ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সংঘটিত লড়াইয়ে উভয় পক্ষের যোদ্ধারা নিহত হন।
সউদী আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোরের মধ্যে তাদের অন্তত ৮৪ সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই হুথিদের রকেট হামলায় নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, চারটি হুথি সূত্র জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে উভয় পক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে, বিশেষ করে তায়েজ ও হোদেইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হয়েছে। এর আগে শনিবারের সংঘর্ষেই ২৬ সরকারি সেনা ও ৩১ হুথি যোদ্ধা নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন সামরিক ও চিকিৎসা সূত্র।
রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, হোদেইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হায়েস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে। এলাকাটি হোদেইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাছে অবস্থিত। সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধাকে আটকের দাবি করেছে।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় হুথিদের পশ্চিম তায়েজ ও দক্ষিণ হোদেইদামুখী বড় ধরনের অভিযানের পর। কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টার মধ্যেই সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। শুক্রবার সরকারি বাহিনী হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালায় বলে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
চলমান সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদেরও প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। শনিবার তায়েজে একটি বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত বাড়ার পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি ওই বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এরপর কয়েক বছর দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। তবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সউদী আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। বর্তমানে হুথিরা সানা ও দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্ররা দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তথ্যসূত্র: এএফপি
