{১} মর্যাদাগত:
■উম্মুল মু’মিনীন:
আল্লাহ তা’আলা বলেন: হে নবী -সাঃ এর বিবিগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। [সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৩১]
■মু’মিন নারী:
সূরাহ্ আল আহযাব-এর ৩২ নং আয়াতটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মুসলিম নারীগণের চেয়ে নবীর বিবিগণের মর্যাদা ও দায়িত্ব অনেক বেশি।
{২} বিয়েতে:
■উম্মুল মু’মিনীন:
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
তোমাদের কারো পক্ষে আল্লাহর রাসূল সাঃ কে কষ্ট দেয়া অথবা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিয়ে করা কখনো জায়িয নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। [সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৫৩]
■মু’মিন নারী:
আল্লাহ তা’আলা বলেন: আর স্ত্রীলোকেদের (বিধবা ‘ইদ্দাতরত) নিকট তোমরা ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব দিলে অথবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখলে তোমাদের কোনো পাপ নেই। [সূরাহ্ আল বাক্বারাহ ২: ২৩৫]
তবে প্রকাশ্য ব্যভিচারী ও গোপন প্রেমিকরূপে নয়। [সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫: ৫]
{৩} কথা ও সাক্ষাৎ:
■উম্মুল মু’মিনীন:
আল্লাহ তা’আলা বলেন: তোমরা নবীর স্ত্রীদের নিকট কিছু চাইলে হিজাব (পার্টিশন/অন্তরাল) হতে চাইবে। [সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৫৩]
■মু’মিন নারী:
নবী সাঃ বলেছেন:
মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে সাক্ষাত করবে না। [সহীহুল বুখারী ৩০০৬, সহীহ মুসলিম ৫৫৬৬ – (১৯/২১৭১), ৫৫৬৭-(২০/২১৭২)]
অন্যত্র বলেছেন: আজকের এই দিনের পরে যেন কোনো ব্যক্তি একজন বা দু’জন পুরুষের সাথে ছাড়া স্বামীর অনুপস্থিতে কোনো মহিলার কাছে না যায়। [সহীহ মুসলিম ৫৫৭০-(২২/২১৭৩)]
{৪} কথা ও সাক্ষাতে পার্থক্য থাকার উপকারিতা:
■উম্মুল মু’মিনীন:
নবী সাঃ এর বিবিদের দ্বারা হিজাব পালনের ফযীলাত বা উপকারিতা সম্পর্কে বর্ণিত হয়- “এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ।” [সূরাহ আল আহযাব ৩৩: ৫৩]
এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাধারণ নারীদের জন্য ব্যবহৃত পোশাকী পর্দার চেয়ে নবীর বিবিদের হিজাব বা অন্তরালে অবস্থানটি তাঁদের ও সাধারণ মুসলিম পুরুষদের জন্য অধিক পবিত্রময়। কেননা নবী সাঃ এর বিবিদেরকে তাঁর মৃত্যুর পরে বিয়ে করা নিষিদ্ধ।
■মু’মিন নারী:
একাধিক নিষ্ঠাবান মু’মিন পুরুষ কোনো নিষ্ঠাবান মু’মিন নারীর সাথে বা তাঁর আপনজনের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎ করলে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। পক্ষান্তরে একজন পুরুষ ও একজন নারীর নিরিবিলিতে অবস্থান বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একা হলে শায়ত্বন এসে তাদের তৃতীয় ব্যক্তি হয়। [তিরমিযী হা. ১১৭১, ২১৬৫: আলবানী- সহীহ]
উল্লেখ্য যে, সাধারণ নারীদের সাথে বিয়ে ও অন্যান্য লেনদেন পোশাকী পর্দার মাধ্যমে বৈধ।
{৫} হিজাবের আয়াত নাযিলের পরবর্তী আচরণ:
■উম্মুল মু’মিনীন:
হিজাব বা পর্দার আয়াত নাযিলের পর নবী -সাঃ এর বিবিদেরকে কোনো পরপুরুষ দেখেনি। যেমন, নবী সাঃ একবার বিবি সাওদাহ-কে বলেছিলেন: তুমি এ ছেলে হতে হিজাব কর। অতঃপর ঐ ছেলেটি মৃত্যু পর্যন্ত বিবি সাওদাহ-কে দেখতে পাননি। [সহীহুল বুখারী ২০৫৩, মিশকাত ৩৩১২]
■মু’মিন নারী:
আয়িশাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর পর) “রসূলুল্লাহ-এর রেখে যাওয়া মিরাস চাওয়ার জন্য একবার ফাতিমাহ ও ‘আব্বাস আবু বাকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসেছিলেন।” [সহীহুল বুখারী ৬৭২৫, সহীহ মুসলিম ৪৪৭৩- (৫৩/১৭৫৯)]
প্রমাণিত হলো, নবী সাঃ-এর বিবি না হওয়ায় ফাতিমাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা হিজাব তথা আড়াল ব্যবহার করতেন না।
{৬} অন্ধ ব্যক্তি থেকে হিজাব বা আড়াল:
■উম্মুল মু’মিনীন:
উম্ম সালামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: একবার তিনি ও বিবি মায়মুনাহ্ রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর কাছে ছিলেন। হঠাৎ ইবনু উম্ম মাকতুম তাঁদের কাছে আসলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা হিজাব কর।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রসূল। সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদেরকে দেখছে না। তখন রসূলুল্লাহ বললেন: “তোমরা কি অন্ধ যে, তাকে দেখছ না?”
[তিরমিযী ২৭৭৮, আবু দাউদ ৪১১২, মিশকাত ৩১১৬। আলবানী হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন। (তাহক্বীকুকৃত তিরমিযী (রিয়াদ) হা. ২৭৭৮ নং] যদি হাদীসটি সহীহ হয়ও তবু বলতে হবে, এটা হচ্ছে নাবী-এর বিবিদের জন্য তাঁদের মান- মর্যাদার দৃষ্টিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি। পর্দার ব্যাপারে তাদের প্রতি রসূল -এর এ কড়াকড়ি ছিল। আবু দাউদ প্রমুখ হাদীস বিশারদ এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। [‘আবদুল হালীম আবু শুককাহ, রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩/১৩৪ পৃ.]
■মু’মিন নারী:
নবী সাঃ ফাতিমাহ্ বিনতু ক্বায়স-কে উম্মু সুরায়ক-এর গৃহে ‘ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন, কিন্তু পরে তিনি এ নির্দেশ সংশোধন করে বললেন, ঐ মেয়েলোকটিকে আমার সাহাবীরা ভয় করেন। তার চাইতে বরং তুমি ইবনু উম্মু মাকতুম-এর কাছে ‘ইদ্দাত পালন কর। কেননা, সে অন্ধ ব্যক্তি। তুমি কাপড় ছাড়বে, কিন্তু সে তোমাকে দেখতে পারবে না।” [মুওয়াত্তা (পূর্ববর্তী হাদীস) ১২১৯/৭২]
{৭} সাধারণ চলাচলে পার্থক্য:
■উম্মুল মু’মিনীন:
অপবাদের ঘটনা সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: জঙ্গল থেকে ফিরে এসে দেখলাম (আমাকে ফেলে) কাফেলা চলে গেছে। তখন আমি বসে পড়লাম এবং ওখানেই ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে সফওয়ান ইবনু মুআত্তাল সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, দূর থেকে কাউকে ওখানে পড়ে থাকতে দেখে কাছে এলেন। তিনি আমাকে দেখে চিনে ফেললেন। কারণ হিজাবের হুকুম নাযিল হবার আগে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। আমাকে চিনে ফেলে “ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জি’উন” পড়লেন। তখন তাঁর আওয়াজে আমার চোখ খুলে গেল এবং নিজের চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম। [সহীহুল বুখারী ৪১৪১, সংক্ষেপিত] উল্লেখ্য এটা ছিল একটি দুর্ঘটনা।
■মু’মিন নারী:
ত্ববারানী কায়স ইবনু আবূ হাযিম থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, আমরা আবু বাকর-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি রোগশয্যায়। আমি তাঁর কাছে একজন ফর্সা মহিলাকে (তাঁর স্ত্রীকে) দেখলাম। তিনি মেহেদী দিয়ে দু’হাতে নকশা করেছিলেন এবং আবু বাকর-এর শরীর থেকে মাছি তাড়াচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন আসমা বিনতু উমায়স। [ত্ববারানী- ফাতহুল বারী, তাবারী সহীহ সানাদে; রসুলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩/১১৫ পৃ.]
এছাড়া ঈদের দিন নবী সাঃ খুতবাহ্ শেষে মহিলাদেরকে উপদেশ দিতে গেলে মুখে লাল দাগ বিশিষ্ট একজন মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন। [সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম ঈদের সালাত] যা থেকে সাধারণ মহিলাদের মুখমণ্ডল খোলার প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেকে এ মুখ খোলা রাখা সম্পর্কিত হাদীসগুলো হিজাবের আয়াত নাযিলের পূর্বেকার বলে উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) সেগুলো সহীহ দলীলের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন। [মুসলিম নারীর পর্দা- নাসিরুদ্দীন আলবানী]
{৮} উটের হাওদা (পালকি) ব্যবহারে পার্থক্য:
■উম্মুল মু’মিনীন:
হিজাবের আয়াত নাযিলের পরে নবী সাঃ এর বিবিগণ উটের হাওদায় চড়া ছাড়া বের হতেন না। যেমন ‘আয়িশাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: “হিজাবের আয়াত নাযিলের পর আমাকে হাওদায় করে উঠানো হতো ও তাতে করে নামানো হতো।”[সহীহুল বুখারী ৪১৪১]
একইভাবে ঘরে অবস্থানের হুকুমও (সূরাহ্ আল আহযাব ৩২-৩৩ আয়াত) নবীর বিবিদেরকেই সম্বোধন করে বলা হয়েছে। বিস্তারিত: রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা- ৩য় খণ্ড।
■মু’মিন নারী:
সাধারণ মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতার স্থায়ী পদ্ধতির প্রমাণ নেই। অর্থাৎ উটের হাওদায় করে উঠানো ও নামানোর প্রথাটি নাবী-এর বিবিদের জন্যই সুনির্দিষ্ট ছিল। কারণ তাদের জন্য কেবল শারীরিক পর্দার বিধানই নয় বরং নিজের সত্তাকে সম্পূর্ণরূপে আড়াল করার জন্যই হিজাব বা অন্তরালের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে কুরআনের ব্যাখ্যা তথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, গৃহে অবস্থানের ব্যাপারে সাধারণ মুসলিম নারীরা নবী-এর বিবিদেরকে অনুসরণ করেননি। প্রমাণ পরবর্তী হজ্জের বর্ণনাতে।
{৯} হজ্জের ক্ষেত্রে পার্থক্য:
■উম্মুল মু’মিনীন:
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর শেষ হজ্জে নবী সাঃ-এর বিবিদের হাজ্জ করার অনুমতি দেন। [সহীহুল বুখারী, হাজ্জ অধ্যায়] ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বায়হাক্বীর বর্ণনায় এর মধ্যে যা বৃদ্ধি করা হয়েছে তা হচ্ছে ‘উসমান আওয়াজ দিতে থাকেন যেন কেউ তাদের নিকটবর্তী না হয় এবং তাদের দিকে না তাকায়। তাঁরা তাদের উটের পিঠে হাওদায় সওয়ার ছিলেন। গিরিপথে প্রবেশ করলে তাদেরকে সামনের দিকে রাখতেন এবং কেউ তাদের দিকে যেতে পারত না। ‘উসমান তাদের সামনে চলতেন এবং ‘আবদুর রহমান পিছনে।… ইবনু সা’দ সহীহ সানাদে বর্ণনা করেছেন, নবী-এর বিবিগণ হাজ্জ করেছেন হাওদায়। এর উপর লম্বা চাদর টাঙানো ছিল। [ফাতহুল বারী ৪/৪৪৪ পৃ., রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩/১০৬]
■মু’মিন নারী:
মহিলা সাহাবী উম্মুল হুসায়ন বলেন: আমি রসূলুল্লাহ-এর বিদায় হাজ্জের সময় তাঁর সাথে হাজ্জ করেছিলাম। আমি তাঁকে দেখেছিলাম যখন জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। সওয়ারীর পিঠে চড়ে তিনি সেখান থেকে ফিরলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল ও উসামাহ [সহীহ মুসলিম, হজ্জ অধ্যায়া] তাছাড়া হাজ্জের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলাগণ মাসআলাহ্ জিজ্ঞেস করতে পুরুষদের মাঝেই নাবী-সাঃ এর কাছে আসতেন। [সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম- হাজ্জ অধ্যায়]
সুস্পষ্ট হলো, হাজ্জের ক্ষেত্রে নবীর বিবিগণ সাধারণ মুসলিম নারীদের মতো পুরুষদের মধ্যে থেকে হাজ্জ করতেন না।
{১০} হজ্জের মুখে নিকাব ব্যবহার:
■উম্মুল মু’মিনীন:
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: অনেক কাফেলা (হাজ্জের মওসুমে) আমাদের অতিক্রম করছিল। আর আমরা ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ-এর সাথে ছিলাম। তাঁরা (কাফেলা) আমাদের সম্মুখে এসে পড়লে আমরা মাথার কাপড় টেনে মুখ ঢাকতাম। আর তারা (কাফেলা) আমাদের সম্মুখ হতে দূরে সরে গেলে আমরা আমাদের মুখমণ্ডল খুলতাম।” [আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত ২৬৭০ নংঃ আলবানী হাদীসটিকে জাইয়িদ বলেছেন, তাহক্বীকৃকৃত মিশকাত ২৬৭০]
হাজ্জের ক্ষেত্রে সবার জন্য নিকাব ব্যবহার নিষিদ্ধ (সহীহুল বুখারী ১৮৩৮) হলেও নাবী -এর বিবিগণ পর-পুরুষের সামনে নিকাব ব্যবহার করতে বাধ্য ছিলেন।
■মু’মিন নারী:
ইবনু ‘আব্বাস বলেন: ফাজল নবী -সাঃ এর সাথে সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় খাসয়াম গোত্রের জনৈক মহিলা (কাফেলার কাছে) আসলেন। ফাজল তার দিকে এবং মহিলাও তার দিকে তাকাতে থাকলেন। নবী ফাজল-এর মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন।… এ ঘটনাটি ছিল বিদায় হাজ্জের সময়কার ঘটনা। [সহীহুল বুখারী- কিতাবুল মানাসিক]
অর্থাৎ এ ঘটনার অনেক পূর্বেই হিজাবের আয়াত নাযিল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা নাবীর বিবিদের পথ অনুসরণ করেননি। যদি তার মুখ ঢাকা থাকত, তাহলে তো নাবী ফাজল-এর মুখ ঘুরিয়ে দিতেন না। উল্লেখ্য, অন্য সাহাবীগণ ঘটনাটি এবং ঐ মহিলাকে দেখলেও নবী সাঃ তাদেরকে কিছুই বলেননি।
{১১} জিহাদের অংশগ্রহণ:
■উম্মুল মু’মিনীন:
আয়িশাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: নবী-সাঃ এর কাছে তাঁর স্ত্রীগণ জিহাদের অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি জবাবে বলেন, তোমাদের জিহান হচ্ছে হাজ্জ। (সহীহুল বুখারী কিতাবুল জিহাদ] আনাস বলেন, উহুদের যুদ্ধের সময়… আমি ‘আয়িশাহ্ ও উন্মু সুলায়ম কে দেখলাম। [সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম কিতাবুল জিহাদ]
ইবনু সা’দ তাঁর ‘তাবাকাতুল কুবরা’য় লিখেছেন: হিজাবের আয়াত ৫ হিজরীর যিলকদ মাসে নাযিল হয়। [রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা : ৩/৮৫]
অতঃপর নবীর বিবিগণ জিহাদে নবীর সঙ্গী হলেও যুদ্ধে শারীক হননি- [সহীহ মুসলিম জিহাদ ও সিরাত অধ্যায়] তখন তারা কেবল উটের হাওদার মধ্যেই থাকতেন- [সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম]
■মু’মিন নারী:
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: হুনায়নের (৮ম হিজরীর) যুদ্ধে উন্মু সুলায়ম একটি খঞ্জর সঙ্গে করে এনেছিলেন। আবু তালহাহ সেটি দেখেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল। উন্মু সুলায়ম-এর কাছে একটি খঞ্জর আছে। নাবী তাঁকে বললেন, এ খঞ্জরটা কোনো কাজে লাগাবে? উম্মু সুলায়ম জবাব দিলেন, আমি এটা এজন্য নিয়ে এসেছি যে, যদি মুশরিকদের কেউ আমার কাছাকাছি এসে যায়, তাহলে এ দিয়ে আমি তার পেট ফেঁড়ে ফেলব। এ কথায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। [সহীহ মুসলিম জিহাদ ও সিরাত অধ্যায়।]
হুনায়ন যুদ্ধ ৮ম হিজরীর শাওয়াল মাসে অর্থাৎ হিজাব ফারয হবার পরে সংঘটিত হয়েছিল। [রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩/১০৫ পৃ.]
এ সম্পর্কে (উম্মুল মু’মিনীনদের সাথে মু’মিন মহিলাদের কিছু পার্থক্য) বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন: রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩য় খণ্ড, মূল: ‘আবদুল হালিম আবূ শুককাহ্।
তাহক্বীক্ব, তাখরীজ ও ফিক্বহসহ মুওয়াত্ত্বা মালিক [দ্বিতীয় খণ্ড] (ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া সংকলিত) পৃষ্ঠা: ১২৭ – ১৩১
মূল: আবূ ‘আবদুল্লাহ মালিক ইবনু আনাস ইবনু মালিক ইবনু আবূ ‘আমির ইবনু ‘আমর ইবনুল হারিস আল আসবাহী আল মাদানী (রহিমাহুল্লাহ)
তাহক্বীক্ব ও তাখরীজ: শায়খ ‘আল্লামাহ্ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)
ফিক্বহ মাসায়িলসহ তাহক্বীক্ব ও তাখরীজ: শায়খ হাফিয যুবায়র ‘আলী যাঈ (রহিমাহুল্লাহ)
(প্রকাশনী: হাদীছ একাডেমী)
