Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে?

কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে?

ভারতশাসিত কাশ্মিরে আবারো অভিযান বাড়িয়েছে ভারতীয় বাহিনী। সংঘর্ষ হচ্ছে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাকামীদের সাথে। গত সপ্তাহে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তালেবান বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশের পর থেকে কাশ্মিরে অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।

১৫ আগস্টের পর তালেবান পুনরায় কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সাথে দুর্বৃত্ত ও পুলিশের গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তালেবান আফগানিস্তানের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত দুই মাসে গুলি ও সংঘর্ষে হিমালয়ান অঞ্চল কাশ্মিরে অন্তত ৪০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।

টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছে হিন্দু ও শিখরাও। যুদ্ধবিরতি লাইনের কাছে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ক’জন ভারতীয় সেনা সদস্য ও সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাকামী।

ভারত এ সহিংসতার জন্য সরাসরি তালেবানকে দায়ী না করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, আজাদ কাশ্মিরের কাছে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কিছু সেনা ক্যাম্পকে শক্তিশালী করেছে ভারত।

গত সপ্তাহে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আফগানিস্তান যেন ‘মৌলবাদ ও সন্ত্রাসীদের’ স্বর্গরাজ্য না হয় সেজন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মতোই এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের পুতুল সরকারের সমর্থক ছিল ভারত। মুজাহিদিনরা পরে ১৯৯২ সালে সে সরকারকে উৎখাত করে।

পরে ২০০১ সালে তালেবান সরকারকে হটাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সাহায্য করেছিল ভারত । গত আগস্টে তালেবান পুনরায় দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া পর্যন্ত তারাই ছিল মূল অর্থ সহায়তাকারী।

১৯৮০ ও ১৯৯০’র দশকে কাশ্মিরি যোদ্ধাদের সাথে আফগান মিলিশিয়াদেরও দেখা গিয়েছিল।

একজন সাবেক কাশ্মিরি যোদ্ধার তথ্য মতে, তখন প্রায় ২০ জন ‘অতিথি মুজাহিদিন’ নিহত হয়েছিলেন এবং ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

ভারত এখনো দুশ্চিন্তা করছে যে, আবারো সেরকম যোদ্ধা ও অস্ত্র এ অঞ্চলে এসে পৌঁছতে পারে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল এম এম নারাভানে বলেছেন, ‘আমরা অতীত থেকে জানতে পেরেছি তালেবান যখন আগে কাবুলে ক্ষমতায় ছিল তখন আফগান-উৎপন্ন সন্ত্রাসীদের জম্মু ও কাশ্মিরে পাওয়া গিয়েছিল।’

‘সুতরাং এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, আবারো একই ঘটনা ঘটতে পারে,’ বলেন তিনি।

২০১৯ সালে দিল্লি কাশ্মিরের আধা-স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর থেকে উপত্যকাটিতে প্রতিবাদের সুযোগ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কিন্তু উপত্যকাটির কেউ কেউ গোপনে আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতায় তালেবানের ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে যে, তারাও একদিন এরকম সফলতা পেতে পারে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কাশ্মিরের প্রধান শহর শ্রীনগরের একজন ব্যবসায়ী এএফপিকে বলেছেন, তারা (তালেবান) যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সামরিক শক্তিকে পরাস্ত করতে পেরেছে, তাই সম্ভাবনা দেখছি একদিন সফল হওয়ার।

সূত্র : এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − 8 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য