বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কের তুর্কি হাউসে দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেন।
বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এরদোগান। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক, প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান এবং পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তবে বৈঠকের পর প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর বা সামরিক সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
সূত্র: তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দপ্তর ও আনাদোলু এজেন্সি।
