Monday, June 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবাংলাদেশে যেভাবে মাদরাসা শিক্ষার সূচনা

বাংলাদেশে যেভাবে মাদরাসা শিক্ষার সূচনা

বাংলাদেশে কয়েক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে। মৌলিকভাবে এগুলো তিন ভাগে বিভক্ত। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা। প্রতিটি শিক্ষাব্যবস্থারই কিছু শাখা-প্রশাখা আছে। তবে মৌলিকভাবে এই তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাই আমাদের দেশে চলমান। এখানে আমরা মাদরাসা শিক্ষার সূচনার বিষয়ে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

মুসলমানদের আগমনের আগে ভারতবর্ষে শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্যাগোডা, ভিক্ষুশালা, মনাসটারি, ব্রাহ্মণদের আশ্রম, মঠ ও টোল। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল গির্জাকেন্দ্রিক। এখনো তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাদ্রিদের যথেষ্ট প্রভাব আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেটের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট বিশ্ববিদ্যালয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমর্যাদায় পরিচালিত হয়। ঢাকায় নটর ডেম কলেজ, সেন্ট জোসেফ স্কুলসহ পাদ্রিদের পরিচালিত স্কুলের পড়ালেখার মান অনেক ভালো। এগুলো খ্রিস্টানদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

ইসলামের প্রথম যুগে ধর্মীয় শিক্ষা ছিল মসজিদকেন্দ্রিক। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মসজিদকেন্দ্রিক। উপমহাদেশের প্রথম হাদিসচর্চাকেন্দ্র শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর স্মৃতিধন্য সোনারগাঁ মাদরাসাও ছিল মসজিদকেন্দ্রিক। মুসলমানরা ভারতবর্ষে আনুষ্ঠানিক মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। মুসলিম রাজত্বকালে পাক-ভারত উপমহাদেশে বহুসংখ্যক মাদরাসা স্থাপিত হয়। মাদরাসাগুলো পরবর্তী সময়ে মসজিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’র তথ্য মতে, ‘বঙ্গদেশে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয় সুলতানি আমলে (১২১০-১৫৭৬)। এ সময় বঙ্গদেশে বহু মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মহিসন্তোষে মওলানা তকিউদ্দীন আরাবির মাদরাসা প্রাচীনতম। ১২৪৮ সালে সুলতান নাসিরউদ্দিন, বদরউদ্দিন ইসহাক, মিনহাজউদ্দিন, নিজামউদ্দিন দামিস্কি ও শামসউদ্দিন খাওয়ারিজমি একটি মাদরাসা শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করেন, যা এক শতাব্দীকাল কার্যকর ছিল।

শায়েখ আবু তাওয়ামা (রহ.) ১২৭৮ সালে সোনারগাঁয় একটি মাদরাসা স্থাপন করেন এবং এটি ছিল তৎকালীন বাংলায় সর্ববৃহৎ মাদরাসা। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯) গৌড় ও মালদহে বহু মাদরাসা স্থাপন করেন। সুলতানি আমলে মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে ছিল আরবি, নাহু, সরফ, বালাগাত, মানতিক, কালাম, তাসাউফ, সাহিত্য, ফিকাহ ও দর্শন।’ (বাংলাপিডিয়া, ‘মাদরাসা শিক্ষা’)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 + eleven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য