Wednesday, July 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াশিশু নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা ব্যবস্থায় নজরদারি ও জবাবদিহি জরুরী

শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা ব্যবস্থায় নজরদারি ও জবাবদিহি জরুরী

❝ওর সাথে কতবার করেছেন?❞

– তিনবার। কিন্তু ও যখন ব্যথা পাচ্ছিলো। ভয় পাচ্ছিলো। তখন আমি আর করিনি। ছেড়ে দিয়েছি।

বাম পাশের এই লেবাসধারী নুরানি চেহারার শিক্ষক এভাবেই ধরা খাওয়ার পর নিজের অপকর্মের স্বীকারোক্তি দিচ্ছিলো।

গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক মাওলানা মোস্তাক শিবচরের কুতুবপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাত্র এক মাস আগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়।

ভুক্তভোগী ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বড় হুজুরকে গিয়ে অভিযোগ জানায়। বড় হুজুর রেগে গিয়ে শিশুটিকে কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরে গতকাল সাত বছরের নিষ্পাপ এই ছাত্রটি যখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে সব বলে দেয়। তখন ওর অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব অকপটে স্বীকার করে।

এক মাস আগে এই লোক যেখানে শিক্ষকতা করতো সেখানে খোঁজ নিলে জানা যাবে এমন আরও কত নিরীহ, অসহায়দের করুণ কাহিনী। যাদের পরিবার আছে, তারা তো বাসায় ফিরে গিয়ে বলতে পারে। কিন্তু যারা এতিম অসহায়। এদের বলার কেউ নেই।

একই ঘটনা শনিবারে ঘটেছে লক্ষ্মীপুরে। পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসা প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ নিজ কক্ষে শনিবার রাতে ছাত্রকে বলাৎকার করেন। পরদিন ঐ ছাত্রও অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সব জানালে, গতরাতে আহাদও গ্রেফতার হয়।

হিফজ মাদ্রাসায় সমকামীতা, বলাৎকার ও টিকটক করা নিয়ে এত এত সমালোচনা গত চার পাঁচদিন ধরে চলছিলো। সভ্য আলেম সমাজের অনেকেই ব্যাপারটি নিয়ে অত্যন্ত লজ্জিত বলেছিলেন। কওমী মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকও এসব অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। চেয়েছেন সংস্কার।

আর অসভ্য আলেম সমাজের অনেক প্রতিনিধিই এটাকে ষড়যন্ত্র এবং একজনের জন্য পুরো সমাজকে দায়ী করতে নিষেধ করেছে। প্রেস কনফারেন্স ডেকেছে, সাংবাদিকরা যেন এসব না লিখে। কেউ কেউ আবার আল্টিমেটামও দিয়েছেন।

পুরো দেশ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় তখনও মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা এসব ঘৃণিত কর্মকান্ড অব্যহত আছে।

আজকে একটা কথা বলি। আমরা যখন এদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করি। তখনই একদল এসে তেড়ে বসে, আমাদের মুখ বন্ধ করতে চায়। বলে, স্কুল কলেজেও তো হয়! স্কুল কলেজ আর মাদ্রাসাকে একই পাল্লায় মাপতে চায়।

তাহলে শুনুন –

আমরা লেবাসধারীদের বেলায় এত কেন রেগে যাই?

কারণ হচ্ছে যারা ধর্ম প্রচারক হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে সমাজে অবদান রাখছেন। আমাদের ইসলাম ধর্মেও উনাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি আমাদের অকুন্ঠ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থাকে। আমরা স্বপ্নেও ভাবিনা যে, তাদের দ্বারা আমাদের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে।

এই বিশ্বাসটা কিন্তু স্কুল বা কলেজ শিক্ষকের প্রতি ঠিক ঐভাবে থাকে না। তাই এখানকার বাবা-মায়েরা অন্ধ বিশ্বাস লালন করে, নাকে তেল দিয়ে ঘুমান না৷ সচেতন থাকেন।

আপনি স্কুল কলেজে শিক্ষক দ্বারা ছাত্র বলাৎকারের ঘটনা বছরে এক দুইটার বেশী পাবেন না। ঘটে না বললেই চলে। অন্যদিকে প্রতি মাসেই অন্তত ১৫-২০ টার মতো মাদ্রাসায় বলাৎকারের ঘটনা আমরা দেখতে পাই। শুধুমাত্র সেটাই দেখতে পাই, যেটা প্রকাশ পায়। প্রকাশ না পাওয়া হাজার হাজার ঘটনা যা কখনও আমাদের সামনে আসেই না।

স্কুল-কলেজেও যৌন নির্যাতন হয়। সেটা ছাত্রদের সাথে নয়, ছাত্রীদের সাথে। শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীদেরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা পাবেন, হয়তো মাসে চার পাঁচটা।

তাই স্কুল কলেজের সাথে নিজেদের তুলনা টানাটা নিতান্তই বোকামি..জেনে শুনে এরকম ঘৃণিত অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।

আপনি একটাবার ভাবেন, যার পেছনে আপনি নামাজ পড়ছেন। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যাকে সম্মানিত করছেন। যে শিক্ষকের কাছে নিজে কিংবা সন্তানকে ধর্মীয় জ্ঞান শেখার জন্য পাঠাচ্ছেন। যে শিক্ষকের মুখে সূরা তিলওয়াত শুনে আপনার হৃদয় বিগলিত হয়। যে শিক্ষক কওমে লূত ধ্বংস হওয়ার ঘটনা জানে এবং এর বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয়।

সেই একই ধর্মীয় শিক্ষক যখন ছাত্র-ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। আপনি সেটা কীভাবে মেনে নিবেন? এই বিশ্বাসঘাতক আপনার বিশ্বাসকে তো ধুলায় মিশিয়ে দিলো।

ধর্ম অবমাননা কারী এই ব্যক্তির পাপকে আপনি ধর্ম ব্যবসায় লাল বাত্তি যেন না জ্বলে, সেই খাতিরে সাপোর্ট দিবেন? শেল্টার দিবেন? তাদের অপকর্ম আড়াল করবেন? সাংবাদিকদেরকে এসব প্রচার করতে নিষেধ করবেন? বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলবেন? স্কুল-কলেজের সাথে তুলনা দিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে লঘু করতে চাইবেন?

আপনার বিবেক নাই? আপনি দেখতে পাচ্ছেন না? মানুষের মন থেকে আলেমদের প্রতি সম্মান উঠে যাচ্ছে? আলেমরা এখন একটা ভালো কথা বললেও মানুষ বলাৎকারকে টেনে দু চার লাইন শুনিয়ে দিচ্ছে।

এরপরেও আপনারা এসব বন্ধে কোন ব্যবস্থা নিবেন না? মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য নানান ধরণের গালমন্দ আর ফতোয়া দিবেন?

আমি যদি আপনাদের দলীয় সর্বোচ্চ কোন প্রতিনিধি হতাম। পুরো দেশে কয়টি মাদ্রাসা রয়েছে। তাঁর আগে তালিকা করতাম। এই মাদ্রাসা চালানোর যোগ্যতা এদের আছে কীনা। কতজন শিক্ষার্থী হলে একটি মাদ্রাসার অনুমোদন পাবে। মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ার জন্য ঐ ব্যক্তির আদৌ যোগ্যতা আছে কীনা! কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা নির্ধারিত করতাম।

প্রতিটি মাদ্রাসায় প্রতিনিধি পাঠাতাম। কোন ধরণের সংকোচ ছাড়াই যাতে নির্ভয়ে প্রতিটি হিফজ মাদ্রাসায় ছাত্ররা বলতে পারে, তাদের উপর যৌন নির্যাতন কোন শিক্ষক-ছাত্র চালায় কীনা! এরপর ঐ অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে এমন ব্যবস্থা করতাম!

যাতে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার পরেও ঐ লোক আর জীবনে কখনও মসজিদ, মাদ্রাসায় নিয়োগ না পায়। তাকে আমি আমার ধর্মকে অবমাননা করার দ্বিতীয়বার সুযোগ আর দিতাম না।

আপনাদের মাথায় কেন এরকম কঠোর এবং সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা আসে না? কীসের ভয়? কীসের এত দূর্বলতা?

মানুষের ভেতরে থাকা ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া ঘৃণা, ভয়, আতঙ্ক দূর করার আপনারা উপযুক্ত ব্যবস্থা যদি না নেন, অপরাধীদেরকে এভাবেই পুষেন। লালনপালন করেন। তাহলে সেদিন বেশী দূরে নয় আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত হয়ে আপনারা যেই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। সেই ব্যবসায়ে লালবাত্তি জ্বলতে।

এখনও বলছি। সরকার এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলেমগণ ব্যবস্থা নেন। নিষ্পাপ এই শিশুদেরকে লেবাসধারী দৈত্য-দানব-নরপিশাচদের হাত থেকে রক্ষা করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য