কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়ায়েল হাল্লাকের “The murder of God by the State”—এর আলোকে ফাহাম আব্দুস সালামের প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করলে সেকুলারিজমের এক নগ্ন ও স্বৈরাচারী রূপ উন্মোচিত হয়। এখানে সেকুলার আদর্শ নিজেই একজন ‘খোদা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ধর্মের অনুসারীদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে শুরু করে। হাল্লাকের মতে, আধুনিক সেকুলার ব্যবস্থায় রাষ্ট্র চিরাচরিত খোদার জায়গা দখল করে নেয়। ফাহাম যখন নিকাবীদের বর্জনের জন্য “অলিখিত এরেঞ্জমেন্ট” বা “জেন্টেলম্যান্স এগ্রিমেন্টের” কথা বলেন, তখন তিনি আসলে রাষ্ট্রের (বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির) হাতে সেই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ওকালতি করছেন, যা আগে ঐশ্বরিক বা নৈতিক বিধানের আওতাভুক্ত ছিল। অর্থাৎ, রাষ্ট্র বা সেকুলার গোষ্ঠীগুলোই এখন নির্ধারণ করবে কার ইবাদত বা পোশাক জনসমক্ষে “গ্রহণযোগ্য” আর কারটা বর্জনীয়। সেকুলারিজম মানে কেবল ধর্মকে ব্যক্তিগত জীবনে নির্বাসিত করা নয়; হাল্লাকের মতে, এটি হলো রাষ্ট্র কর্তৃক ধর্মকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা। ফাহাম এখানে ঠিক সেই কাজটিই করছেন—তিনি নিজের পছন্দমতো সীমানা টেনে দিচ্ছেন যে মসজিদে নিকাব পরা ‘ধর্ম’, কিন্তু সংসদে তা ‘অস্বস্তি’। এভাবে ধর্মের পরিধি কতটুকু হবে এবং তা কোথায় পালিত হবে, তার চূড়ান্ত ফয়সালা দিচ্ছে সেকুলারিজম। ফাহাম সরাসরি আইন করতে চাইছেন না, কারণ আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে। পরিবর্তে তিনি চাচ্ছেন “জেন্টেলম্যান্স এগ্রিমেন্ট”। এটি সেকুলারিজমের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও অন্ধকার দিক—যেখানে কোনো লিখিত নিয়ম ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জীবনাচারকে সুকৌশলে প্রান্তিক ও সমাজচ্যুত করে ফেলা হয়। এটি মূলত সেকুলারিজমের নিজস্ব এক ‘আধুনিক ফতোয়া’, যা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
