Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররোজকার তাজা খবরনিরাপত্তা সংকটে পুলিশ সেবাদানেও গতি কম

নিরাপত্তা সংকটে পুলিশ সেবাদানেও গতি কম

“দুদিন আগে একজন থানায় এসেছেন চুরির বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে চোরের মুঠোফোনে কল দিলাম। ফোন ধরেই সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলল, ‘আপনি থানায় থাকেন, আমি আসতেছি।’”

পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন রূপনগর থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, যখন চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে তখন এমন বিষয়ও দেখতে হয়।

গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে কাজ করায় এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পুলিশ সদস্যরা। এসব সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা, কিছু সদস্যকে বদলি করার কারণে এখন থানায় জনবল অর্ধেকের মতো। কম্পিউটারসহ বিভিন্ন লজিস্টিক সাপোর্টের সংকটও প্রকট।

অন্যদিকে থানা কার্যক্রম সচল হওয়ায় বেড়েছে সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড়। তাই মন্থরগতিতে চলছে পুলিশি সেবা কার্যক্রম। গত সোমবার সরেজমিনে রাজধানীর রূপনগর থানায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

থানার ডিউটি অফিসার কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

যাঁরা চলে গেছে বা যাঁরা ক্ষমতায় আসতে পারছেন না এমন লোকজন সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পুলিশ সদস্যদের মেরে পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। এসব বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, থানার বাইরে টহলের তিনটি গাড়ি দাঁড়িয়ে। মূল ফটকে এখনো আনসার সদস্যদের নিরাপত্তাবেষ্টনী। ভবনের ভেতর পুলিশের উপস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তবে অভিযোগ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের দীর্ঘ লাইন।

জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ডিভাইস সংকটের কারণে অভিযোগ গ্রহণে হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রূপনগর থানার আশপাশে দুয়ারিপাড়ার ঘনবসতিসহ রয়েছে আরামবাগ ঝিলপাড়া বস্তি। স্বাভাবিকভাবেই এসব এলাকায় চুরি, দখল, মাদক কারবার, পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব বেশি, তাই অভিযোগের হারও বেশি। দুপুরে দেড় ঘণ্টায় এসব অভিযোগে অন্তত ১৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট লুট করা হয় থানার ৯টি কম্পিউটার ও ডাম্পিংয়ের মোটরবাইক। এ ছাড়া ভাঙচুর ও নষ্ট করা হয় সিসি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, যাঁরা ৫ আগস্টের আগে এখানে কর্তব্যরত ছিলেন তাঁদের সবাইকে ঢাকা মেট্রোপলিটন থেকে বাইরে বদলি করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করাও তাঁদের জন্য বেশ আতঙ্কের বিষয়। তাই বদলি করে তাঁদের এমন জায়গায় পাঠানো হবে, যেখানে সাধারণ জনগণ তাঁদের চিনবে না। 

থানার ওসি মোকাম্মেল হক বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অনেক লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ইকুইপমেন্ট খোয়া গেছে। এসব কারণে সেবাদান কিছুটা মন্থরগতিতে চলছে। এসব সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি আমাদের নতুন অফিসাররা যোগদান করলে বা জনবল শতভাগ হলে কাজের গতি বাড়বে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − twelve =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য