মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজার ব্যাপারে শান্তিচুক্তি উত্থাপনের পরও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগের মতো এখনো বলে যাচ্ছেন যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তিনি হামলা বন্ধ করবেন না। ফলে হামাস বাইডেনের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করলেও যুদ্ধবিরতি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
এদিকে এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার আবারো চলমান প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে ইসরাইল ও হামাসকে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় বিরাজমান বিভ্রান্তি এতে দূর হয়নি। বাইডেন বলেছেন, ইসরাইলই এই প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি কেবল উত্থাপন করেছেন। কিন্তু তার উত্থাপনের পর নেতানিয়াহু এমনসব মন্তব্য করেছেন, যাতে মনে হতে পারে যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সাথে একমত নন।
বাইডেন ইসরাইল থেকে পাঠানো সাড়ে চার পাতার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এটি হামাসের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তবে অন্য কেউ এটি সরাসরি দেখেনি।
এমন প্রেক্ষাপটে অনেকেই জানতে চাচ্ছে, কেন নেতানিয়াহু এমন কাজ করছেন? অনেকে বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার পর গাজায় হামাসের ভূমিকা কী হবে, তার উল্লেখ নেই এই প্রস্তাবে। এর ব্যাখ্যা হামাস ও ইসরাইল নিজেদের মতো করে করতে পারে। এ নিয়েই নেতানিয়াহু দরকষাকষি করতে চাচ্ছেন।
এদিকে ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গাঞ্জ বাইডেনের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য যত দ্রুত সম্ভব বৈঠক আহ্বান করতে বলেছেন নেতানিয়াহুকে।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমদের মিত্র। দেশটি ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি এবং পণবন্দীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, পণবন্দীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইসরাইল দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, এ কারণে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে যত দ্রুত সম্ভব মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন করা উচিত।
বাইডেনের ঘোষিত নতুন প্রস্তাবে তিনটি পর্যায় বা ধাপের কথা বলা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়টি ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এ সময় যেসব কাজ হবে তার মধ্যে থাকবে : পূর্ণ ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি; গাজার সকল জনবহুল এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার; নারী, বয়স্ক ও আহত পণবন্দীদের মুক্তি এবং ইসরাইলি কারাগার থেকে কয়েক শ’ ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তিলাভ। গাজায় আটক আমেরিকান বন্দীদেরও এ সময় মুক্তি দেয়া হবে।
এছাড়া নিহত কয়েকজন বন্দীর মৃতদেহও তাদের স্বজনদের কাছে ফেরত দেয়া হবে।
ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকজন গাজার সব এলাকায় তাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারবে। উত্তর গাজাতেও তারা ফিরে যেতে পারবে।
প্রতিটি দিনে ৬০০ ট্রাকভর্তি সাহায্য গাজায় প্রবেশ করবে।
যুদ্ধবিরতির ফলে সাহায্য নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে অভাবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায কয়েক লাখ সাময়িক আশ্রয়, হাউজিং ইউনিটসহ প্রদান করবে।
এই ছয় সপ্তাহের বিরতির সময় ইসরাইল ও হামাস দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আলোচনা করবে। আর তা বৈরিতা স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা করবে। তবে আলোচকদের যদি ছয় সপ্তাহের বেশি সময় লাগে, তবে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এই সময়ের পরও অব্যাহত থাকবে। সকল চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার কাজ করে যাবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট সকল জীবিত পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে। এদের মধ্যে ইসরাইলের পুরুষ সৈন্যরাও থাকবে। ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করে নেবে। হামাস যত দিন তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে, তত দিন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল থাকবে। ফলে এই চুক্তিই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পরিণত হবে, বৈরিতার স্থায়ী অবসান হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে গাজায় বড় ধরনের পুনর্গঠন হবে। এই পর্যায়ে পণবন্দীদের মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের কারো মৃতদেহ গাজায় থেকে থাকলে তা ফেরত দেয়া হবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা এবং অন্যান্য
