শরিয়তের পরিভাষায় বৈধ বিষয় বোঝাতে প্রধানত হালাল এবং অবৈধ বিষয় বোঝাতে হারাম শব্দ ব্যবহার করা হয়। শরিয়তের হালাল ও হারাম, বৈধ ও অবৈধ নির্ধারণের ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)
ইমাম শাওকানি (রহ.) বলেন, ‘হালাল ও হারাম কেবল আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন।
’ (তাফসিরে শাওকানি : ৫/২৯৮)
তবে আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে মহানবী (সা.)-ও হালাল-হারামের বিধান প্রণয়ন করেছেন। আল্লাহ এই অধিকার তাঁকে দান করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাবধান! খুব শিগগির এমন ব্যক্তির আগমন ঘটবে যে, সে তার সুসজ্জিত গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তখন তার কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছলে সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের সামনে তো আল্লাহ তাআলার কিতাবই আছে। আমরা তাতে যা হালাল পাব সেগুলো হালাল বলে মেনে নেব এবং যেগুলো হারাম পাব সেগুলো হারাম বলে মনে নেব। সাবধান! রাসুলুল্লাহ (সা.) যা হারাম ঘোষণা করেছেন তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারামকৃত বস্তুর মতোই হারাম। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৬৬৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বৈধতা দান ও অবৈধ ঘোষণার বিষয়টি যে আল্লাহর নির্দেশনার অধীন তা একাধিক আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং তিনি মনগড়া কথাও বলেন না। এটা তো ওহি, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়। ’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩-৪)
আবু সাঈদ আল খুদরি বলেন, …রাসুলুল্লাহ (সা.) রসুনের গন্ধ পেয়ে বললেন, যে ব্যক্তি এ কদর্য উদ্ভিদ খাবে সে যেন মসজিদে আমাদের নিকটেও না আসে। এই কথা শুনে সবাই বলতে শুরু করল রসুন হারাম হয়ে গেছে। রসুন হারাম হয়ে গেছে। কিন্তু নবী (সা.)-এর কাছে এ খবর পৌঁছলে তিনি লোকজনকে সাক্ষ্য করে বললেন, হে লোকেরা! আমার জন্য আল্লাহ তাআলা যা হালাল করে দিয়েছেন তা হারাম করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে রসুন এমন একটি সবজি (গাছ) যার গন্ধ আমি অপছন্দ করি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৪৫)
প্রশ্ন হতে পারে, রাসুলের ইন্তেকালের পর নব-উদ্ভাবিত বহু বিষয়কে প্রত্যেক যুগের আলেমরা হারাম বা হালাল আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা তা কিভাবে করলেন? উত্তর হলো, তাঁরা হালাল বা হারাম হওয়ার বিধান দান করেননি, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত হালাল ও হারামের বিধান কোথায় ও কোন কোন বিষয়ে প্রযোজ্য তা নির্ধারণ করেছেন। এবং তা করেছেন কোরআন ও সুন্নাহের আলোকেই।
আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া
