Saturday, October 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররংপুরে গভীর নলকূপে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপের পানি, চাঞ্চল্য

রংপুরে গভীর নলকূপে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপের পানি, চাঞ্চল্য

রংপুর সদর উপজেলার কয়েকটি বাড়ির গভীর নলকূপ থেকে ফটন্ত পানি বের হওয়ার খবরে সেখানে ভির জমেছে উৎসুক মানুষের। উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী শফিউল আলম বাবুসহ আশপাশের ছয়টি নলকূপে এই ফুটন্ত পানির সন্ধান মেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

খবর পেয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা পানির তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার চনন্দপাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানান, মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিম মন্ডলের ছেলে শফিউল আলম বাবু মাস সাতেক আগে তার নিজ বাড়িতে গভীর নলকূপটি স্থাপন করান। বৃহস্পতিবার বিকেকে হঠাৎ করেই ওই নলকূপ থেকে ফুটন্ত গরম পানি বের হওয়া শুরু করে। তিনি বলেন, বিষয়টি জানামাত্রই আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বাবু ছাড়াও আশপাশের পাঁচ-ছয়টি বাড়ির নলকূপ থেকে ফুটন্ত গরম পানি রেব হচ্ছে। সহজেই সেই পানি দিয়ে চা তৈরি করে খাওয়া সম্ভব। গরমের কারণে নলকূপের প্লাস্টিকের পাইপে হাতও দেয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আমি সাথে সাথে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে জানাই। তাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে রংপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের পানি পরীক্ষাগারের রসায়নবিদ (কেমিস্ট) আব্দুল জব্বার বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পানি পরীক্ষা করে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পেয়েছি। তবে কেন, কিভাবে এটি হলো তা বলা মুশকিল। জিওলজিক্যাল কোনো কারণে এটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোলিওজিস্ট অথবা মাইনিং স্পেশালিস্ট কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করা হলে কারণ বের হতে পারে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

রংপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ কুমার সাহা জানান, রংপুরে এটি নতুন সমস্যা তৈরি হলো। জিওলজিক্যাল সমস্যার কারণে এটি হতে পারে। আমরা বিষয়টি গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা সরকার সাব্বির আহমেদ জানান, পানি গরম ও গন্ধ থাকলেও খাবার উপযোগী রয়েছে।

শফিউল আলম বাবু জানান, সুপেয় ও নিরাপদ ঠাণ্ডা পানি উত্তোলনের আশায় আমি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ৫৪৫ ফুট গভীর সাব মার্সিবল গভীর নলকূপটি স্থাপন করি। কিন্তু এখন ঠাণ্ডা পানির বদলে সেখান থেকে গরম পানি বের হচ্ছে।

বাবু আরো জানান, নতুন নলকূপ থেকে প্রথম কয়েক দিন ঠাণ্ডা পানিই বের হয়েছে। এরপর ওই নলকূপ থেকে গরম পানি বের হওয়া শুরু হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আরো দু’টি নলকূপ বসানো হয়েছে। তবু পানির কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বাসার ভেতরে বসানো ১৯৫ ফুট গভীর নলকূপের পানি কুসুম কুসুম গরম। সেই পানি দিয়ে রান্নাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না। কিন্তু বাসার বাইরে বসানো নতুন নলকূপটির গভীরতা বেশি হওয়ায় পানিও বেশি গরম।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎচালিত ওই নলকূপটি চালু করলে প্রথম চার-পাঁচ মিনিট হালকা গরম পানি বের হয়। কিন্তু পাচঁ-দশ মিনিট পর ফুটন্ত গরম পানির মতো পানি বের হতে থাকে। বেশ কয়েকদিন থেকে এটি হওয়ায় আমরা ওই পানি ব্যবহার করি না। তবে অনেকেই আসেন। তারা বিভিন্ন পাত্রে করে গরম পানি নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেরই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven − 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য