ইসরাইলি বাহিনীর ১০০ দিনের সামরিক অবরোধ-হামলায় উত্তর গাজায় প্রায় পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনার মধ্যেই হামলার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।
ইসরাইলের হমালায় শুধুমাত্র গতকালকেই ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র রোববার আল জাজিরাকে জানায়, অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে উত্তর গাজায় আরও সাড়ে ৯ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজা সরকারের তথ্য দপ্তর ইসরাইলি বাহিনীর অবরোধ-হামলাকে ‘জাতিগত নিধন, বাস্তুচ্যুতি এবং ধ্বংসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরাইলি বাহিনীর অবরোধ ওই অঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে জানান, উত্তর গাজা এখন এক ‘ভুতুড়ে এলাকা’। সেখানে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। কিছু মানুষ ওই অঞ্চল ছেড়ে না যাওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা দেখছি, গাজা উপত্যকার প্রতিটি স্থানে ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আপনি স্কুলে, আশ্রয়কেন্দ্রে, অস্থায়ী শিবিরে বা এমনকি হাসপাতালে থাকুন না কেন, তাতে কিছুই আসে যায় না।
উত্তর গাজার প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্র কামাল আদওয়ান হাসপাতাল গত ডিসেম্বরের শেষে ইসরাইলি বাহিনীর আগুনে পুড়ে যায়। এটি তাদের অবরোধেরই অংশ ছিল। এরমধ্যেই গ্রেপ্তার হন হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়া। তার অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। ইসরাইলি রাজনীতিকদের পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো উত্তর গাজায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজার ওপর ইসরাইলি অবরোধ থামার কোনো ইঙ্গিত এখনও দেখা যাচ্ছে না। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, ইসরাইল এ পর্যন্ত অন্তত ৪৬ হাজার ৫৮৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক লাখ ৯ হাজার ৭৩১ জন আহত হয়েছেন। আর গত এক দিনে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র : আল-জাজিরা।
