Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়া“ভালো মানুষ” হবার চাইতে সঠিক বিশ্বাস থাকা কেন বেশী জরুরী; মূলঃ ড....

“ভালো মানুষ” হবার চাইতে সঠিক বিশ্বাস থাকা কেন বেশী জরুরী; মূলঃ ড. শাডি এলমাসরি

চিন্তা করুন, আপনি গ্রামের পথ ধরে গাড়িতে করে ভ্রমণ করছেন। এমতাবস্থায়, নেভাডা শহরের আশেপাশে কোনো এক স্থানে আপনি হারিয়ে গেলেন। মরুভূমির এই স্থানে আপনার গাড়ির গ্যাসও প্রায় শেষ। আপনার দুটি ছোট্ট শিশু খুবই অসুস্থ, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন সবচেয়ে কাছের হাসপাতালও প্রায় এক দিনের পথ, উত্তর-পূর্ব দিকে ।

ঘটনাস্থলে ‘নীতিবান’ এক যুবক এসে হাজির। খুবই বিনয়ী, সুশিক্ষিত এবং মিশুক। তার একটি সুন্দর গাড়ি আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তিনি আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি হলেন, তবে আপনার সাথে জোরাজুরি করতে লাগলেন যে, সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল বরং দক্ষিণদিকে– চার দিনের পথ। কিন্তু আপনার শিশুরা তত দিনে মারাই যাবে। আপনি তাকে যতই বোঝানোর চেষ্টা করেনই না কেন, তিনি বিশ্বাসই করতে চাচ্ছেন না যে, কাছের হাসপাতালটি যে উত্তর-পূর্ব দিকে, এক দিনের দূরত্বে।

এমতাবস্থায় আরেকজন যুবক এসে হাজির। খুবই রুক্ষ, অশিক্ষিত এবং দেখতে ভয়ংকর। সাথে একটা নোংড়া পিকআপ ট্রাক, যাতে কোনো এসি নেই। লোকটি ঘর্মাক্ত, গা থেকে গন্ধ বের হচ্ছে, অনবরত মুখ থেকে গালি বের হচ্ছে। মোট কথা, সবার অপছন্দের একজন পাত্র। কিন্তু, তিনি আপনার সাথে একমত যে, সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটি যে উত্তর-পূর্ব দিকে। উপরন্তু, সে আপনার শিশুদের জীবন বাচানোর জন্য আপনাদের সেখানে নিয়ে যেতে রাজি।

তো আপনি কার সাথে যাবেন? খুবই বিনয়ী, ভদ্র, “ভালো মানুষ”, হাসপাতাল বিষয়ে যার অবস্থান আপনার বাচ্চাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে? নাকি দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার আশেপাশে থাকা আপনি সহ্য করতে পারেন না, তবে অন্তুত তিনি সঠিক দিক নির্দেশনার উপর আছেন যাতে আপনি তার সাথে গেলে আপনার সন্তানরা বেঁচে যাবে?

কোনো বিষয়ের উপর সঠিক অবস্থানে থাকা অন্য সকল মানবীয় গুণাবলির চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসত্ত্ব বা গায়ের রঙের ন্যায় বিশ্বাস কিন্তু কোনো ‘আপনাআপনি’ বিষয় নয়। লিবারেলদের আমাদের যে বিষয়টি বলা দরকার তা হচ্ছে, “জাতি ও ধর্ম”-দুটোকে একই জিনিস বানিয়ে জুড়ে দেয়া বন্ধ করুন। তারা বারবার এই বুলি আওড়াতে থাকে যাতে মানুষ তাদের বিশ্বাসকে ফেলে দেয়। এটা একধরনের টোপ, কারণ আপনি যখনই আপনার দ্বীন থেকে দূরে সরে যাবেন, তারা আপনাকে তাদের “ধর্ম” গেলাতে শুরু করবে। তাদের ‘লিবারেল’, ‘মানবতাবাদী’, ‘সোশ্যাল জাস্টিস’ এর ধর্ম।

জাতি এবং ধর্ম বরং সমান হবার কাছাকাছি কিছুও নয়। জাতি পরিচয় একটি অপরিবর্তনীয় জিনিস যা সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর ধর্ম হচ্ছে সচেতন-মানসে বেছে নেওয়া মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা হচ্ছেঃ বাস্তবতা প্রকৃতপক্ষে কী? সত্য-মিথ্যা কী? এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্ন কি হতে পারে? আমাদের মুসলিম জীবন দর্শন অনুযায়ী, একজন ভালো মানুষের জন্যে সঠিক আকীদার চেয়ে উত্তম কিছু পাবার নেই। এটা এমনই একটি রত্ন যা অন্য কোনো কিছুর চেয়ে, সবার আগে রক্ষা করতে হবে। যেকোনো বস্তুগত জিনিসের চেয়ে এটা গুরুত্বপূর্ণ। জাতি বা গোত্র থেকেও এটা অধিক জরুরী।

লিবারেলদের এই ব্যাপারগুলো বেশ হাস্যকর। তারা আপনার কাছে প্রচার করবে – “… আপনি কালো হন বা সাদা … মুসলিম অথবা ইহুদী বা নাস্তিক … সমকামী বা স্ট্রেইট।” আপনি কতবার তাদের এই মন্ত্র জপতে দেখেছেন? তাদের জন্যে এটা একধরণের প্রার্থনার ন্যায়। কিন্তু তারা কখনোই বলবে না, “ডেমোক্রেট অথবা রিপাব্লিকান … ট্রাম্প সমর্থক বা ওবামা সমর্থক … এভাঞ্জেলিকাল ক্রিশ্চিয়ান বা কেবলই আধ্যাত্মিক ব্যক্তি… “ হুমমম আমার অবাক লাগে কেন; কেন তারা এই জায়গার এসে সীমারেখা টেনে দেয়? কারণ হয়তো যখন “তাদের” অবস্থানের বিষয়টি সামনে চলে আসে, তখন হঠাৎ করেই বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়! এভাঞ্জেলিকালদের ঠাস করে বাদ দেয়া হয়!

লিবারেলরা, যারা আমেরিকার মিডিয়ার (বর্তমানে গোটা বিশ্বেরও) সিংহভাগই চালিয়ে থাকে– তাদের কাছে স্বর্গীয় ধর্মের কোনো গুরুত্ব নেই, অথচ মেকি মানবতাবাদের রয়েছে। তাদের কাছে যেগুলো ‘ন্যায়’ অথবা ‘সামাজিক সুবিচার’, সেগুলোর জন্য রাগান্বিত হওয়া জায়েজ এবং প্রয়োজন। এ লক্ষ্য আদায়ে সম্পর্ক ছেদ অথবা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বয়কট- সবই ঠিক। যেসকল সেলিব্রিটিরা তাদের এই ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যাবে, তাদেরকে খুশিমনেই সমাজচ্যুত করবে। তাদের বিশ্বাসের জন্য সম্ভবত তারা জান দিতেও রাজি আছে। তো বলুন, কে বলল বিশ্বাস গুরুত্বহীন? এই মানুষগুলোই অন্য যেকোনো কিছুর আগে তাদের বিশ্বাসকে প্রাধান্য দেয়। শুধু তাদের বিশ্বাসেরই মূল্য আছে, অন্য কারোটা নয়। ( বাস্তবে, কিছু সংখ্যক ‘সোশাল-জাস্টিস ওয়ারিয়র’ এতটাই উগ্র যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও আমাদের আগে তাদের শান্ত করা লাগে। আমি হলে বলতাম, “তোমাদের কিছু সুফি জীবনীগ্রন্থ দিচ্ছি, শান্ত হও!”)

তো আমি কোন ফাইনাল পয়েন্টের দিকে যাচ্ছি? এটাই যে, আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে। সমাজে-সম্মিলিত ভাবে, কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়। আর এই আত্মবিশ্বাস কারো ব্যক্তিগত সাহসিকতা, ন্যাচেরাল ট্যালেন্ট, অথবা কারো ধনী বা সুদর্শন হবার মাধ্যমে আসবে না। এই সবগুলোই বদলাতে পারে, আর এগুলা সামান্য কিছু ঘটনাচক্রের মধ্যে সীমিত। বরং মুমিনের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হলো ঈমান। আল্লাহর উপর আমাদের তাওয়াক্কুল। আর এই ঈমান দৃঢ় ও মজবুত হয় জ্ঞান এবং ইলমের মাধ্যমে। “ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” (সূরা ফাতির ৩৫ঃ ২৮)

আমি সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি, যেদিন এ ধরণের আত্মবিশ্বাস কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিফলিত হবে। আপনার কি প্রায়ই মনে হয় না, এরা ছোট্ট একটি দল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের আকার যত বড় হতে থাকে, এটি আরও বেশি অকার্যকর হতে থাকে? এর কারণ হচ্ছে্, প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বদাই ঝুঁকিহীনভাবে খেলতে চায়। অসংখ্য নিরীহ মানুষ নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের উপর, এবং যেকোনো ভূল পদক্ষেপও বিপদের কারণ হতে পারে। তাই আমিও বলি, আমি এর সাথে ১০০% একমত। ঝুঁকিহীনই থাকুন, আর সেটা হচ্ছেঃ আল্লাহকে রাগান্বিত করবেন না। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থান। স্রষ্টাপ্রদত্ত পবিত্র আইনের বিরূদ্ধে যায় এমন কিছুই সমর্থন করবেন না। যেমন, সমকামী বিবাহ অথবা ‘পেরিনিয়ালিজমের’ ন্যায় দার্শনিক মতবাদ অথবা সব ধর্মকে এক বানানোর মত ব্যাপারগুলো। আমাদের কেনই-বা এসব বিড়বিড় করে পড়তে হয়? ঘৃণা করি এটাকে আমি। প্রকাশ্যে বলা উচিতঃ “ এটা ইসলাম নয়। আমি এমনটা করতে পারি না এবং করতে চাইও না। ব্যস। আমি অনেক কিছুই করব, কিন্তু এটা নয়।” জিনিসটা এতটাই সিম্পল।

আল্লাহ আমাদের জ্ঞান, ঈমান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে দিন, যাতে তিনি ফেরেশতাদের সামনে আমাদের ব্যাপারে গর্ব করতে পারেন। আর এক দুই-জনে পরিবর্তন আসবে না। প্রয়োজন আপনাদের সবাইকে- পাঠক এবং শ্রোতা যে যেখানে আছেন। আপনি মনে করতে পারেন আপনার কোনো প্রভাব নেই, কিন্তু না, আপনারও আছে। যদি আমাদের সবাই-ই কেবল বিনয় এবং নম্রতার সাথে শিষ্টাচার এবং পরিমিতির সাথে নিজেদের আওয়াজ তুলতে পারি এবং সেগুলোকে একত্রে সংগ্রহ (crowd-source) করতে পারি, তাহলে পরিবর্তন আসবে। আপনার পরিবারের ব্যক্তিদের সাথে কথা বলুন। ইন্টানেটেকে সত্য ছড়াবার জন্যে ব্যবহার করুন । আপনি কখনোই জানেন না ফলাফল কি হবে। যদি সবচাইতে খারাপ কিছুও ঘটে, তবে অন্তত পক্ষে সৎ-বিবেক নিয়ে ঘুমোতে পারবেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে, আপনি কিছু করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাহ ও জামা’আর উপর থাকার এবং এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেবার শক্তি ও তাওফিক দান করুন। (আমিন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + fifteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য