যিনি বন রক্ষা করবেন, তার বিরুদ্ধেই রয়েছে শত একর বনভূমি গ্রাসের গুরুতর অভিযোগ। ময়মনসিংহের ভালুকায় বনের জমি দখলকারী হিসেবে এক সময় যার নাম সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিল, সেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-এর সর্বোচ্চ আসনে বসেছেন। নিজের করা ‘অপকর্ম’ ঢাকা দিতেই কি তিনি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন?—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।
২০০৭ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রথম আলো’র বিশেষ প্রতিবেদন বলছে, ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ী মৌজার ১০১.৯৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে রেখেছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু যিনি ছিলেন সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ও পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।। বন বিভাগের পিলারের ওপর সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই জমি উদ্ধারে তৎকালীন সরকার হিমশিম খেয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছিল। কি বলছে প্রথম আলোর সে কলাম? দেখে নেয়া যাক সে বিষয়ে –
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত প্রধান তথ্যসমূহ:

দখলের পরিমাণ ও এলাকা: বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ী মৌজায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে ১০১ দশমিক ৯৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখলের অভিযোগ ছিল।
আইনি মামলা: এই জমি দখলকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিল, যা ওই সময় পর্যন্ত আদালতে বিচারাধীন ছিল।
তার দাবি বনাম বন বিভাগের অবস্থান: মিন্টু সাহেব তখন দাবি করেছিলেন যে, তিনি গত ৯ বছর ধরে ওই জমির খাজনা দিচ্ছেন এবং জেলা ফরেস্ট সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে বন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, সংরক্ষিত বনের পিলার উপড়ে রাতারাতি সীমানা প্রাচীর দিয়ে এই জমিগুলো দখল করা হয়েছে।
সার্বিক চিত্র: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভালুকা উপজেলার বন বিভাগের মোট ২৩ হাজার একর জমির মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে।
স্বার্থের চরম সংঘাত (Conflict of Interest):
বর্তমানে ২০২৬ সালে আবদুল আউয়াল মিন্টু সংসদ সদস্য (MP) এবং বন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক। যে মন্ত্রণালয় এক সময় তার বিরুদ্ধে মামলা লড়ছিল, এখন সেই মন্ত্রণালয়ই তার অধীনে। অর্থাৎ, নিজের দখল করা জমির ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন তার নিজের হাতেই।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেটিজেনদের করা প্রশ্নের কিছু অংশ –
১. মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কি সেই ১০১ একর বনভূমি সরকারকে ফেরত দিয়েছেন?
২. বন বিভাগের করা সেই পুরনো মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী? নাকি ক্ষমতার প্রভাবে সেগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে?
৩. তার কাছে দেশের জমি কি সত্যিই নিরাপদ?
– আমরিন আল ফারাবী
