নেপালের রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে নেপাল।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল মঙ্গলবার বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ‘বাস্তবিক অর্থেই নগণ্য’। অথচ যে জলবায়ু সংকট তৈরিতে দেশটির ভূমিকা খুবই সামান্য, সেই সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি নেপানকে বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কান্টিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, “আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোকে ‘সহায়তা’ থেকে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছি। এটি কোনো দয়া বা অনুদানের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়। চীন—বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় বৃহত্তম নিঃসরণকারী ভারত—এই বড় শিল্পোন্নত দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।”
ভারত প্রতি বছর আনুমানিক ৪৪০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নিঃসরণ করে। যা বৈশ্বিক বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৭.৩ থেকে ৮.৩ শতাংশ এবং দেশটিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশে পরিণত করেছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিঃসরণকারী দেশ, বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের প্রায় ২৯ থেকে ৩৩ শতাংশের জন্য দায়ী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির বার্ষিক নিঃসরণ প্রায় ৬২০ কোটি মেট্রিক টন, যা বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় ১২.৭ থেকে ১৫ শতাংশ।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
খানাল বলেন, “এই লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। আগামী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও স্পষ্টতার সঙ্গে এই বিষয়টি তুলে ধরব।”
তিনি আরও বলেন, “এটি সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়। আমাদের হিমালয়ের হিমবাহগুলো যদি বিলীন হয়ে যায়, তাহলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের পানির নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে পড়বে। আমরা শুধু নেপালের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও দাবি জানাচ্ছি।”
নেপাল এখন বিষয়টি সরাসরি জাতিসংঘে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহ ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন কি না। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক ভোতেকোশি বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের ওপর পড়া বিভিন্ন প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানাতে পারেন।
