Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমধ্যপ্রাচ্যে রমজান মানে সস্তার মাস, নিত্যপণ্যের দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মানে সস্তার মাস, নিত্যপণ্যের দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে

রমজান মাস ঘিরে বাংলাদেশের বাজারে মুনাফা লোটার প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে দেখা যায় ঠিক তার উল্টোচিত্র। সুপার মার্কেট, চেইন শপ থেকে শুরু করে ছোট ছোট দোকানেও দেওয়া হয়েছে বিপুল মূল্যছাড়। আর এই ভালো কাজটিকে উৎসাহিত করা হয় দেশগুলোর সরকারের পক্ষ থেকেও। ফলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে পোশাক, গৃহস্থালির সব ধরনের পণ্যই ভোক্তা কম মূল্যে কিনতে পারে এ মাসে।

গালফ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর রমজান উপলক্ষে ৯০০-এর বেশি পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। এ পণ্যগুলো বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রি চলবে রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত। বড় খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাতার সরকার। বরকতময় মাসে কম মূল্যে খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্য পরিবারের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। এ কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়।

যেসব পণ্যের দাম কমানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চাল, ময়দা, নুডলস, দই ও দুগ্ধজাত পণ্য, সিরিয়াল ও কর্নফ্লেক্স, গুঁড়া দুধ ও কনডেন্সড মিল্ক, রান্নার তেল, মাখন, পনির, জুস, চিনি, কফি, লবণ, খেজুর, বোতলজাত পানি, শাকসবজি, মুরগি, ডিম, মাংসসহ আরো অনেক কিছু। দেশটিতে মূল্যছাড়ের পাশাপাশি অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফ্রিতেও খাবার বিতরণ করে।

রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থ মন্ত্রণালয় পাঁচ হাজার খাদ্যপণ্যে ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। রমজানজুড়ে খুচরা দোকান ও সুপার মার্কেটে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা সুরক্ষা বিভাগের পরিচালক হাশিম আল নুয়াইমি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে রমজানে মানুষ যেন তার প্রয়োজনীয় সব পণ্য সস্তায় কিনতে পারে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে।’

খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএইর পাঁচটি সুপার মার্কেট ও হাইপার মার্কেট রমজান উপলক্ষে ১০ হাজারের বেশি খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে লুলু হাইপার মার্কেট, ইউনিয়ন কোপ, ক্যারেফোর, আল আদিল ট্রেডিং এবং আলমায়া সুপার মার্কেট।

দুবাইয়ে একটি পাঁচতারা হোটেলে চাকরি করেন বাংলাদেশি প্রবাসী ফয়েজ আহমদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, রমজান এলে এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব কিছুর দাম কমিয়ে দেয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ কাজটি বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। ফলে সবাই এর সুবিধা পায়। অনেক পণ্যের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। যেমন—৫০ দিরহামের এক কেজি খেজুরের দাম রমজানে কমে হয় ৩০ থেকে ৩৫ দিরহাম। পাঁচ কেজি চালের একটি প্যাকেট অন্য সময়ে বিক্রি হয় ২৫ দিরহাম, আর এখন ১৭ দিরহাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ অন্য সময়ে তিন দিরহাম এবং এখন বিক্রি হচ্ছে এক দিরহামে।

তিনি বলেন, ‘এভাবে সব পণ্যের দামই কম থাকে। ফলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে একটু বেশিই কিনে রাখি সস্তার সুযোগে। আর পণ্যেরও কোনো ঘাটতি হয় না। কারণ বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকে। এখানকার ব্যবসায়ীরা এ মাসটিকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গেই দেখেন। ফলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলে—কে ভোক্তাকে কত সুবিধা দিতে পারল।’

দৈনিক জাওয়া জানায়, রমজান উপলক্ষে বাহরাইনেও বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড়া দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মাজিদ আল ফাতিম পরিচালিত ক্যারিফোর রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ২০০-এর অধিক খাদ্যপণ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল, ওটস, পাস্তা, কফি ইত্যাদি। এ ছাড়া অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও স্টোরগুলোতেও বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল নিউজ জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বছর রমজানের আবশ্যকীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই পুরো বছরের জন্যই অনেক পণ্য কিনে রাখেন। জেদ্দার বাসিন্দা রাওয়ান হাসান বলেন, ‘এ মাসে বেশ ভালো ছাড় পাওয়ায় আমি রমজানের জন্য এবং পুরো বছরের জন্য খেজুর কিনে রাখি। এগুলো সংরক্ষণ করে আমি পুরো বছরেই খাই।’ উম্মে আয়শা বলেন, ‘এ মাসে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। আমার পছন্দের পানীয় আমি এ মাসেই কিনে রাখি এবং পুরো বছরে খাই।’

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অন্যতম আরব দেশ মিসর। রমজানের দরিদ্র মানুষের সুবিধা দিতে দেশটির সরকার চালু করেছে ‘আহলান রমাদান’ মার্কেট। যেখানে মাংস, আটা, ময়দা ইত্যাদি আবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + nineteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য