Sunday, June 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবাংলাদেশ কি ঋণের ফাঁদে? মাইকেল হাডসনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ কি ঋণের ফাঁদে? মাইকেল হাডসনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

মাইকেল হাডসন (Michael Hudson) একজন বিশিষ্ট মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং ইতিহাসবিদ, যিনি বিশ্ব অর্থনীতি, ঋণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে তাঁর কঠোর ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি মিসৌরি-কানসাস সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের (UMKC) অর্থনীতির অধ্যাপক এবং লিভি ইকোনমিক্স ইনস্টিটিউটের একজন গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াল স্ট্রিটে আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

​মাইকেল হাডসনের অর্থনৈতিক দর্শনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে আর্থিক সাম্রাজ্যবাদ (Financial Imperialism) এবং রেন্টিয়ার ক্যাপিটালিজম (Rentier Capitalism)-এর সমালোচনা। তাঁর মতে, আধুনিক বিশ্বে পরাশক্তিগুলো সামরিক শক্তি দিয়ে দেশ দখল করার চেয়ে ‘ঋণ’ বা ফাইন্যান্সিয়াল ফাঁদ ব্যবহার করে অন্য দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ন্ত্রণ করতে বেশি পছন্দ করে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা প্রকৃত উৎপাদন বা শিল্পায়নকে এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে ঋণ ও সুদের মাধ্যমে সম্পদ একচেটিয়া করার নীতিতে বিশ্বাসী, যা সাধারণ মানুষকে ক্রমশ দরিদ্র করে তোলে। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘Super Imperialism: The Economic Strategy of American Empire’-এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনীতি এবং ডলারের আধিপত্যকে ব্যবহার করে অন্যান্য দেশের সম্পদ নিজেদের অনুকূলে নিয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার আড়ালের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, বিশ্বব্যাংক যখন কোনো উন্নয়নশীল দেশকে ঋণ দেয়, তখন শর্ত জুড়ে দেয় যেন সেই দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন (যেমন: ধান, গম ইত্যাদি) কমিয়ে দিয়ে রপ্তানিমুখী ফসল (যেমন: তুলা, রবার, চা, বা ক্যাশ ক্রপ) উৎপাদন করে। এর ফলে দেশগুলো নিজেদের মৌলিক খাদ্যের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলোর আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কোনো দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে তাকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করা কঠিন, তাই বিশ্বব্যাংক কাঠামোগতভাবেই এই স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিরোধিতা করে।

​এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ঋণের প্রধান শর্ত থাকে দেশের সরকারি খাতগুলোকে বেসরকারি করে দেওয়া (Privatization) এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিতে দেওয়া সরকারি ভর্তুকি বাতিল করা।

এই “কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি” বা Structural Adjustment Programs-এর ফলে স্থানীয় শিল্প ও কৃষকেরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বাজার উন্মুক্ত হয়ে যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন সব বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয় যা থেকে সহজে অর্থ ফেরত আসে না, যার ফলে দেশগুলো ঋণের সুদ শোধ করতে আবার নতুন করে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

একপর্যায়ে যখন তারা দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়, তখন বিশ্বব্যাংক সেই দেশের খনিজ সম্পদ, বন্দর, বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি সস্তা দরে বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করে।

উনি যা বলেছেন ১০০% সহমত। বাংলাদেশও কি সেই পথে না?

আমেরিকার সাথে বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তি: ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে “ইউএস-বাংলাদেশ রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট” স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আমেরিকা থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি (এলএনজি) এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষি পণ্য (গম, তুলা, সয়াবিন ও ভুট্টা) কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া বিমান বাংলাদেশের জন্য বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা নীতির সাথে সংগতি রাখা এবং সামরিক তথ্য আদান-প্রদান (GSOMIA) ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন (মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা ১১,৩৫১ কোটি ডলার)।
​দেশীয় মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।

​অর্থাৎ
সরকারি খাতের ঋণ: মোট ঋণের প্রায় ৮২ শতাংশই সরকারি খাতের, যার পরিমাণ ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। (এর মধ্যে সরাসরি সরকার নিয়েছে ৮০.৯৪ বিলিয়ন ডলার এবং বাকি ১২.৫২ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান)।
বেসরকারি খাতের ঋণ: মোট ঋণের বাকি অংশ বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নেওয়া, যার পরিমাণ ২০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
​মেয়াদ ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এই মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি এবং ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি ঋণ।

তাহলে হাডসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থা কি?
(এম. মোত্তাকিন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য