গাজার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই আশাবাদী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে।” তবে তার এই বক্তব্যে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত।
রবিবার (২৯ জুন) তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে। ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিয়োথ আহরোনোথ-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গোপন আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক ইসরায়েলি কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে।” এই বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানান, “গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে হামাস এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। দুই পক্ষের অবস্থানও অপরিবর্তিত।” তারা আরও বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য শুধুই রাজনৈতিক প্রচার; বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, “এই আশাবাদের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি আমরা পাইনি।” যদিও হোয়াইট হাউস জানায়, তারা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী যেখানে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি ও একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ উন্মুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রেক্ষাপটে।
তবে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় যে গোপন বন্দি বিনিময় আলোচনা চলছে, তা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই প্রক্রিয়া খুবই জটিল এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ছাড়া তা এগোবে না।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ-এর গোপন সফর নিয়ে যেসব খবর প্রকাশ পেয়েছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, “এ ধরনের কোনও সফরের পরিকল্পনা আমাদের জানা নেই।”
ইসরায়েলি একাধিক সূত্রের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো গত সপ্তাহে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত প্রশমনে নিজের ‘রাজনৈতিক সফলতা’ তুলে ধরার পর এবার গাজা ইস্যুতে নতুন করে একটি কূটনৈতিক অর্জন দেখাতে চাইছেন। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
