়া এয়ারলাইনস মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা নিয়েছে। দাম্মাম বিমানবন্দরে পৌঁছে যাত্রীরা সড়কপথে নিজ নিজ কর্মস্থলে যেতে পারবেন। সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সউদী আরবের যেসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব, সেগুলো ব্যবহার করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে এবং যাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একাধিক জনশক্তি রফতানিকারক বলছেন, সউদীতে সংঘাতের কারণে কর্মীরা চাকরি হারালে, কর্মঘণ্টা কমে গেলে কিংবা নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে রেমিট্যান্সের ওপর আঘাত আসতে পারে। বিশেষ করে সউদী আরবের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সংকুচিত হলে তার প্রভাব দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী পরিবারের আয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে আটকে পড়া যাত্রীদের বিশেষ ব্যবস্থায় সউদী আরবের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে সউদীয়া এয়ারলাইনস। ওমরাহ হজ যাত্রী ও সউদীপ্রবাসী যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঢাকা থেকে সউদী আরবের দাম্মাম ও জেদ্দা বিমানবন্দরে বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছে। বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি কোনো মাশুলও নিচ্ছে না এয়ারলাইনসটি। আর রিয়াদ বিমানবন্দর হয়ে যেসব ট্রানজিট যাত্রী ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকার মতো অন্য গন্তব্যে যেতেন তাদের অন্য এয়ারলাইনসে নিজ তাগিদে টিকিট ইস্যু করে দিচ্ছে। এমন একসময়ে সউদীয়া এয়ারলাইনস উদ্যোগটি নিল যখন ঢাকা থেকে সউদী আরবগামী ৬২ যাত্রীবাহী ফ্লাইট বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাতিল করা হয়েছে। আর এতে উদ্বিগ্ন হয়ে এয়ারপোর্ট, এয়ারলাইনস অফিসে ভিড় করেছেন হাজার হাজার যাত্রী। উৎকণ্ঠায় আছেন ভিসার মেয়াদ শেষের আগে সউদীর কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কিনা। এই উদ্যোগের ফলে ঢাকা থেকে সউদী আরবগামী সউদীয়া এয়ারলাইনসের যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে। অন্য এয়ারলাইনসগুলো এই কৌশল নিলে ওমরাহ হজ যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও নতুন চাকরি নিয়ে সউদী আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের উদ্বিগ্নের অবসান হতো, ভোগান্তি কমত। বাংলাদেশ থেকে সউদী আরব যেতে সবেচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে সউদী আরবের সরকারী বিমান সংস্থা সউদীয়া এয়ারলাইনস। ঢাকা থেকে সরাসরি রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা রুটে সপ্তাহে ফ্লাইট চালায় এই এয়ারলাইনস। সপ্তাহে ২৭ ফ্লাইটে তাদের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার। ঢাকা থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালায় না সউদীয়া এয়ারলাইনস।
যাত্রী উৎকণ্ঠা কমাতে আটকে পড়া যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইটে দাম্মাম পৌঁছে দিচ্ছে। নিয়মিত শিডিউলের বাইরে বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রীদের জেদ্দায় পৌঁছে দিচ্ছে। সউদীয়া এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (বিজনেস সাপোর্ট) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের ফলে আটকে পড়া যাত্রীদেও সউদী আরব পৌঁছাতে দুটি বিশেষ ফ্লাইট চালিয়েছি। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী আরো বিশেষ ফ্লাইট চলবে। আমাদের নিয়মিত ফ্লাইট এখনো সরাসরি জেদ্দা, মদিনা যাচ্ছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। ততদিন কোন যাত্রী যাতে কষ্ট না পান আমরা সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি জানান, আমাদের প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে। তাদের জন্যও নিজের খরচে অন্য স্টার এয়ারলাইনসে টিকিট ইস্যু করে দিচ্ছি। শিডিউল ফ্লাইটে আসন খালি থাকলে সেখানেও যাত্রী যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বিশেষ ফ্লাইটে যারা যাচ্ছেন তাদের কোনো বাড়তি মাশুল দিতে হচ্ছে না। আমাদের কাছে যাত্রী সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সউদী আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ৬২টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এতে ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য