Saturday, June 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসহজসাধ্য বিয়েতে সমাজের চরিত্র রক্ষা

সহজসাধ্য বিয়েতে সমাজের চরিত্র রক্ষা

বর্তমানের সামাজিক অবস্থার দাবি হলো বিয়েকে সহজসাধ্য করা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। বিয়েতে অপচয় ও অপব্যয় বড় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ যাচ্ছেতাই খরচ করে বিয়ের সময়। বিয়ের বেহিসাবি খরচ বহু পরিবারকে পর্যুদস্ত করে ফেলে। আবার কিছু পরিবার কথিত সামাজিকতা রক্ষার জন্য ঋণের জালে আটকা পড়ে। অথচ তারা চাইলেই এসব থেকে বাঁচতে পারত। একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত কখন ভেঙে যায়? যখন পরিবারটি নিজের সাধ্যের বাইরে কিছু করে। উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ বর্জন করা। সামাজিক এসব রীতিনীতি এভাবেই তৈরি হয় যে মানুষ ভাবে, অমুক ব্যক্তি এভাবে বিয়ে করেছে আমি কেন পিছিয়ে থাকব, আমিও তার মতো বিয়ের অনুষ্ঠান করব, তার চেয়ে বেশি খরচ করে এগিয়ে যাব। সামাজিক প্রচলনের চাপে মানুষ তার সামর্থ্যের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ বিয়েতে খরচ করে, যেন মানুষ দোষ ধরতে না পারে এবং তার সামাজিক মর্যাদা কমে না যায়, যাতে তার বড়ত্ব প্রকাশ পায় এবং সুখ্যাতি হয়। সুতরাং বিয়ে সহজসাধ্য করার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেন মানুষ সামাজিকতার জাঁতাকল থেকে রক্ষা পায় এবং ইসলামের সহজসাধ্য বিয়ের পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পায়। বিয়ের যেসব সামাজিক রীতি সমাজে কুপ্রভাব ফেলছে, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তার বিশ্লেষণ করা। সমাজে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া উচিত যে বিয়েসহ সর্বত্র সুন্নতের অনুসরণ জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

বিয়ে যেন সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে না যায় সে লক্ষ্যে আলেমসমাজ ও দ্বিনদার মানুষ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। তা হলো, যে বিয়েতে অপচয় ও অপব্যয়ের আশঙ্কা আছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেই সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে সে ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা এবং এর সামাজিক কুপ্রভাব বর্ণনা করা। তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ ও নির্দেশনা শোনানো। আশা করা যায়, এতে সুফল আসবে। আর যাদের কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব নয়, সে বিয়েতে অংশগ্রহণ না করা। তাদের এটা বোঝানো যে তোমরা যা করছ, তাতে তোমাদেরই ক্ষতি। আমরা তোমাদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে চাই। আর তোমাদের মাধ্যমে সমাজকেও আমরা রক্ষা করতে চাই। কেননা তোমাদের অপব্যয় বহু মানুষের জন্য বোঝা হয়ে উঠছে, বহু মানুষকে বিয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে, বহু মেয়ের বাবাকে আত্মঘাতী ঋণের খাদে নিক্ষেপ করছে, বিয়েবঞ্চিত যুবক-যুবতীকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করছে। তোমাদের সহজসাধ্য বিয়েতে সমাজের এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব। তাই এসো বৃহত্তর স্বার্থে বিয়েতে অপ্রয়োজনীয় খরচ বর্জন করি। আর যদি খরচ করতেই হয়, তবে আসুন, অতিরিক্ত খরচের অর্থে সেসব ছেলে ও মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করি, যারা অর্থের অভাবে বিয়ে করতে পারছে না, কন্যাদায়গ্রস্ত বাবাকে সাহায্য করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 − 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য