Monday, June 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসিলেট মাজারে মাদক বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি

সিলেট মাজারে মাদক বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরেই বদলি করা হলো সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

গত শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে এই নির্দেশনা দেওয়ার একদিন পর তাকে বদলি করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুরে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান মাজারে যান ডিসি সারওয়ার। নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যেকোনো বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজারকেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।

মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানর টাকা স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলো পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলোর আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।

তিনি বলেন, আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এই মাজারগুলোতে যাতে কোনোভাবে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুক মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন শক্ত অবস্থান নেব। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর। তাতে ওলি-আউলিয়া যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে এলেই যেন মনে পবিত্রতা আসে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মাজারের আয় সরকার এক পয়সাও নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মাজারের দান হাতে কালেকশন করবেন না। বাক্সে নেবেন। স্বচ্ছতা রাখবেন। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়। যদিও এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজার ভক্তরা।

প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল (রহ.) মাজারে হাজারও ভক্ত-অনুরাগীরা বিক্ষোভ করেন।

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এ দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য