আল্লাহ কেন মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করলেন যে সে সন্দেহপ্রবণ? ঔদ্ধত ভঙ্গিমায় নাস্তিকেরা
জিজ্ঞেস করে: ঈশ্বর যদি সত্যি হন, তাহলে কেন তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন? ঈশ্বর যদি থেকেই
থাকেন, তাহলে তিনি কেন তাকে প্রকাশ করে সব সন্দেহ দূর করে দেন না?
আল-কুর;আনে বিভিন্ন জায়গায় এই দাবিকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে,
তিনি যদি ফেরেশতা পাঠাতেন, মৃত ব্যক্তি যদি কথা বলত, এমনকি সব ধরনের অলৌকিক বিষয়ও যদি
তাদের দেখানো হতো, তবু তারা অবিশ্বাস করত।
এ ব্যাপারে বিস্ময়কর যেসব আয়াত আছে তার মধ্যে একটি আছে সূরাহ আল-আন‘আমে। এখানে আল্লাহ বলেছেন;পারলে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বা আকাশে সিঁড়ি লাগিয়ে তাদের জন্য নিদর্শন নিয়ে এসো। আল্লাহ ইচ্ছে করলে সবাইকে সঠিক পথের উপর একত্র করতে পারতেন। কাজেই মূর্খদের মতো হয়ো না।;[সূরাহ আল-আন‘আম, ৬:৩৫]
আল্লাহ এখানে এটাই বলছেন যে, পৃথিবীর গভীরে গর্ত করে কিংবা আকাশে সিঁড়ি লাগিয়েও যদি অবিশ্বাসী ও সংশয়ীদের জন্য কোনো নিদর্শন নিয়ে আসা হয়, তবু বিশ্বাসের দিকে তাদের অন্তর এক ইঞ্চি টলবে না।
আয়াতটির চমৎকার দিক হচ্ছে, আধুনিক সময়ে ঠিক এটাই হয়েছে। পৃথিবী খুঁড়ে আমরা বহু গভীরে গিয়েছি। মহাকাশে পাড়ি দিয়েছি বহু মাইল। টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাকাশের বিস্ময়কর তাক-লাগানো বিভিন্ন জিনিস দেখছি: গ্যালাক্সি, নেবুলা, পালসার, কুয়াসার, গ্যালাক্সির গুচ্ছ। এগুলো আগেকার লোকেরা কখনো দেখেনি। এগুলো সবই আল্লাহর নিদর্শন। আর এগুলো এত বিশাল যে, আক্ষরিক অর্থে এগুলো মানুষের ধারণার বাইরে। একটা গ্যালাক্সি কত বিশাল, মহাবিশ্ব কত পুরোনো, কিংবা একটা ব্ল্যাক হোল কত শক্তিশালী তা মাপার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই। অথচ এসব বিশাল বিশাল জিনিসগুলো আমরা আমাদের নিজ চোখে দেখছি। কিন্তু তার কোনোটাই অবিশ্বাসীদের জন্য প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট হচ্ছে না।
মূল কথা হচ্ছে তাদেরকে যদি হঠাৎ করে ভিন্ন কোনো অস্তিত্বের জিনিস দেখানো হয়—হোক সেটা যত
অপার্থিব, বা অভাবনীয়—তারা ঠিকই সেগুলোকে কোনো-না- কোনোভাবে অগ্রাহ্য করার উপায় বের করে নেবে। কিংবা তাদের সৃষ্ট ;সাধারণ; বা ;অনুল্লেখ্য;-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করবে।
আগেকার জাতিরাও যে এমন করেছে তার নজিরও দিয়েছেন আল্লাহ: তাদের চোখের সামনে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তবু তারা বলেছে, এটা চাতুরী ছাড়া কিছু না। অভাবনীয় কিছু না। এটা মামুলি ব্যাপার। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণে এটা অকাট্য কিছু না। ঈশ্বর তার বার্তাবাহকের সঙ্গে কথা বলেছেন এটা সে ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ না, ইত্যাদি। তাদের অহংকারের কারণে এসব নিদর্শন তারা কানে শোনে না, চোখে দেখে না। এসব ব্যাপারে কবি নীরব।
Translated by: Masud Shorif
