ভারতে ইসলামোফোবিয়া, ধর্মীয় বৈষম্য ও মুসলিমদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ১৫০ বছরের প্রাচীন একটি মসজিদ ধ্বংসের বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের পৃথিবীতে কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফ বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়ার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ঘটছে। মুসলিমরা ক্রমাগত ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্য ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে হামলা চালানো হচ্ছে এবং পবিত্র কুরআন অবমাননা করা হচ্ছে।
ভারতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ১৫০ বছরের প্রাচীন একটি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হিন্দুত্ববাদী আদর্শ ভারতে ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে। এর ফলে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উপাসনালয়ে হামলা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। যেকোনো ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণে কাশ্মীর ইস্যুও তুলে ধরেন শাহবাজ শরিফ। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দক্ষিণ এশিয়াকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়সোপযোগী মধ্যস্থতা’ ও ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ সে সময় দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। দক্ষিণ এশিয়া যেন ২০২৫ সালের মতো সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে আর কখনো না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কাশ্মীর সংকটের একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র : পাকিস্তানের সরকারি রেডিও
