Tuesday, June 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরপ্রথম আলোর নিরপেক্ষতা

প্রথম আলোর নিরপেক্ষতা

আমার জানামতে প্রথম আলোর এরকম কোন এডিটোরিয়াল পলিসি নাই যেখানে ধর্ষকের নাম তারা উল্লেখ করবে না। ইতোমধ্যে অনেকের নজরেই বিষয়টি এসেছে যে প্রথম আলো নোয়াখালীর ধর্ষক শুভজিৎ মন্ডল কে নিয়ে করা রিপোর্টে সে ভিক্টিমের নাম উল্লেখ না করার পাশাপাশি ধর্ষকের নামও উল্লেখ না করেই পুরো রিপোর্টটি সম্পন্ন করে।

এখন প্রশ্ন হল প্রথম আলোর নিকট কি, ধর্ষক এবং ধর্ষিতা উভয়ের মান একই সমান কিংবা প্রথম আলো কি দুজনকেই ভিক্টিম মনে করছে ? সম্প্রতি মুরাদনগরের ধর্ষণ সংক্রান্ত খবর হতে করে অন্যকোন খবরে প্রথম আলো ধর্ষকের নাম নিয়ে কোন লুকোচাপা করে নি। কিন্ত নোয়াখালীর সুধারাম থানার এই কেসটির মূল অপরাধী একজন হিন্দু বলেই কি প্রথম আলোর এই লুকোচাপা !

এটা খুবই একটা সিরিয়াস প্রশ্ন। এখানে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেটাকে খুব সাধারণ ধর্ষণের ঘটনা মনে করলে ভুল হবে।

আমি বিভিন্ন পত্রিকা থেকে এই রিপোর্টের যে ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে তা থেকে এক এক করে এখানে কি কি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার একটা তালিকা তুলে ধরছি। যে তালিকা আপনাদের নিকট স্পষ্ট করবে যে নোয়াখালীতে ধর্ষক শুভজিৎ মন্ডল দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ অন্য দশটা ধর্ষণের মত নয় –

১.

অপহরণ: ধর্ষক শুভজিৎ মণ্ডল ভুক্তভোগী কিশোরীকে (১৭) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নোয়াখালীর মাইজদী থেকে ঢাকায় নিয়ে গেছে, যা অপহরণের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

২.

ধর্ষণ: ঢাকায় আবাসিক হোটেলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে, যা ফৌজদারি আইনে গুরুতর অপরাধ।

৩.

একাধিকবার ধর্ষণ: ধর্ষক শুভজিৎ মণ্ডল ২০ দিনের অবস্থানকালে ভুক্তভোগী নাবালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে, যা একটি পৃথক ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

৪.

নাবালিকাকে ধর্ষণ: ভুক্তভোগী নাবালিকা (১৭ বছর) হওয়ায় তার সঙ্গে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং একাধিকবার ধর্ষণ ও প্রেমের সম্পর্কের নামে প্রলোভন দেখানো নাবালিকার বিরুদ: ধর্ষক তার ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে এবং প্রেম ও বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলেছে, যা প্রতারণার অপরাধ হিসেবে গণ্য।

৫.

চুরি: ধর্ষক শুভজিৎ মণ্ডল ভুক্তভোগীর ঘরে থাকা আলমারী থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে, যা চুরির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত ।

৬.

প্রতারণা: ধর্ষক শুভজিৎ মণ্ডল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলেছে, যা প্রতারণার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

৭.

মানব পাচার: ধর্ষক শুভজিৎ মণ্ডল ভুক্তভোগীকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মোঃ সাব্বির নামে একজনের কাছে রেখে আসে, যিনি ভুক্তভোগীকে পতিতালয়ে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। এটি মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে গণ্য।

অর্থাৎ এখানে সাতটি স্বতন্ত্র ঘৃন্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।প্রত্যেকটি অপরাধের জন্যই শুভজিৎকে চলমান ব্যবস্থাতেই কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব। এমনকি তাজে একাধিকবার ফাঁসিতেও চড়ানোও সম্ভব। এখন প্রশ্ন হল এই সাতটি নৃশংস অপরাধ যে ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত হয়েছে সেই ব্যক্তির নাম প্রথম আলো একটি বারের জন্য তাদের রিপোর্টে কেন উল্লেখ করল না ? ধর্ষক একজন হিন্দু শুধুমাত্র এ কারণেই কি তার নাম উল্লেখ করা হয় নি ? সম্ভবত তাই। তাহলে কি আমরা বলব মুসলিম মেয়েদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীদের যে ষড়যন্ত্র চলমান সে ব্যাপারে প্রথম আলোরও হস্তক্ষেপ রয়েছে ? শুধুমাত্র এই একটি কারণকেই সামনে রেখে প্রথম আলোর গলা টিপে ধরা যায়। প্রথম আলো এখন পর্যন্ত মুরাদনগরের ঘটনা নিয়ে বিশের কাছাকাছি রিপোর্ট সম্পন্ন করে। এবং প্রত্যেকটি রিপোর্টেই তারা ধর্ষকের নাম পরিচয় সব স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। এক্ষেত্রে ভিক্টিম একজন হিন্দু তাই কি প্রথম আলো ১৮০ ডিগ্রী বিপরীতে স্থান নিল ! অর্থাৎ ভিক্টিম হিন্দু হলে এবং ধর্ষক পরিচয়ে মুসলিম হলে এক্ষেত্রে ধর্ষকের পরিচয় লুকানো হবে না। কিন্ত একইভাবে ভিক্টিম মুসলিম কিন্ত ধর্ষক একজন হিন্দু এক্ষেত্রে ভিক্টিম এবং ধর্ষক উভয়কেই সমানভাবে দেখতে হবে ! দুজনের পরিচয়ই হাইড করতে হবে । এই হল প্রথম আলোর মুসলিম বিদ্বেষী পলিসি । এই হল প্রথম আলোর প্রোফেশনালিজম !

দুদিন আগেও আসিফ নজরুল মনে হয় এক রকম বাধ্য হয়ে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের সমালোচনা করেন। কিন্ত সমালোচনার আগে ঠিকই এই দুটো পত্রিকার প্রশংসা গায়। এই দুটো পত্রিকারই নাকি কোড অফ কন্ডাক্ট আছে , আর এই হল সেই কোড অফ কন্ডাক্টের নমুনা ! যে একটি ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধের রিপোর্ট করতে গিয়ে নিজের প্রোফেশনালিজম ধরে রাখতে পারে না। স্পষ্টভাবে হিন্দুত্ববাদী আচরণ প্রকাশ পায়। এগুলো কি কোড অফ কন্ডাক্ট ?

এরপর র‍্যাবের বিবৃতি নিয়েও কথা বলা দরকার বলে মনে করছি। এবং র‍্যাব, প্রথম আলো সবাই যে একই নাটের গুরু তা র‍্যাবের বিবৃতি প্রমাণ করে। অর্থাৎ এগুলো সবাই হাসিনার সেক্যুলার মাফিয়া রিজিমের অংশ। যাদের দায়িত্ব হল মুসলিমদেরকে আগ্রাসী হিসেবে দেখানো আর হিন্দুত্ববাদীদেরকে নিরীহ , কিচ্ছু বুঝে না কিচ্ছু জানে না এরকম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

র‍্যাব যখন প্রেসে সাক্ষাৎকার দিল তখন স্পষ্টভাবে একাধিকবার বলে যে ধর্ষক প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার ধর্মপরিচয় লুকিয়ে রাখে (ভিডিও সংযুক্ত আছে)। এবার বিষয়টি ভেবে দেখুন , ধর্ষক যদি প্রথমেই পরিচয় দিত যে সে হিন্দু ধর্মের তাহলে হয়তবা ভিক্টিম প্রেমের সম্পর্কে এগোতই না। অর্থাৎ তাহলে অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভবনা আর থাকত না। কিন্ত ধর্ষক তার ধর্ম পরিচয় লুকিয়েছে মূলত ধর্ষণ এবং অন্যান্য ফৌজদারী অপরাধ সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে লুকোচাপার কিছু নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই র‍্যাব যখন মিডিয়ার সামনে সাক্ষাৎকার দেয় তখন তারা ধর্ম লুকিয়ে রাখার ব্যাপারটি স্বীকার করে কিন্ত আশ্চর্য হলেও সত্য র‍্যাব তার প্রকাশিত প্রেস নোটে যা তারা ফেইসবুকেও শেয়ার করে সেখানে ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখার ব্যাপারটি সম্পন্নভাবে এড়িয়ে যায়। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মের প্রভাবে সংগঠিত এক অপরাধকে স্বাভাবিক এবং সাধারণ একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্ত এই র‍্যাবকেই দেখবেন কোন মাইনোরিটি কোন হুজুর কিংবা দাড়ি টুপিওয়ালারা কারো দ্বারা কোনভাবে কোন আক্রান্ত হলে সেটাকে মৌলবাদী এবং উগ্রবাদী আচরণ হিসেবে প্রচার করতে বিন্দুমাত্র দেরি করত না। কিন্ত আশ্চর্য হলেও সত্যি তারা তাদের প্রেস নোটে স্পষ্টত ধর্ষকের ধর্ম লুকিয়ে প্রতারনা করার ব্যাপারটি এড়িয়ে যায়।

একই ধরনের প্রতিবেদন চ্যানেল 24-এও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ধর্ষক শুভজিৎকে ঘিরে করা রিপোর্টটি করেছেন সাংবাদিক সুমন ভৌমিক। রিপোর্টটিতে শুভজিতের ধর্মীয় পরিচয় গোপন থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই উপেক্ষার পেছনে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতি কতটা প্রভাব ফেলেছে?

যদি এমন হয় যে, সাংবাদিক হিসেবে তিনি তার নিজ ধর্মাবলম্বীর দ্বারা সংঘটিত একটি প্রতারণামূলক অপরাধ (ধর্ম লুকিয়ে ধর্ষণ) ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করেছেন, তাহলে তা পেশাগত নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে। এতে ভবিষ্যতে মুসলমানদের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনও অমুসলিম সাংবাদিকের করা প্রতিবেদন কতটা নিরপেক্ষ ও পেশাদার হবে, তা নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ থেকেই যায়।

এখন মূল প্রশ্ন হলো—মুসলিম নারীদের নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড কেন মূলধারার আলোচনায় উঠে আসে না? এর অন্যতম কারণ হলো হিন্দুত্ববাদী ও সেক্যুলার মাফিয়ার যৌথ আচরণ। শুভজিৎকে ঘিরে তাদের প্রকাশিত উপরের রিপোর্টগুলো প্রমাণ করে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রকে আড়াল করতে তারা নতুন এক ধরনের তথ্য-ষড়যন্ত্র তৈরি করেছে, যাতে মূল সত্য সামনে না আসে। অর্থাৎ ষড়যন্ত্র বুঝতে পারার আগেই যেন মুসলিমরা হেরে বসে । তাদের ঘরের নারীদের নিয়ে যে ষড়যন্ত্র পাকানো হয়েছে তা বুঝতে পারার আগেই যেন সম্মিলিত অপশক্তির কাছে আমাদের নারীদেরকে আমরা হারিয়ে বসি সেই ষড়যন্ত্র চলমান। এগুলোর বিরুদ্ধে সমূহ সব গ্রহনযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া এখনই জরুরী বলে মনে করি। প্রথম আলো, চ্যানেল 24 এবং র‍্যাব সকলকেই তথ্য লুকানোর ব্যাপারে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।

এই লেখাটির সাথে যা যা সংযুক্ত করা হয়েছে:

১. প্রথম আলোর রিপোর্টের স্ক্রীনশট।

২. র‍্যাবের প্রেস নোটের স্ক্রিন শট।

৩. র‍্যাবের প্রেসে রাখা ভিডিওর বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক অংশ (যা কমেন্ট বক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে)।

৪. অন্যান্য যেসব পত্রিকার রিপোর্টের সহায়তায় লেখাটি তৈরি করা হয়েছে তাদের রিপোর্টের স্ক্রিন শট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য