Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ

একসময় গোটা পৃথিবীতে ধর্মীয় বিভেদ ছিল না। সব মানুষ এক উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদম ও নুহ (আ.)-এর মধ্যে ১০ শতাব্দীর ব্যবধান ছিল। আর এ দীর্ঘ সময় তারা সবাই খাঁটি মুসলিম ছিলেন।

অতঃপর কালক্রমে তারা নেক ও সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন শুরু করে। ফলে তাদের আকিদা-বিশ্বাস কলুষিত হয়।
ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা আকিদা ও বিশ্বাসকে বিনষ্ট করে ফেলে। এটি একটি জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। কারণ এর ফলে মানুষ আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করে এবং আল্লাহর বিধান পালনে সীমা লঙ্ঘন করে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা দ্বিনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে এবং কাউকে সম্মান করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আহলে কিতাব, তোমরা তোমাদের দ্বিনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৭১)

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা অতিক্রম করো না। অত্র আয়াতে ‘আহলে কিতাব’ বলতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বোঝানো হয়েছে। মহান আল্লাহ তাদের দ্বিনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মদিকেও একই নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা রাসুল (সা.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘অতএব তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ সেভাবে দৃঢ় থাকো এবং যারা তোমার সঙ্গে (শিরক ও কুফরি থেকে) তাওবা করেছে তারাও। আর তোমরা সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের সব কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করেন। ’ (সুরা হুদ, আয়াত : ১১২)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা দ্বিনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থেকো। কেননা তোমাদের আগের লোকেরা দ্বিনের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস হয়েছে। ’ (নাসাঈ, হাদিস : ৩০৫৭)

রাসুল (সা.) কবরের পাশে কিংবা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কেননা মনীষী-বুজুর্গদের কবরের পাশে ইবাদত করলে তা তাঁদের উপাসনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। একবার উম্মে হাবিবা ও উম্মে সালামা (রা.) রাসুল (সা.)-কে হাবশায় (আবিসিনিয়া) অবস্থিত গির্জার কথা বলেন, যাতে কিছু ছবি ও মূর্তি ছিল। তিনি শুনে বললেন, ‘ওরা এমন জাতি যে তাদের মধ্যে কোনো নেককার লোক মারা গেলে তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাদের (সম্মানার্থে) সেখানে ছবি ও মূর্তি স্থাপন করত। ওরাই কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে পরিগণিত হবে। ’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৪১; মুসলিম, হাদিস : ৫২৮)

একইভাবে রাসুল (সা.) তাঁর অতিরিক্ত প্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার প্রশংসায় অতিরঞ্জন করো না, যেমন খ্রিস্টানরা মারিয়াম পুত্র ঈসা (আ.)-এর ব্যাপারে করেছে। আমি শুধু আল্লাহর বান্দা। সুতরাং তোমরা (আমার ব্যাপারে) বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪৪৫)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য