Monday, June 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরব্যক্তির সম্পদে সমাজ ও পরিবারের অধিকার

ব্যক্তির সম্পদে সমাজ ও পরিবারের অধিকার

মালিকানাধীন সম্পদে নিজের ভোগাধিকার আসলে কতটুকু—এ বিষয়ে হাদিসে খুবই যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষ বলে, আমার সম্পদ আমার সম্পদ। অথচ তিনটিই হলো তার সম্পদ, যা সে খেয়ে নিঃশেষ করে দিল। অথবা যা সে পরিধান করে পুরনো করে দিল। কিংবা যা সে দান করল এবং সঞ্চয় করল। এ ছাড়া অবশিষ্টগুলো তার থেকে চলে যাবে এবং তা মানুষের জন্য রেখে যেতে হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩১২)

ইসলাম ব্যক্তির সম্পদের ওপর সমষ্টির অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। পবিত্র কোরআনে নিকট-আত্মীয়দের অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। আর মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি অনুগ্রহ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)

এর অর্থ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তির উপার্জিত অর্থের ওপর সে ছাড়াও তার আত্মীয়-স্বজনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। সমাজের কোনো ব্যক্তি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের অধিকারী হয় এবং তার আত্মীয়দের কেউ প্রয়োজনের চেয়ে কম সম্পদ উপার্জন করে, তাহলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সে আত্মীয়কে সাহায্য করা তার সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব বর্তায়। কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত একেকটি পরিবার যদি নিজেদের এ দায়িত্ব অনুভব করে এবং সামগ্রিকভাবে জাতির বেশির ভাগ পরিবার যদি নিজেদের এ দায়িত্ব অনুভব করে এবং সামগ্রিকভাবে জাতির বেশির ভাগ পরিবারকে সহায়তা দানের ব্যবস্থা করে, তাহলে বাইরের সাহায্যের মুখাপেক্ষী পরিবারের সংখ্যা হয়তো অতি অল্পই থেকে যাবে। এ জন্যই পবিত্র কোরআনে বান্দার হকের মধ্যে সর্বপ্রথম মা, বাপ ও আত্মীয়স্বজনের হকে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে কোরআন ব্যক্তির সম্পদের ওপর তার প্রতিবেশীদের অধিকারও প্রদান করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রত্যেক পাড়ায়, মহল্লায়, অলিগলিতে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত সংশ্লিষ্ট পাড়া, মহল্লা ও গলির অসচ্ছল লোকদের সহায়তা দান করা।

এই দ্বিবিধ দায়িত্বের পর কোরআন সাহায্যের মুখাপেক্ষী বা সাহায্যপ্রার্থীকে নিজের সামর্থ্যানুযায়ী সাহায্য করার জন্য প্রত্যেক সচ্ছল ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের ধনসম্পদে প্রার্থিত (অভাবগ্রস্ত) ও বঞ্চিতদের অধিকার আছে।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

আলোচ্য আয়াতে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিত ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি আপনার কাছে সাহায্য-সহায়তা প্রার্থনা করে সে হচ্ছে প্রার্থী। সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তাকে প্রার্থী বলা যায় না; বরং যথার্থ প্রার্থী এমন ব্যক্তিকে বলা যেতে পারে, যে সত্যিকার অভাবী এবং তার অভাব পূরণের জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়। অবশ্যই সে যথার্থ অভাবী কি না—এ ব্যাপারে নিজের সন্দেহ নিরসনের জন্য তার অবস্থা জানার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু সে যথার্থ অভাবী—এ কথা আপনি যখন জানতে পারেন এবং তাকে সাহায্য দেওয়ার মতো প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদও যদি আপনার থাকে, তাহলে জেনে রাখুন, আপনার ধনসম্পদে তার অধিকার রয়ে গেছে।

আর বঞ্চিত বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে আপনার কাছে সাহায্য চাইতে আসে না; কিন্তু সে নিজের জীবিকা সংস্থান করতে পারে না—এ কথা আপনি জানেন। আপনার অর্থসম্পদে এহেন ব্যক্তিরও অধিকার আছে।

এ অধিকারগুলো ছাড়াও ইসলাম মুসলমানদের আল্লাহর পথে দান করার সাধারণ নির্দেশ দিয়ে তাদের অর্থস্পদে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিকারও কায়েম করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, মুসলমানকে দানশীল, উদার হৃদয়, সহানুভূতিশীল ও মানব-দরদি হতে হবে।

স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতা পরিহার করে নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সৎকাজে এবং ইসলাম ও সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। এটি একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী নৈতিক শক্তি।

এই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দানের পর ইসলাম আর একটি দানকে অপরিহার্য করে দিয়েছে। সেটি হচ্ছে জাকাত। সঞ্চিত ও সংরক্ষিত অর্থ, ব্যবসার পণ্য, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, কৃষিজাত দ্রব্য ও গবাদি পশুর ওপর জাকাত ধার্য করা হয়।

এ ছাড়া ইসলামে একটি উত্তরাধিকার আইন আছে। কোনো ব্যক্তি কমবেশি যে পরিমাণ সম্পদ সম্পত্তি রেখে মারা যাক না কেন—একটি নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাকে বিস্তৃত ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। সেটি হলো ইসলামের উত্তরাধিকার আইন। সর্বপ্রথম পিতা-মাতা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা সম্পত্তির অধিকারী হয়, অতঃপর ভাই-বোনরা হয় উত্তরাধিকারী এবং তাদের পর হয় নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজন। যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো পর্যায়ের কোনো উত্তরাধিকারী না পাওয়া যায়, তাহলে গোটা জাতিই তার উত্তরাধিকারী হবে এবং তার সম্পত্তি বায়তুল মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) অন্তর্ভুক্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য