Thursday, June 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমহানবী (সা.)-এর হাদিস মুখস্থ ছিল যাঁদের

মহানবী (সা.)-এর হাদিস মুখস্থ ছিল যাঁদের

ইসলামী শরিয়ার অন্যতম উৎস হাদিস। দলিলের দিক থেকে পবিত্র কোরআনের পরই হাদিসের স্থান। ইসলামের সূচনা থেকে আজ অবধি হাদিস নানাভাবে সুরক্ষিত আছে। প্রথম ‍যুগে মুখস্থ করার মাধ্যমে হাদিস সংরক্ষণ করা হতো।

হিজরি প্রথম শতকে মূলত মুখস্থকরণই ছিল হাদিস সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম। লেখনী এসেছিল পরবর্তী ধাপে।
ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির (৬৩০ হি.) বলেন, ‘হাদিস বর্ণনাকারীদের প্রাথমিক নির্ভরতা ছিল মুখস্থকরণ এবং হৃদয়াঙ্গমের ওপর, লেখনীর ওপর নয়। তাঁরা আল্লাহর কিতাবকে যেভাবে মুখস্থ রাখতেন সেভাবে এই জ্ঞানকেও (হাদিস) মুখস্থ রাখার লক্ষ্যে লিখিত বস্তুর ওপর নির্ভর করতেন না।

কিন্তু যখন ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটে, একের পর এক অঞ্চল বিজিত হতে থাকে এবং বেশির ভাগ সাহাবির ওফাত হয়ে যায়, তখন বিদ্বানরা হাদিস সংকলন এবং তা লিখিতভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজন বোধ করলেন।’ [(জামেউল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল, তাহকিক : আবদুল কাদের আরনাউত (বৈরুত : মাকতাবাতু দারুল বায়ান, ১৯৬৯ খ্রি.), ১/৪০]
মুখস্থকরণের মাধ্যমে হাদিস সংরক্ষণকারী সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন, তাঁরা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (৩২ হি.), আয়েশা (৫৮ হি.), আবু হুরায়রা (৫৯ হি.), উম্মু সালামাহ (৬১ হি.) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস (৬৩ হি.), আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (৬৮ হি.), আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (৭৩ হি.), আবু সাঈদ আল-খুদরি (৭৪ হি.), জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ (৭৮ হি.), আনাস ইবনু মালিক (৯৩ হি.) প্রমুখ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।

সাহাবাদের পরবর্তী প্রজন্ম তথা তাবেঈদের মধ্যে যাঁরা হাদিসের প্রসিদ্ধ হাফেজ ছিলেন তাঁরা হলেন সাঈদ ইবনু জুবায়ের (৯৪ হি.), আবু সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (৯৪ হি.), উরওয়া ইবনুজ জুবায়ের (৯৪ হি.), সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (৯৪ হি.), ইবরাহিম নাখঈ (৯৬ হি.), নাফি ইবনু জুবায়ের (৯৯ হি.), আমির আশ-শাবি (১০৩ হি.), ওমর ইবনু আব্দিল আজিজ (১০১ হি.), ইকরামা (১০৫ হি.), সলিম ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু ওমর (১০৬ হি.), তাউস ইবনু কায়সান (১০৬ হি.), সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (১০৭ হি.), হাসান বসরি (১১০ হি.), মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন (১১০ হি.), মাকহুল শামি (১১২ হি.), আমর ইবনু দিনার (১১৬ হি.) নাফে মাওলা ইবনু ওমর (১১৭ হি.), কাতাদাহ ইবনু দিআমাহ আস-সাদুসি (১১৭ হি.), ইয়াহইয়া ইবুন ইয়ামুর (১১৯ হি.), ইবনু শিহাব আজ-জুহরি (১২৪ হি.), আবু ইসহাক আস-সাবিয়ি (১২৭ হি.), মানসুর ইবনুল মুতামির (১৩৬ হি.), উকাইল ইবনু খালিদ আল-আয়লি (১৪৪ হি.), হিশাম ইবনু উরওয়াহ (১৪৬ হি.), উবায়দুল্লাহ ইবনু ওমর (১৪৭ হি.), মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (১৫১ হি.), হাম্মাম ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু দিনার আল-বাসরি (১৬৪ হি.) (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) প্রমুখ।

ইমাম জাহাবি (রহ) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে উপরোক্ত সাহাবি ও তাবেঈদের মোট এক হাজার ১৭৬ জন হাদিসের হাফেজের নাম সংকলন করেছেন।

(শামসুদ্দীন জাহাবি, আল-মুঈন ফি তাবাকাতিল মুহাদ্দিসিন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 − 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য