Thursday, June 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরযেভাবে আজানের সূচনা হয়

যেভাবে আজানের সূচনা হয়

আজান ইসলামের অন্যতম নিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ বিধান। নামাজের জন্য মানুষকে ডাকার মাধ্যম আজান। আজান শুনে মানুষ সব ব্যস্ততা ছেড়ে নামাজে আসে। আজানের শব্দে আছে আল্লাহ তাআলার বড়ত্বের ঘোষণা, আল্লাহর একাত্ববাদের ঘোষণা, রাসুল (সা.)-এর রিসালতের সাক্ষ্যদান ও তাঁর প্রশংসা। আজানে আরো আছে কল্যাণ ও সফলতার প্রতি আহ্বান। এই আজান শুনে বহু অমুসলিম ইসলামকে ভালোবেসেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে।

আজানের সূচনা কখন হয় : সর্বপ্রথম কখন কোথায় আজানের সূচনা হয়—এ নিয়ে কিছু মতভেদ দেখা যায়। তা হলো—ক. সর্বপ্রথম মেরাজের রাতে আজানের সূচনা হয়। মসজিদুল আকসায় জিবরাইল (আ.) আজান ও ইকামত দেন। এবং সেখানে রাসুল (সা.) সব নবীকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ১/৩২৮)

খ. হিজরতের আগে মক্কায় আজানের সূচনা হয়। (হাশিয়াতু ইবনে আবিদিন : ১/৪১৩)

গ. রাসুল (সা.) মসজিদে নববী নির্মাণের পর প্রথম হিজরিতে মদিনায় আজানের সূচনা হয়। এই মত বেশি প্রসিদ্ধ। (সহিহ ইবনে খুজায়মা : ১/১৯০)

ঘ. দ্বিতীয় হিজরিতে কিবলা পরিবর্তনের পর আজানের সূচনা হয়। (ফতহুল বারি : ২/৬২)

যেভাবে আজানের শব্দমালার প্রচলন হয় : আবু উমাইর ইবনে আনাস (রা.) তাঁর এক আনসারি চাচা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) নামাজের জন্য লোকদের কিভাবে একত্র করা যায়, সে বিষয় নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তা দেখে সাহাবিদের কেউ কেউ পরামর্শ দিলেন, নামাজের সময় হলে একটা পতাকা উড়ানো হোক। তা দেখে একে অন্যকে নামাজের সংবাদ জানিয়ে দেবে। কিন্তু এটা রাসুল (সা.)-এর নিকট পছন্দ হলো না। কেউ কেউ প্রস্তাব করল, শিঙ্গা-ধ্বনি দেওয়া হোক। রাসুল (সা.) এটাও পছন্দ করলেন না। কেননা তা ছিল ইহুদিদের রীতি। কেউ কেউ ঘণ্টা ধ্বনি ব্যবহারের প্রস্তাব করলে রাসুল (সা.) বলেন, ওটা নাসারাদের রীতি। উপস্থিত সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) নামে একজন সাহাবি ছিলেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর চিন্তার কথা মাথায় নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। অতঃপর (আল্লাহর পক্ষ হতে) স্বপ্নে তাকে আজান শিখিয়ে দেওয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি অবহিত করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি কিছুটা তন্দ্রাছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে আমাকে আজান ও (ইকামত) শিখিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, একইভাবে ওমর (রা.)ও ২০ দিন আগেই স্বপ্নেযোগে আজান শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে তা ব্যক্ত না করে গোপন রেখেছিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলার পর তিনিও তাঁর স্বপ্নের কথা রাসুল (সা.)-কে জানালেন। রাসুল (সা.) বললেন, তুমি আগে বললে না কেন? তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) এ বিষয়ে আমার আগেই বলে দিয়েছেন। এ জন্য আমি লজ্জিত। রাসুল (সা.) বললেন, বেলাল! ওঠো, এবং আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ তোমাকে যেরূপ নির্দেশ দেয় তুমি তাই করো। অতঃপর বেলাল (রা.) আজান দিলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮)

নামাজ ছাড়া অন্য সময় আজান দেওয়ার বিধান : মূলত আজানের বিধান চালু করা হয়েছে নামাজের সময় ঘোষণা দেওয়ার জন্য। সাধারণত নামাজ ছাড়া আজান দেওয়ার বিধান নেই। তবে হাদিসে নামাজ ছাড়া দুটি সময়ে আজান দেওয়ার বিধান পাওয়া যায়।

ক. নবজাতকের ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া। আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর জন্ম হয় তখন আমি রাসুল (সা.)-কে তাঁর কানে আজান দিতে দেখেছি। (তিরমিজি, হাদিস : ১৫১৪)

খ. কারো ওপর যদি জিনের বদ-আছর পড়ে তখন আজান দেওয়া যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি তোমাদের ওপর জিনের প্রভাব পড়ে বা বদ-আছর পড়ে, তাহলে তোমরা আজান দাও। কেননা, শয়তান আজান শুনলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। (তাবরানি, হাদিস : ৭৪৩৬)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য