Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর১৬ মাস ধরে যে গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াতেন মা, সেখানেই মিলল জুলাই...

১৬ মাস ধরে যে গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াতেন মা, সেখানেই মিলল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সন্তানের কবর

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাজধানীর রায়ের বাজার কবরস্থানে গিয়ে নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে একটি গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন এক মা। নিয়মিতই তিনি সেখানে যেতেন। অবশেষে ১৬ মাস পর সেই গাছের নিচেই একটি কবরে মিলল ওই মায়ের সন্তানের লাশ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জুলাই বিপ্লবে নিখোঁজদের ডিএনএ সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কথাগুলো জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

তার ভাষায়, ‘একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

এদিকে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে নিখোঁজ যোদ্ধাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রমাণ করে, সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা দেয়। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ইতোমধ্যে নিজেদের স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন- সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।

কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − eight =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য